কালীগঞ্জ উপজেলা মডেল মসজিদে কয়েক দিনের ব্যবধানে দুই দফা চুরি, নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ

ছবি: আগামীর সময়
মসজিদ ইবাদতের স্থান, যেখানে প্রতিদিন অসংখ্য মুসল্লি নামাজ আদায় করতে আসেন। অথচ গাজীপুরের কালীগঞ্জ উপজেলা মডেল মসজিদ ও ইসলামিক সাংস্কৃতিক কেন্দ্রই এখন চোরের টার্গেটে পরিণত হয়েছে। মাত্র কয়েক দিনের ব্যবধানে একই প্রতিষ্ঠানে দুই দফা চুরির ঘটনায় এলাকা জুড়ে উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে। শুধু চুরি নয়, দুর্বৃত্তরা ভবনের বিভিন্ন অংশে ভাঙচুর চালিয়ে অফিস কক্ষ তছনছ করেছে বলেও অভিযোগ উঠেছে। ফলে গুরুত্বপূর্ণ এ সরকারি ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়ে দেখা দিয়েছে নানা প্রশ্ন।
সোমবার (২৭ জুলাই) দুপুরে মডেল মসজিদের কেয়ারটেকার মো. আলমগীর হোসেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এটিএম কামরুল ইসলামের কাছে লিখিতভাবে পুরো বিষয়টি অবহিত করেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ইউএনও।
লিখিত অভিযোগে কেয়ারটেকার জানিয়েছেন, গত ১৪ জুলাই দায়িত্ব পালন শেষে তিনি মসজিদ ত্যাগ করেন। পরদিন সকালে এসে দেখতে পান, দুর্বৃত্তরা জেনারেটর কক্ষের পাশের অজুখানা ও বাথরুমের গ্রিলের ফাঁক দিয়ে ভবনের ভেতরে প্রবেশ করেছে। তখন তারা ১৯টি ট্যাপ এবং একটি ঝরনা খুলে নিয়ে গিয়েছে।
প্রথম ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই আবারও একই প্রতিষ্ঠানে হানা দেয় চোরচক্র। অভিযোগ অনুযায়ী, ২৫ জুলাই রাতে ডাইনিং কক্ষের সানশেডের টাইলস খুলে ভবনের ভেতরে প্রবেশ করে তারা। সেখান থেকে দুটি ট্যাপ ও দুটি বড় ফিটিংস (বিট) খুলে নিয়ে যায়। পরে দক্ষিণ পাশের গেটের তালা ভেঙে ভবনের বিভিন্ন অংশে প্রবেশ করে প্রথম থেকে তৃতীয়তলার ছাদ পর্যন্ত একাধিক অফিস কক্ষে তছনছ চালায়।
এতেই শেষ নয়, দুর্বৃত্তরা পাঁচটি বাথরুমের তালা ভেঙে ফেলে। পাশাপাশি ইমাম ও মুয়াজ্জিনের ব্যবহৃত বাথরুম থেকেও আরও ১৪টি ট্যাপ খুলে নিয়ে যায়।
ধারাবাহিক এসব ঘটনায় মসজিদের স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ আরও বেড়েছে। ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঠেকাতে দ্রুত তদন্ত, জড়িতদের শনাক্ত এবং মডেল মসজিদের নিরাপত্তা জোরদারে উপজেলা প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন কেয়ারটেকার মো. আলমগীর হোসেনসহ স্থানীয় মুসল্লিরা।
এ বিষয়ে কালীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জাকির হোসেন বলেছেন, ‘এ-সংক্রান্ত কোনো লিখিত অভিযোগ এখনো থানায় জমা পড়েনি। অভিযোগ পাওয়া গেলে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এটিএম কামরুল ইসলাম বলেছেন, ‘বিষয়টি আমাদের জানা রয়েছে। মডেল মসজিদের কেয়ারটেকার লিখিতভাবে জানিয়েছেন। প্রাথমিকভাবে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের দায়িত্বপ্রাপ্ত একজন কর্মকর্তার কিছু গাফিলতির বিষয় পরিলক্ষিত হয়েছে। বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
একটি গুরুত্বপূর্ণ সরকারি ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে অল্প সময়ের ব্যবধানে পরপর দুটি চুরির ঘটনায় ক্ষোভ ও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তাদের দাবি, দ্রুত তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত অপরাধীদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে হবে। পাশাপাশি ভবিষ্যতে যাতে এমন ঘটনা আর না ঘটে, সেজন্য মডেল মসজিদে কার্যকর ও স্থায়ী নিরাপত্তাব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে।




