‘আবেগ নিয়ে খেলেছে ফিফা’, মামলা করতে নোয়াখালীর থানায় তরুণ

ফিফার বিরুদ্ধে মামলা করতে নোয়াখালী থানায় যাওয়া মো. রাকিব।
কোটি মানুষের আবেগ নিয়ে খেলেছেন ফিফা সভাপতি ও রেফারি। পরিকল্পিতভাবে জালিয়াতি করে আর্জেন্টিনার সঙ্গে ম্যাচে হারিয়েছেন মিসরকে। এই অভিযোগ তুলে ফুটবলের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থা- ফিফার সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো এবং ফরাসি রেফারি ফ্রাঁসোয়া লেতেক্সিয়েরের বিরুদ্ধে নোয়াখালীর থানায় মামলা করতে গিয়েছেন এক তরুণ। দাবি করেছেন ৫ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণও। তাকে ফিরিয়ে দিয়েছে থানা পুলিশ।
গতকাল বুধবার রাত ৮টার দিকে সদর উপজেলার কালাদরাপ ইউনিয়নের মান্দারতলী গ্রামের মো. রাকিব (২২) সুধারাম থানায় ওই অভিযোগ নিয়ে যান। নিজেকে একজন সাধারণ ও আইন মান্যকারী ফুটবল সমর্থক দাবি করেছেন তিনি। বিবাদীদের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক আইনের আওতায় চেয়েছেন শাস্তি। ফিফার সভাপতি ও ম্যাচ রেফারি ছাড়াও অভিযুক্ত করেছেন ১৫ থেকে ২০ জনকে।
লিখিত অভিযোগে রাকিব উল্লেখ করেন, গত মঙ্গলবার রাতে তিনি ও এলাকার অনেকে স্থানীয় করমুল্যা বাজারে বসে টিভিতে বিশ্বকাপ ফুটবলের ম্যাচ দেখছিলেন। মিসর বনাম আর্জেন্টিনার ওই ম্যাচে শুরু থেকেই রেফারি ও ফিফা সভাপতি ‘সুপরিকল্পিতভাবে একটি নির্দিষ্ট দলকে সুবিধা দেওয়ার লক্ষ্যে নানামুখী প্রতারণা ও পক্ষপাতমূলক আচরণের আশ্রয় নেন’।
রাকিবের দাবি, ‘ম্যাচের মাত্র ১৪ মিনিটে মিসর একটি দর্শনীয় গোল করে এগিয়ে যাওয়ার পরপরই রেফারি ফ্রাঁসোয়া লেতেক্সিয়েরে ফিফা সভাপতির প্ররোচণায় ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন। এর ঠিক ৫ মিনিটের মাথায় তিনি আর্জেন্টিনাকে সম্পূর্ণ অন্যায্য একটি পেনাল্টি উপহার দিয়ে খেলায় সমতা আনেন। পরবর্তীতে ম্যাচের ২৫তম মিনিটে মিসর দলের আরেকটি বৈধ গোল রেফারি প্রথমে মেনে নিলেও, মাত্র ৩ মিনিটের মাথায় রহস্যজনক কারণে তা বাতিল ঘোষণা করেন, যা কোটি কোটি মিসর সমর্থকের হৃদয় ভেঙে দেয়।’
‘ম্যাচের শেষভাগে মিসরীয় ফুটবলাররা পুনরায় গোল করার চেষ্টা করলে রেফারি উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে তাদের খেলোয়াড়দের একের পর এক হলুদ কার্ড এবং মিসরের প্রধান কোচকে অন্যায়ভাবে লাল কার্ড প্রদর্শন করে হয়রানি করেন। এতে মিসর দলের খেলোয়াড়দের মানসিক মনোবল ভেঙে পড়ে এবং আর্জেন্টিনার জন্য ম্যাচ জয়ের পথ সুগম করে দেওয়া হয়’- বলা আছে অভিযোগে।
রাকিব মনে করেন, ‘ফিফা কর্তৃপক্ষের চরম পক্ষপাতিত্ব এবং রেফারিংয়ের নামে জালিয়াতির কারণে তিনি ও বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে থাকা কোটি কোটি মিসর সমর্থক চরম হতাশা ও মানসিক যন্ত্রণার সম্মুখীন হয়েছেন। এই মানসিক আঘাতের কারণে অনেক সমর্থকের সামাজিক ও মানসিক বিপর্যয় ঘটার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। আর এই অপূরণীয় ক্ষতির কারণেই ফিফা থেকে ৫ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ আদায় করা এবং আন্তর্জাতিক আইনের আওতায় বিবাদীদের বিচারের মুখোমুখি করা অত্যন্ত জরুরি।’
সুধারাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ কামরুল ইসলাম বললেন, ‘এই অভিযোগ আমাদের নেওয়ার সুযোগ নেই। ওই ছেলেকে বুঝিয়ে বলা হলে তিনি অভিযোগ নিয়ে চলে যান। তাকে বলেছি আন্তর্জাতিক আদালতে বা ক্রীড়া সংশ্লিষ্ট সংস্থায় যেতে পারেন।’
তবে রাকিব জানালেন, এখানেই থামবেন না। আদালত পর্যন্ত নিয়ে যাবেন তার অভিযোগ। প্রয়োজনে করবেন মানববন্ধনসহ অন্যান্য প্রতিবাদ কর্মসূচি।




