রূপগঞ্জে ‘নিম্নমানের ও নকল’ ফ্যানের রমরমা ব্যবসা, প্রতারিত হচ্ছেন ক্রেতারা

ফাইল ছবি
নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে প্রচণ্ড গরমের সুযোগ নিয়ে একশ্রেণির অসাধু ব্যবসায়ী ও অতি মুনাফালোভী চক্রের দৌরাত্ম্য আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে। বাজারে কম দামে নিম্নমানের সিলিং, টেবিল ও চার্জার ফ্যান বিক্রি করে সাধারণ ক্রেতাদের সঙ্গে প্রতিনিয়ত প্রতারণা করা হচ্ছে।
গ্রাহকরা বলছেন, আকর্ষণীয় মোড়কে বাজারজাত করা এসব ফ্যানে অ্যালুমিনিয়ামের বদলে পাতলা শিট ব্যবহার এবং তামার বদলে অ্যালুমিনিয়ামের কয়েল দেওয়া হচ্ছে। যা অত্যন্ত দ্রুত নষ্ট হয়ে যায়। যেকোনো সময় আগুন লাগার ঝুঁকি তৈরি করছে।
উপজেলায় চলমান প্রচণ্ড গরমকে কেন্দ্র করে বাজারে বিভিন্ন ধরনের কমদামি ও নিম্নমানের বৈদ্যুতিক এবং চার্জার ফ্যানের বিক্রি বহু গুণ বেড়েছে। বিভিন্ন নামিদামি কোম্পানির নাম হুবহু নকল করে এসব ইলেকট্রনিকস পণ্য দেদার বিক্রি করছে অসাধু চক্র।
অনেক কোম্পানি ৫ থেকে ১০ বছরের গ্যারান্টি দিয়ে ফ্যান বিক্রি করলেও অনুসন্ধানে দেখা গেছে। খোদ ওইসব ফ্যান ফ্যাক্টরিগুলোরই কোনো অস্তিত্ব বা গ্যারান্টি নেই।
বাজার ঘুরে দেখা গেছে, গত বছর যে ফ্যানগুলো ১ হাজার ৫০০ থেকে ২ হাজার টাকায় বিক্রি হয়েছে। চলমান গরমে অতি মুনাফালোভী ব্যবসায়ীরা তা সিন্ডিকেট করে দ্বিগুণ দামে বিক্রি করছে। এসব ফ্যানের কার্টন বা বক্সে বিএসটিআই কিংবা পাকিস্তানিসহ বিভিন্ন দেশের ভুয়া সিল ও লোগো মারা থাকে। প্রতিবছর অসাধু কোম্পানিগুলোর যোগসাজশে অতি মুনাফা লাভের উদ্দেশে এই জালিয়াতি করা হয়।
সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে, রূপগঞ্জ উপজেলার রূপসী, বরপা, তারাবো, কর্ণগোপ, ভূলতা, গাউছিয়া, কাঞ্চন, মুড়াপাড়া, হাটাবো, পূর্বগ্রামসহ বিভিন্ন এলাকার ছোট-বড় বাজারে এসব নিম্নমানের ও নকল ফ্যান প্রকাশ্যে বিক্রি করা হচ্ছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, অধিক লাভের আশায় কিছু অসাধু ব্যবসায়ী নামমাত্র মূল্যে এসব নিম্নমানের ফ্যান এনে বাজারে ছাড়ছে। বাহ্যিকভাবে দেখতে আকর্ষণীয় ও চকচকে হওয়ায় সাধারণ ক্রেতারা সহজেই প্রলুব্ধ হচ্ছেন। অথচ অধিকাংশ ফ্যানই কয়েক দিন ব্যবহারের মধ্যে বিকল হয়ে যাচ্ছে। ফলে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত ক্রেতারা আর্থিকভাবে চরম ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।
বাজারে আসল ব্র্যান্ডের আড়ালে যেসব বেনামি ও নকল বৈদ্যুতিক এবং চার্জিং ফ্যান বিক্রি হচ্ছে। তার মধ্যে রয়েছে সুপারস্টার, বিআরবি, ওয়ালটন, সুপার মাস্টার, পাকিস্তানি, কাশ্মীর, সিলিকা, এ ওয়ান, টিভিএস, ডিফেন্ডার, বি আর ডি, সনি ও প্যানাসনিকসহ বিভিন্ন নামসর্বস্ব ব্র্যান্ড।
পচণ্ড গরমে পণ্যের মান যাচাই না করেই অনেকে তাড়াহুড়ো করে ফ্যান কিনতে গিয়ে প্রতারিত হচ্ছেন। পরে দেখা যাচ্ছে ফ্যানের ব্যাটারি, মোটর কিংবা চার্জিং ব্যবস্থায় বড় ধরনের ত্রুটি রয়েছে।
বরপা এলাকার ভুক্তভোগী ক্রেতা আমিনুল বললেন, ‘আমরা খেটে খাওয়া মানুষ। তিন মাস আগে ‘ডিফেন্ডার’ নামের একটি চার্জার ফ্যান ৪ হাজার টাকা দিয়ে কিনেছিলাম। এখন সেই ফ্যান ঠিকমতো চার্জ নিচ্ছে না।’
পাড়াগাঁও এলাকার সবজি বিক্রেতা নাজমুল ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেছেন, ‘আমি এক বছর আগে ‘বি আর ডি’ কোম্পানির একটি ফ্যান কিনেছিলাম। দোকানদার ফ্যানটির পাঁচ বছরের গ্যারান্টি দিয়েছিল। এখন ফ্যান নষ্ট হওয়ার পর বাজারে এসে শুনি সেই কোম্পানিই নাকি নাই।’
এদিকে ভূলতা গাউছিয়া এলাকার বিসমিল্লাহ ইলেকট্রনিকসের দোকানদার খাইরুল ইসলাম জানালেন, ক্রেতারা কম দামে মাল কিনতে চায়, তাই কমদামি ফ্যানের চাহিদাই বাজারে বেশি। তবে হুবহু নকল ফ্যান বা মাল বিক্রি করার অভিযোগ তিনি অস্বীকার করেছেন।
এ বিষয়ে রূপগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সালাউদ্দিন বললেন, ‘আমরা এ ধরনের অপকর্ম ও জালিয়াতির খবর জানতে পেরেছি। সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’




