৮ ঘণ্টা অবরুদ্ধ প্রধান শিক্ষিকাকে উদ্ধারে ইউএনও-ওসি

কুষ্টিয়ার খোকসা উপজেলার জানিপুর মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি পদের সুপারিশের তালিকা থেকে নাম বাদ পড়াকে কেন্দ্র করে প্রধান শিক্ষিকা সালমা খাতুনকে প্রায় আট ঘণ্টা তার কক্ষে অবরুদ্ধ করে রাখার অভিযোগ উঠেছে।
গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে এ ঘটনা ঘটে। পরে সন্ধ্যা ৭টার দিকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) খালিদ বিন মনসুর ও খোকসা থানার ওসি জাহেদুর রহমানের হস্তক্ষেপে তিনি অবরুদ্ধ অবস্থা থেকে মুক্ত হন।
উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে আগামী রবিবার সভাপতি পদের চার আবেদনকারী ও স্থানীয় বিএনপি নেতাদের নিয়ে আলোচনার মাধ্যমে বিষয়টি সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
বিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি পদের জন্য প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তির বিপরীতে চারজন আবেদন করেন। তাদের মধ্যে তিনজনের নাম সুপারিশ করে ইউএনওর কাছে পাঠানো হয়। তালিকা থেকে মুস্তাফিজুর রহমান মোস্তাকের নাম বাদ পড়ায় ক্ষুব্ধ হন তিনি। গতকাল সকাল সাড়ে ১০টার দিকে তিনি প্রধান শিক্ষিকার কক্ষে অবস্থান নেন। প্রধান শিক্ষিকা সালমা খাতুনের ভাষ্য, ‘মুস্তাফিজুর রহমান মোস্তাক আমাকে কক্ষে অবরুদ্ধ করে রাখেন। বিষয়টি আমি ইউএনওকে জানাই।’ সভাপতি পদের জন্য চারটি আবেদন জমা পড়ে।
প্রধান শিক্ষিকা বললেন, যশোর শিক্ষা বোর্ড থেকে তিনজনের নাম পাঠানোর কথা বলা হয়েছিল। সে অনুযায়ী তিনি ইউএনওর কাছে তিনজনের নাম জমা দিয়েছেন। তালিকা থেকে বাদ পড়া মুস্তাফিজুর রহমান মোস্তাক অভিযোগ করেছেন, তিনি সভাপতি পদের জন্য আবেদন জমা দিয়েছিলেন। কিন্তু প্রধান শিক্ষিকা তার সঙ্গে কোনো আলোচনা না করে গোপনে তিনজনের নাম সুপারিশ করে ইউএনও ও জেলা প্রশাসকের কাছে পাঠিয়েছেন।
পরে ইউএনও খালিদ বিন মনসুর ও খোকসা থানার ওসি জাহেদুর রহমান সন্ধ্যা ৬টার দিকে ঘটনাস্থলে যান। তারা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে আলোচনা করেন।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা খালিদ বিন মনসুর বললেন, আগামী রবিবার যারা আবেদন করেছেন, তাদের সঙ্গে বসার জন্য প্রধান শিক্ষিকাকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।



