লাগছে দ্বিগুণ সময় বাড়ছে ভোগান্তিও
- প্রকল্পটি সম্পূর্ণ বাস্তবায়নে আরও তিন থেকে চার বছর লাগতে পারে

ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে দীর্ঘ যানজট
একসময় ঢাকা থেকে সিলেট যেতে সময় লাগত ছয় ঘণ্টার মতো। এখন একই পথ পাড়ি দিতে স্বাভাবিক অবস্থাতেই লেগে যাচ্ছে ১০-১১ ঘণ্টা। বৃষ্টি, দুর্ঘটনা কিংবা অতিরিক্ত যানজট হলে সেই সময় বেড়ে দাঁড়ায় ১২-১৪ ঘণ্টায়। দেশের অন্যতম ব্যস্ত এ মহাসড়কে প্রতিদিন লাখো মানুষ চলাচল করলেও দুর্ভোগ যেন আরও দীর্ঘ হচ্ছে দিন দিন। কারণ, ছয় লেন প্রকল্প বাস্তবায়নের গতি প্রত্যাশার তুলনায় অনেক ধীর।
প্রকল্পের তথ্যমতে, ২০২১ সালের ফেব্রুয়ারিতে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) অনুমোদন পাওয়া ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক ছয় লেন উন্নয়ন প্রকল্প শেষ হওয়ার কথা চলতি বছরের ডিসেম্বরের মধ্যে; কিন্তু মাঠপর্যায়ের বাস্তবতা বলছে, নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে কাজ শেষ হওয়ার সম্ভাবনা কম। প্রায় ১৭ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ের এ প্রকল্পে নারায়ণগঞ্জের কাঁচপুর থেকে সিলেট পর্যন্ত প্রায় ২০৯ কিলোমিটার মহাসড়ক ছয় লেনে উন্নীত করা হচ্ছে। পাশাপাশি দুই পাশে সার্ভিস লেন, ৬৬টি সেতু এবং ৩০৫টি কালভার্ট নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। প্রকল্পে অর্থায়ন করছে বাংলাদেশ সরকার ও এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি)।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ধারণা, প্রকল্পটি সম্পূর্ণ বাস্তবায়নে আরও অন্তত তিন থেকে চার বছর সময় লাগতে পারে। বিভিন্ন সূত্রে অগ্রগতির হার নিয়ে ভিন্ন তথ্য পাওয়া যাচ্ছে। কোথাও ১৫-২০, কোথাও ৩০-৩৫ শতাংশ অগ্রগতির কথা বলা হলেও প্রকল্প-সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা স্বীকার করেছেন, কাজ এখনো নির্ধারিত সূচির তুলনায় অনেক পিছিয়ে।
ঢাকা-সিলেট ছয় লেন প্রকল্পের সিলেট অংশের ডেপুটি প্রজেক্ট ম্যানেজার সিফাত আহমদের ভাষ্য, ‘এখন পর্যন্ত কাজ শেষ হয়েছে ১৫-১৬ শতাংশ। ভূমি অধিগ্রহণ জটিলতার কারণে পিছিয়েছে কাজ। তবে পরিস্থিতির উন্নতি হচ্ছে। এখন কাজ দ্রুত এগিয়ে নেওয়ার চেষ্টা চলছে।’
এই ধীরগতির পেছনে রয়েছে একাধিক কাঠামোগত ও প্রশাসনিক জটিলতা। প্রকল্পের শুরু থেকেই নকশাগত পরিবর্তন, জমি অধিগ্রহণে দীর্ঘসূত্রতা, ইউটিলিটি স্থানান্তরে দেরি এবং বিভিন্ন সরকারি সংস্থার সমন্বয়হীনতা বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে নির্মাণকাজে। বিশেষ করে সিলেট অঞ্চলের বহু স্থানে এখনো জমি পুরোপুরি অধিগ্রহণ না হওয়ায় পূর্ণমাত্রায় কাজ শুরু করা যায়নি। গ্যাস, বিদ্যুৎ ও অন্যান্য সেবার লাইন স্থানান্তর না হওয়ায় অনেক এলাকায় কাজই শুরু করতে পারছেন না ঠিকাদাররা। এর সরাসরি প্রভাব পড়ছে মহাসড়কে চলাচলকারী মানুষের ওপর। মহাসড়কের বিভিন্ন স্থানে একপাশ বন্ধ রেখে নির্মাণকাজ চলায় প্রতিদিনই সৃষ্টি হচ্ছে দীর্ঘ যানজট। যানজটের এ চিত্র সবচেয়ে বেশি অনুভব করেন নিয়মিত যাত্রীরা।
শুধু নির্মাণমান নয়, জমি অধিগ্রহণ নিয়েও রয়েছে অভিযোগ। জমির প্রকৃত মালিক এখনো পাননি ক্ষতিপূরণ। আবার ভুয়া স্থাপনা দেখিয়ে সরকারি অর্থ আত্মসাতের চেষ্টার অভিযোগও রয়েছে। এসব কারণে অনেক এলাকায় কাজ শুরুই করা সম্ভব হয়নি। প্রকল্প বাস্তবায়নে সবচেয়ে বড় বাধাগুলোর একটি হয়ে উঠেছে জমি অধিগ্রহণ প্রক্রিয়া।
তবে প্রকল্প বাস্তবায়নকারী সংস্থার বক্তব্য ভিন্ন। সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগ সিলেটের নির্বাহী প্রকৌশলী আমির হোসেন জানিয়েছেন, ‘মহাসড়কটি সম্পূর্ণ নতুনভাবে নির্মাণ হচ্ছে। পুরনো সড়কে বড় ধরনের সংস্কার করা হচ্ছে না। যান চলাচল সচল রাখতে যতটুকু প্রয়োজন, ততটুকুই করা হচ্ছে। জমি অধিগ্রহণ ও ইউটিলিটি স্থানান্তরের জটিলতা ধীরে ধীরে কাটছে। জমি বুঝে পাওয়া সাপেক্ষে কাজের গতি আরও বাড়ানো হবে।’




