ধর্ম অবমাননার অভিযোগ, তাহিরপুরে পুলিশ হেফাজতে যুবক

সংগৃহীত ছবি
সুনামগঞ্জের তাহিরপুরে ফেসবুকে মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) কে নিয়ে অবমাননাকর মন্তব্যের অভিযোগে এক হিন্দু যুবককে হেফাজতে নিয়েছে পুলিশ। তবে অভিযুক্ত যুবকের দাবি, পারিবারিক জমিজমা নিয়ে বিরোধের জেরে তাকে ফাঁসানোর চেষ্টা করা হচ্ছে।
এ ঘটনায় আইনি সুরক্ষা চেয়ে তিনি থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন। এদিকে ঘটনাকে কেন্দ্র করে যাতে কোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি না হয়, সে জন্য গ্রামটিতে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
আজ সোমবার দুপুরে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য কৃপেশ রায় নামে ওই যুবককে হেফাজতে নেওয়ার কথা জানায় পুলিশ।
পুলিশ আরও জানিয়েছে, কৃপেশ রায় বাংলাদেশ পুলিশের একজন সদস্য হলেও বর্তমানে কর্মস্থলে অনুপস্থিত রয়েছেন।
স্থানীয় এলাকাবাসী ও মুসল্লিদের সূত্রে জানা যায়, গত ২৫ অক্টোবর Kripash Ray নামে একটি ফেসবুক আইডি থেকে মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) কে নিয়ে অবমাননাকর ও কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য সংবলিত একটি পোস্ট দেওয়া হয়। বিষয়টি ছড়িয়ে পড়ার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়। একপর্যায়ে স্থানীয় মুসল্লি ও এলাকাবাসীর মধ্যে ক্ষোভ দেখা দেয়।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে কৃপেশ রায়ের এক প্রতিবেশী বলেন, কৃপেশ পুলিশে চাকরি করতেন। ছয় মাস ধরে তাকে বাড়িতে থাকতে দেখছি। তিনি চাকরি ছেড়ে দিয়েছেন কি না, তা জানি না।
অন্যদিকে, অভিযোগ অস্বীকার করে কৃপেশ রায় দাবি করেছেন, তার আপন চাচাতো ভাই পন্টি রায়ের সঙ্গে পারিবারিক জমিজমা নিয়ে বিরোধ রয়েছে। বিরোধের জেরে তাকে ফাঁসানোর উদ্দেশ্যে তার ফেসবুক আইডি ব্যবহার করে অথবা ভুয়া পোস্টের মাধ্যমে এ ধরনের মন্তব্য ছড়ানো হয়েছে।
তাহিরপুর থানার ওসি ফারুক আহমেদ বলেন, কৃপেশ রায় পুলিশের একজন সদস্য। তিনি বর্তমানে কর্মস্থলে (গরহাজির) অনুপস্থিত রয়েছেন। তাকে ফাঁসানোর জন্য একটি চক্র এ ধরনের কর্মকাণ্ড চালাচ্ছে বলে তিনি দাবি করেছেন। এ বিষয়ে সোমবার সকালে তিনি থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেছেন।
জিজ্ঞাসাবাদের জন্য কৃপেশ রায়কে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। বিষয়টি অত্যন্ত সংবেদনশীল হওয়ায় এলাকায় যাতে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি বা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি না হয়, সে জন্য রাজারগাঁও গ্রামে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে বলে জানালেন পুলিশের এই কর্মকর্তা।




