এসএসসিতে শূন্য পাস, ছুটির আগেই তালাবদ্ধ স্কুল

ডিএন একতা বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়
২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষায় বাগেরহাটের শরণখোলা উপজেলার ডিএন একতা বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে অংশ নেওয়া চার পরীক্ষার্থীর কেউই পাস করতে পারেনি। ফলে দেশের শতভাগ অকৃতকার্য ৩১২টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের তালিকায় নাম উঠেছে বিদ্যালয়টির।
ফল প্রকাশের পর বিদ্যালয়ের পাঠদানের মান, শিক্ষা কার্যক্রম ও সার্বিক ব্যবস্থাপনা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। আজ সরেজমিন গিয়ে চোখে পড়েছে অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনার নানা চিত্র।
গতকাল মঙ্গলবার বেলা ৩টার দিকে বিদ্যালয়ে গিয়ে মূল টিনশেড ভবন ও অ্যাকাডেমিক ভবন দুটিতেই তালা ঝুলতে দেখা যায়। স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, দুপুর ১টার মধ্যেই শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের ছুটি দিয়ে দেওয়া হয়।
বিদ্যালয়ের একটি খোলা কক্ষে টেবিলের ওপর জীর্ণ ও ছেঁড়া অবস্থায় জাতীয় পতাকা পড়ে থাকতে দেখা যায়। পতাকার লাল বৃত্তের রঙও অনেকটা ফিকে হয়ে গেছে। বিভিন্ন কক্ষে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রয়েছে নির্মাণসামগ্রী ও ময়লা-আবর্জনা। ভাঙাচোরা অবস্থায় পড়ে আছে অনেক শ্রেণিকক্ষের ব্ল্যাকবোর্ড ও আসবাবপত্রও।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন অভিভাবক ও স্থানীয় বাসিন্দা অভিযোগ করেন, সরকারি নিয়ম অনুযায়ী নির্ধারিত সময় পর্যন্ত বিদ্যালয়ে পাঠদান করার কথা থাকলেও এখানে তা নিয়মিত মানা হয় না।
তাদের দাবি, অধিকাংশ দিন সকাল ৯টার দিকে বিদ্যালয়ের কার্যক্রম শুরু হলেও দুপুর ১টা থেকে ২টার মধ্যেই পাঠদান শেষ করে দেওয়া হয়।
স্থানীয়দের অভিযোগ, মঙ্গলবারও আফরোজা আক্তার নামে এক সহকারী শিক্ষিকাকে বেলা ১১টার দিকে বিদ্যালয় থেকে বের হয়ে বাড়ির উদ্দেশে যেতে দেখা যায়। পরে এসএসসি পরীক্ষার ফলাফল সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি হালনাগাদ তথ্য দিতে পারেননি। এমনকি ভুল তথ্যও দিয়েছেন বলে আছে অভিযোগ।
বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের বক্তব্য জানতে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।
বিদ্যালয়ে নির্ধারিত সময়ের আগে ছুটি দেওয়ার বিষয়ে শরণখোলা উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ধনঞ্জয় মণ্ডল জানিয়েছেন, সাবেক ইউএনও মোহাম্মদ জাহিদ হাসান বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি থাকাকালে সাময়িকভাবে সকাল ৯টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত পাঠদানের মৌখিক অনুমতি দিয়েছিলেন।





