বিয়ের ১০ দিনের মাথায় সড়কে প্রাণ গেল সৌদি প্রবাসীর

নিহত ইয়ামিন মিয়া
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় বালুবাহী ট্রাকের ধাক্কায় ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার যাত্রী সৌদি প্রবাসী ইয়ামিন মিয়া (৩০) নিহত হয়েছেন। দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হয়েছেন তার নববধূ সুমা আক্তার (১৮)।
গতকাল সোমবার সন্ধ্যা ৬টার দিকে দুর্ঘটনাটি ঘটে কুমিল্লা-সিলেট মহাসড়কের ভাদুঘর হুজুরবাড়ি এলাকায়।
নিহত ইয়ামিন মিয়া সদর উপজেলার রামরাইল ইউনিয়নের বিজেশ্বর গ্রামের মৃত আবুল বাশার ভূঁইয়ার ছেলে। তিনি সৌদি আরবে ছিলেন।
পুলিশ ও হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, প্রবাস থেকে দেশে ফিরে মাত্র ১০ দিন আগে বিয়ে করেছিলেন ইয়ামিন। সোমবার বিকালে তিনি নববধূকে নিয়ে সদর উপজেলার মাছিহাতা ইউনিয়নের আটলা গ্রামে শ্বশুরবাড়ি থেকে নিজ বাড়ির উদ্দেশে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশায় রওনা দেন। পথে ভাদুঘর হুজুরবাড়ি এলাকায় পৌঁছালে একটি বালুবাহী ট্রাক অটোরিকশাটিকে সজোরে ধাক্কা দেয়। এতে অটোরিকশাটি দুমড়ে-মুচড়ে যায়।
স্থানীয়রা গুরুতর আহত অবস্থায় ইয়ামিন ও সুমাকে উদ্ধার করে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক ইয়ামিনকে মৃত ঘোষণা করেন। আহত সুমাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। নিহতের মরদেহ হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে।
নিহতের চাচা নওশাদ হোসেন জানিয়েছেন, গত ৮ জুলাই ইয়ামিন বিয়ের উদ্দেশ্যে সৌদি আরব থেকে দেশে ফেরেন। দেশে আসার আগেই পারিবারিকভাবে তাদের কাবিন সম্পন্ন হয়েছিল। পরে ১৭ জুলাই আনুষ্ঠানিকভাবে বিয়ের অনুষ্ঠান হয়। বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা শেষে ২৫ জুলাই ‘পান-ফুল’ অনুষ্ঠানে অংশ নিতে স্ত্রীকে নিয়ে শ্বশুরবাড়িতে যান তিনি। সোমবার বিকেলে সেখান থেকে বাড়ি ফেরার পথেই এ দুর্ঘটনার শিকার হন।
তিনি জানান, বিয়ের মাত্র ১০ দিনের মাথায় ইয়ামিনের মৃত্যু পরিবার কোনোভাবেই মেনে নিতে পারছে না। এ ঘটনায় স্বজন ও প্রতিবেশীদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। হাসপাতালেও স্বজনদের আহাজারিতে হৃদয়বিদারক পরিবেশের সৃষ্টি হয়।
খাঁটিহাতা হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু তাহের দেওয়ান জানিয়েছেন, দুর্ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল ও হাসপাতালে গেছে। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। নিহতের মরদেহ হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে।





