খুলনার দাকোপে ১০ বছর বন্ধ এক্স-রে সেবা
- দুটি আল্ট্রাসনোগ্রাম মেশিনও অকেজো
- বাইরে পরীক্ষা করাতে বাড়তি খরচ দরিদ্র রোগীদের

সংগৃহীত ছবি
এক্স-রে মেশিন আছে, কিন্তু সেবা নেই। আল্ট্রাসনোগ্রামের তিনটি মেশিনের দুটিও পড়ে আছে অকেজো হয়ে। প্রয়োজনীয় টেকনিশিয়ান না থাকায় সচল একটি মেশিন দিয়েও সপ্তাহে মাত্র দুদিন সেবা দেওয়া হচ্ছে। ফলে সরকারি হাসপাতালে কম খরচে চিকিৎসা নিতে আসা দরিদ্র ও নিম্নবিত্ত রোগীদের পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য ছুটতে হচ্ছে বেসরকারি ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারে। খুলনার দাকোপ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রায় এক দশক ধরে চলছে এই অবস্থা।
১০০ শয্যার এই হাসপাতালটি দাকোপ উপজেলার ৯টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভার দেড় লাখের বেশি মানুষের প্রধান সরকারি চিকিৎসাকেন্দ্র। হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, প্রায় ১০ বছর আগে এক্স-রে টেকনিশিয়ানের পদ শূন্য হওয়ার পর বন্ধ হয়ে যায় সেবাটি। ২০২২ সালে ডেপুটেশনে একজন টেকনিশিয়ান এলেও কিছুদিন পর চলে যান তিনি। দীর্ঘদিন অব্যবহৃত থাকায় এক্স-রে মেশিনটি বর্তমানে চালু করার উপযোগী আছে কি না, তা নিয়েও রয়েছে অনিশ্চয়তা।
আল্ট্রাসনোগ্রাম বিভাগেও একই ধরনের জনবল সংকট। তিনটি মেশিনের মধ্যে দুটি অকেজো। সচল একটি মেশিন দিয়ে চিকিৎসকদের মাধ্যমে রোগীদের পরীক্ষা করা হচ্ছে সপ্তাহে দুই দিন। নির্ধারিত দিনের বাইরে এ পরীক্ষা করাতে রোগীদের যেতে হচ্ছে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে।
চালনা পৌরসভার বাসিন্দা মুর্শিদা খাতুনসহ কয়েকজন রোগী ও তাদের স্বজন জানালেন, সরকারি হাসপাতালে কম খরচে পরীক্ষা করানোর জন্য তারা আসেন। কিন্তু এক্স-রে বন্ধ থাকায় এবং আল্ট্রাসনোগ্রামের জন্য নির্দিষ্ট দিনের অপেক্ষা করতে হওয়ায় পরীক্ষা করাতে হচ্ছে বাইরে গিয়ে। এতে খরচ হচ্ছে অতিরিক্ত টাকা।
দাকোপ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা সুদীপ বালা বলেছেন, বর্তমান এক্স-রে মেশিনটি অ্যানালগ। এতে ভালো মানের রিপোর্ট পাওয়া যায় না। টেকনিশিয়ানের পদও দীর্ঘদিন ধরে শূন্য। নতুন ডিজিটাল এক্স-রে মেশিন ও টেকনিশিয়ানের জন্য চাহিদা দেওয়া হয়েছে। এগুলো পাওয়া গেলে সেবা চালু করা সম্ভব হবে।
তিনি বলেছেন, উপজেলা পর্যায়ের হাসপাতালে আল্ট্রাসনোগ্রাম টেকনিশিয়ানের পদায়ন নেই। তাই সচল মেশিন দিয়ে চিকিৎসকদের মাধ্যমে সপ্তাহে দুদিন সেবা দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে।
স্থানীয়দের প্রশ্ন, দীর্ঘদিন ধরে প্রয়োজনীয় জনবল ও যন্ত্রপাতির সংকট থাকলেও দেড় লাখের বেশি মানুষের এই সরকারি হাসপাতালে পরীক্ষা-নিরীক্ষার পূর্ণাঙ্গ সুবিধা নিশ্চিত করতে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে না কেন।





