সরাইলের সেই ভাঙা সেতুতে আবারও ভাঙন

ছবি: আগামীর সময়
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইলে শাহবাজপুর-বুড্ডা সড়কের কুচনী সেতুটি দীর্ঘদিন ধরে জরাজীর্ণ ও ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। সেতুর মূল অংশে নতুন করে ভাঙন দেখা দেওয়ায় ঝুঁকি নিয়েই ইটভাটার ট্রাক্টর, সিএনজি, ব্যাটারিচালিত অটোরিকশাসহ বিভিন্ন যানবাহন ও পথচারী চলাচল করছেন। স্থানীয়দের আশঙ্কা, যেকোনো সময় সেতুটির বড় অংশ ভেঙে দুর্ঘটনা ও প্রাণহানি ঘটতে পারে।
গত ১৪ আগস্ট দৈনিক আগামী সময়-এ সেতুটির দুরবস্থা নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। এর পর উপজেলা এলজিইডি কার্যালয়ের কর্মকর্তারা সরেজমিন সেতুটি পরিদর্শন করলেও সংস্কারে দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি হয়নি।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, ১৯৮৬-৮৭ সালের দিকে নির্মিত সেতুটির মূল অংশ গত দুই বছরে তিনবার ভেঙে যায়। স্থানীয়ভাবে ওই ভাঙনগুলো ঢালাই করে সাময়িকভাবে মেরামত করা হলেও সম্প্রতি আবারও নতুন করে ভাঙন দেখা দিয়েছে। এতে সেতুটির ওপর দিয়ে যানবাহন ও পথচারীদের চলাচল আরও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
কুচনী গ্রামের বাসিন্দা আবদুর রাজ্জাক, আওয়াল মিয়া, লায়েছ আহমেদ, সোহাগ মিয়া, নুর ইসলাম, প্রাণেশ দাস ও ফিরোজ মিয়া জানান, সেতুটির দুই পাশে বটগাছের শিকড় ও গাছের বিস্তারের কারণে এপ্রোচও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তাদের ভাষ্য, ইটভাটার বেপরোয়া ট্রাক্টর চলাচলের কারণে সেতু ও সড়কের ক্ষতি আরও বাড়ছে।
কুচনী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক সুমা রানী দেব বলেন, বিদ্যালয়ের উত্তর পাশে থাকা জরাজীর্ণ সেতুটির ওপর দিয়ে শিক্ষার্থীসহ পথচারী ও বিভিন্ন যানবাহন ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে। যেকোনো সময় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে উল্লেখ করে তিনি দ্রুত সেতুটি সংস্কারের দাবি জানান।
নোয়াগাঁও ইউনিয়ন পরিষদের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য অলি আহাদ মৃধা বলেন, ভাঙা সেতু দিয়ে ঝুঁকি জেনেও যানবাহন চলাচল করছে। বটগাছের কারণে সেতুর এপ্রোচ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে এবং পাঠাতনও ভেঙে পড়ছে। পুরোনো ও জরাজীর্ণ সেতুটি দ্রুত সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া জরুরি বলে তিনি মন্তব্য করেন।
নোয়াগাঁও ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মনসুর আহমেদ বলেন, প্রায় ৪০ বছর আগে নির্মিত সেতুটি এখন জরাজীর্ণ। কিছুদিন পরপর এর মূল অংশে ভাঙন দেখা দিচ্ছে। যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।
তিনি আরও বলেন, শাহবাজপুর-বুড্ডা সড়কের এই কুচনী সেতুর ওপর দিয়ে নোয়াগাঁও ও শাহবাজপুর ইউনিয়নের ৭ থেকে ৮টি গ্রামের মানুষ চলাচল করেন। পাশাপাশি শাপলা বিলের ফসলও এই সেতু দিয়ে পরিবহন করা হয়।
সেতুটির নতুন করে ভাঙনের বিষয়টি জানানো হলে এলজিইডির উপজেলা প্রকৌশলী মো. ছিবগাতউল্লাহ খন্দকার আগামী সময়কে বলেন, সেতুটি মেরামতের উদ্যোগ নেওয়া হবে।




