মসজিদের মাইকে ঘোষণা, ‘ঘুষ না দিলে ড্রেন হবে না’

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
সাভার পৌর এলাকায় চলছে বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে সড়ক ও ড্রেন নির্মাণ প্রকল্পের কাজ। তবে সেই প্রকল্পকে ঘিরে উঠেছে প্রতারণার অভিযোগ। মসজিদের মাইকে ঘোষণা দিয়ে স্থানীয়দের বলা হয়, ড্রেন নির্মাণের জন্য সরকারি কর্মকর্তাদের ঘুষ দিতে হবে। সেই কথা বিশ্বাস করে স্থানীয় অন্তত অর্ধশতাধিক পরিবার টাকা দিয়েছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। পরে তারা জানতে পারেন, ড্রেন নির্মাণের পুরো কাজই সরকারি অর্থায়নে বাস্তবায়ন হচ্ছে।
সাভার পৌরসভার সূত্র বলছে, পৌর এলাকার জামসিং জয়পাড়া মহল্লায় বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে এবং স্থানীয় সরকার কোভিড-১৯ প্রতিক্রিয়া ও পুনরুদ্ধার প্রকল্পের (এলজিসিআরআরপি) আওতায় সড়ক ও ড্রেন নির্মাণের কাজ চলছে। প্রকল্পের আওতায় ৮০০ মিটার ইউনিক ব্লকের সড়ক এবং ৩৫০ মিটার আরসিসি ড্রেন নির্মাণ করা হচ্ছে। সড়ক নির্মাণে ব্যয় ধরা হয়েছে ১ কোটি ৪৮ লাখ ৬০ হাজার টাকা। ড্রেন নির্মাণে বরাদ্দ রাখা হয়েছে ৬৮ লাখ ৯৭ হাজার ৫৪০ টাকা।
স্থানীয়রা জানিয়েছেন, এলাকায় সরকারি অর্থায়নে সড়ক নির্মাণের কাজ হবে বলে তারা জানতেন। কিন্তু ড্রেন নির্মাণের জন্য আলাদা অর্থ প্রয়োজন বলে মসজিদের মাইকে প্রচার করা হয়। এ সময় বলা হয়, ড্রেন নির্মাণ করতে হলে বিভিন্ন জায়গায় টাকা দিতে হবে। পরে স্থানীয়দের কাছ থেকে অর্থ সংগ্রহ শুরু হয়।
অভিযোগ রয়েছে, বাইতুল মামুর কেরামাতিয়া জামে মসজিদের সেক্রেটারি খন্দকার ফরহাদ হোসেন, কোষাধ্যক্ষ হাজী মো. শামসুদ্দিন, তার ছেলে মোহাম্মদ হাসান প্রিন্স এবং স্থানীয় বাসিন্দা জসিম উদ্দিন বাড়ির মালিকদের কাছ থেকে ড্রেন নির্মাণের কথা বলে টাকা সংগ্রহ করেন। পরে এলাকাবাসী জানতে পারেন, ড্রেন নির্মাণের পুরো কাজই সরকারি প্রকল্পের আওতায় করা হচ্ছে।
মসজিদের ইমাম নাজির আহমেদ বলেছেন, ‘মসজিদের সেক্রেটারি খন্দকার ফরহাদ হোসেন ও কোষাধ্যক্ষ হাজী মো. শামসুদ্দিন আমাকে মাইকিং করতে বলেছিলেন। তাদের নির্দেশনা অনুযায়ী আমি ঘোষণা দিয়েছি।’
জামসিং জয়পাড়া মহল্লার বাসিন্দা জাহাঙ্গীর আলম বলেছেন, ‘মসজিদের মাইকে বলা হয়েছিল ড্রেন নির্মাণের জন্য টাকা প্রয়োজন। পরে বাড়ির মালিকদের কাছ থেকে টাকা চাওয়া হয়। পানি নিষ্কাশনের সুবিধার কথা ভেবে আমিও ১০ হাজার টাকা দিয়েছি। কিন্তু পরে জানতে পারি, এটি সরকারি প্রকল্পের কাজ।’
স্থানীয় বাসিন্দা মুন্নি আক্তার বলেছেন, ‘ড্রেন নির্মাণের জন্য আমি ২০ হাজার টাকা দিয়েছি। পরে আরও ১০ হাজার টাকা দাবি করা হয়েছে। এভাবে প্রায় ৫০টি বাড়ি থেকে টাকা তোলা হয়েছে।’
সরকারি কর্মকর্তাদের ঘুষ দেওয়ার কথা বলে কেন টাকা সংগ্রহ করা হয়েছে— এ বিষয়ে জানতে চাইলে মসজিদের সেক্রেটারি খন্দকার ফরহাদ হোসেন সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা না বলে চলে যান।
তবে অভিযুক্ত মোহাম্মদ হাসান প্রিন্স ও জসিম উদ্দিন স্থানীয়দের কাছ থেকে টাকা সংগ্রহের বিষয়টি স্বীকার করেন। তারা দাবি করেন, ড্রেন নির্মাণের জন্য ইঞ্জিনিয়ার অফিসে টাকা দিতে হয়েছে। তবে সেই টাকা কাকে দেওয়া হয়েছে, সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের কোনো উত্তর তারা দিতে পারেননি।
এ বিষয়ে সাভার পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী আবু জাফর মো. রেজা বলেছেন, ‘এটি সরকারি অর্থায়নের প্রকল্প। আমি নতুন দায়িত্বে এসেছি। আমার যোগদানের আগেই কাজ শুরু হয়েছে। স্থানীয়দের কাছ থেকে টাকা নেওয়ার কোনো বিষয় আমার জানা নেই।’
সাভার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাইফুল ইসলামের সঙ্গে কথা হয়। জানালেন, সরকারি প্রকল্পের আওতায় সড়ক ও ড্রেন নির্মাণের কাজ করা হচ্ছে। এ প্রকল্পে স্থানীয়দের কাছ থেকে কোনো টাকা নেওয়ার নিয়ম নেই। কিছু ব্যক্তি ইঞ্জিনিয়ারদের ঘুষ দিতে হবে বলে স্থানীয়দের কাছ থেকে টাকা তুলেছেন বলে শুনেছি। তবে এ ঘটনায় পৌরসভার কেউ জড়িত নয়। কোনো ভুক্তভোগী অভিযোগ দিলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।




