ছাত্রদল নেতা হত্যা মামলায় এমপির ছেলের তিন দিনের রিমান্ড

ছবি: আগামীর সময়
নাটোরের গুরুদাসপুর পৌর ছাত্রদলের সদস্যসচিব শাকিল ইসলাম হত্যা মামলায় নাটোর-৪ আসনের সংসদ সদস্য মো. আব্দুল আজিজের বড় ছেলে মো. নুরুজ্জামান মিন্টুর তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। মঙ্গলবার বিকালে নাটোরের চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক মাহমুদুল হাসান শুনানি শেষে এ আদেশ দেন।
এর আগে ডিবি পুলিশের হেফাজতে থাকা মিন্টুকে এ হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে হাজির করা হয়। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা গুরুদাসপুর থানার এসআই আমীর হোসেন তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করেন। শুনানি শেষে আদালত তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
আদালতে আসামিপক্ষে কোনো আইনজীবী ছিলেন না। এ সময় মিন্টু নিজেই বক্তব্য উপস্থাপনের অনুমতি চান। অনুমতি পেয়ে তিনি আত্মপক্ষ সমর্থন করে বলেন, হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে তিনি সম্পৃক্ত নন।
এর আগে সোমবার রাত একটার দিকে গুরুদাসপুর উপজেলার ধারাবাড়িষা এলাকায় নিজের বাড়ি থেকে মিন্টুকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়। পরে তাকে গুরুদাসপুর থানা থেকে নাটোর ডিবি কার্যালয়ে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।
নিহত শাকিলের বাড়িতে গিয়ে তার পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে দেখা করেন সংসদ সদস্য মো. আব্দুল আজিজ। এ সময় তিনি হত্যাকাণ্ডে জড়িত ব্যক্তিদের বিচারের আওতায় আনার আশ্বাস দেন। তিনি বলেন, ‘আমার সন্তান হোক বা যেই হোক না, সে যদি প্রকৃত দোষী হয়, তাকে আইনের মাধ্যমে বিচার করা হবে।’ বিচার নিশ্চিত করতে সব ধরনের সহযোগিতার আশ্বাসও দেন তিনি।
চিকিৎসাধীন অবস্থায় সোমবার রাত ৮টা ১০ মিনিটে ঢাকার পিজি হাসপাতালে (বর্তমানে বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়) মারা যান শাকিল। তার মৃত্যুর পর হামলাকারীদের শনাক্তে তৎপরতা শুরু করে পুলিশ।
শাকিলের বাবা রবিউল করিম গত ১৯ অক্টোবর অজ্ঞাতনামা ৮ থেকে ১০ জনকে আসামি করে গুরুদাসপুর থানায় মামলা করেন।
গত ১৪ অক্টোবর রাত সাড়ে ১০টার দিকে চাঁচকৈড় বাজার থেকে পায়ে হেঁটে বাড়ি ফেরার পথে নূর একাডেমির সামনে পৌঁছালে শাকিলের ওপর হামলা হয়। অভিযোগ অনুযায়ী, হেলমেট পরা দুই যুবক তাকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়েন। গুলি থেকে বাঁচতে দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করলে মোটরসাইকেলে তাকে ধাওয়া করা হয়। পরে পৌর বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক দুলাল সরকারের বাড়ির সামনে চাপাতি ও চায়নিজ কুড়াল দিয়ে তাকে এলোপাতাড়ি কোপানো হয়।
স্থানীয় লোকজন গুরুতর আহত শাকিলকে উদ্ধার করে গুরুদাসপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে তাকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকার পিজি হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) লাইফ সাপোর্টে থাকা অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
এদিকে, গত ২০ এপ্রিল নিজের ফেসবুক পোস্টে নিরাপত্তাহীনতার কথা জানিয়েছিলেন শাকিল। ওই পোস্টে তিনি লেখেন, ‘আমি আমার জীবন নিয়ে সংশয়ে আছি খুবই। আমাকে মারার জন্য এক বড় ভাই বিভিন্ন চক্র ও গ্রুপের সঙ্গে যোগাযোগ করতেছে। যারা আমাকে মারতে পারবে, তাদের নাকি অনেকগুলো টাকা দেওয়া হবে।’
পোস্টে তিনি আরও লেখেন, এ বিষয়ে তিনি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (ওসি) সঙ্গে কথা বলে একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন এবং সেখানে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের নাম উল্লেখ করেছেন।
নাটোরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ইফতেখায়ের আলম আগামীর সময়কে বললেন, শাকিল হত্যা মামলায় মিন্টুকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হয়। পুলিশ ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করলে আদালত তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।



