ফেল থেকে জিপিএ-৫, ‘আমার এই আনন্দ কেড়ে নিয়েছিল ওরা’

শিক্ষার্থী হাবিবুল বাশার
জীববিজ্ঞানের ওএমআর শিট বদলে দাখিল পরীক্ষায় ফেল করানোর অভিযোগ এনেছিলেন রংপুরের গঙ্গাচড়ার শিক্ষার্থী হাবিবুল বাশার। এ ঘটনায় মামলাও করেন চার শিক্ষকের বিরুদ্ধে। অবশেষে বাংলাদেশ মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের সংশোধিত ফলে জীববিজ্ঞানে এ প্লাস পেয়ে দাখিল-২৬ পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পেয়েছেন হাবিবুল।
গত বৃহস্পতিবার বোর্ডের ওয়েবসাইটে সংশোধিত ফল প্রকাশ করা হয়। এর আগে গত ১০ আগস্ট প্রকাশিত ফলে জীববিজ্ঞানে অকৃতকার্য দেখানো হয়েছিল হাবিবুলকে।
হাবিবুল বাশার গঙ্গাচড়ার কোলকোন্দ তাকিয়া শরীফ আলিম মাদ্রাসার শিক্ষার্থী। তিনি গঙ্গাচড়া সরকারি কলেজ কেন্দ্রে দাখিল পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিলেন। জীববিজ্ঞানে অকৃতকার্য দেখানোর পর পুনর্মূল্যায়নের আবেদন করেও ফল পরিবর্তন হয়নি। পরে গত ১৩ সেপ্টেম্বর চাচাকে সঙ্গে নিয়ে মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডে গিয়ে খাতা দেখার আবেদন করেন তিনি। সেখানে দেখা যায়, জীববিজ্ঞানের বহুনির্বাচনী অংশের ওএমআর শিটটি তার নয়। শিটের সিরিয়াল নম্বর ও বোর্ডের কন্ট্রোলারের স্বাক্ষরেও গরমিল পাওয়া যায়।
ঘটনাটি তদন্তে পাঁচ সদস্যের কমিটি গঠন করে মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড। তদন্তে হাবিবুলের জীববিজ্ঞানের বহুনির্বাচনী অংশের ওএমআর শিট পরিবর্তনের প্রমাণ পাওয়া যায়।
ফল সংশোধনের পর জিপিএ-৫ পেয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করলেন হাবিবুল । বললেন, ‘আমি খুব খুশি। আমার এই খুশি ওরা কেড়ে নিয়েছিল। মাদ্রাসা বোর্ডের চেয়ারম্যান স্যার আমার অভিযোগকে গুরুত্ব দিয়ে ব্যবস্থা নিয়েছেন। এ কারণে সঠিক বিচার পেয়েছি।’
এ ঘটনায় জড়িতদের বিচার চাইলেন তিনি। বললেন, ‘এই জালিয়াতির সঙ্গে যাঁরা জড়িত, তাদের কঠোর শাস্তি দিতে হবে। যেন ভবিষ্যতে আর কেউ কোনো শিক্ষার্থীর এমন ক্ষতি করার সাহস না পায়।’
মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের নির্দেশে গত ১৭ সেপ্টেম্বর রংপুর আঞ্চলিক কার্যালয়ের উপপরিদর্শক মোশারফ হুসেন বাদী হয়ে চার শিক্ষকের বিরুদ্ধে গঙ্গাচড়া মডেল থানায় মামলা করেন।
মামলার আসামিরা হলেন— গঙ্গাচড়া সিনিয়র আলিম মাদ্রাসার উপাধ্যক্ষ ও সহকারী কেন্দ্র সচিব আবদুল বাকী ওরফে লিটন, সাউদপাড়া আলিম মাদ্রাসার অধ্যক্ষ ও হল সুপার রোকনুজ্জামান, গঙ্গাচড়া সিনিয়র আলিম মাদ্রাসার অধ্যক্ষ ও কেন্দ্র সচিব অলিউল্লাহ এবং ধনতোলা বাজার দাখিল মাদ্রাসার সুপার ইব্রাহিম খলিল।
মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, গত ২০ মে জীববিজ্ঞান পরীক্ষা চলাকালে একটি কক্ষে টাকার বিনিময়ে বহুনির্বাচনী প্রশ্নের উত্তর সরবরাহের প্রস্তাব দেওয়া হয়। হাবিবুল টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে সহকারী কেন্দ্র সচিব আবদুল বাকীর সঙ্গে তার বাগ্বিতণ্ডা হয়। পরে হাবিবুলের ওএমআর শিট পরিবর্তন করে অন্য একটি শিট বোর্ডে পাঠানো হয়। পরীক্ষার হাজিরা শিটে থাকা ওএমআর শিটের সিরিয়াল নম্বরের সঙ্গে বোর্ডে জমা দেওয়া শিটের নম্বরের মিল পাওয়া যায়নি।
এজাহারে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, তদন্ত কমিটির কাছে দ্বিতীয় থেকে চতুর্থ আসামি লিখিত বক্তব্য দিলেও আবদুল বাকী বোর্ডে উপস্থিত হয়ে কোনো ব্যাখ্যা দেননি।
এ বিষয়ে মন্তব্য জানতে আসামিদের মোবাইলে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলে তারা সাড়া না দেওয়ায় বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা গঙ্গাচড়া মডেল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মশিউর রহমান জানিয়েছেন, মামলা হওয়ার পর আসামিরা পলাতক রয়েছেন। তাদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। পাশাপাশি মামলার তদন্তও অব্যাহত রয়েছে।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে মামলার বাদী মোশারফ হুসেন জানিয়েছেন, হাবিবুলের ইচ্ছা অনুযায়ী যেকোনো মাদ্রাসায় আলিম শ্রেণিতে ভর্তির প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে বাংলাদেশ মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড।




