নাইলনের বেড়া ছিঁড়ে ইকো-ট্যুরিজম কেন্দ্রে বাঘ

ছবি: আগামীর সময়
নাইলনের ফেন্সিং বেড়া ছিঁড়ে পূর্ব সুন্দরবনের শরণখোলা রেঞ্জের আলীবান্দা ইকো-ট্যুরিজম কেন্দ্রে ঢুকে পড়েছিল একটি বাঘ (রয়েল বেঙ্গল টাইগার)।
বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) দুপুর ১২টার দিকে ঘটে ঘটনাটি। বাঘ দেখ আতঙ্কিত হয়ে পড়েন ট্যুরিজম কেন্দ্রের নিরস্ত্র বনরক্ষীরা। একপর্যায় ওয়াচ টাওয়ারে উঠে আশ্রয় নেন তারা।
পরে দুপুর ২টার দিকে শরণখোলা রেঞ্জ অফিস থেকে অস্ত্রধারী বনরক্ষীরা যান সেখানে। সঙ্গে ছিলেন ভিলেজ টাইগার রেসপন্স টিম (ভিটিআরটি), কমিউনিটি প্যাট্রলিং গ্রুপ (সিপিজি) ও ওয়াইল্ড টিমের আরও ১৫ সদস্য।
বাঘ তাড়াতে প্রথমে মাইকে বিকট শব্দে হুইসেল বাজানো হয়। পরে ১০টি আতশবাজি (পটকা) ফোটানো হয়। বিকাল ৫টার দিকে প্রবেশ ও বের হওয়ার পায়ের ছাপ দেখে বাঘটি ফের বনে ফিরে যাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত হন সংশ্লিষ্টরা।
ভিটিআরটির টিম লিডার মো. জাকারিয়া হোসাইন বলেন, দুপুর ২টার দিকে খবর পেয়ে আমরা ১৫ জন স্বেচ্ছাসেবক বনরক্ষীদের সঙ্গে আলীবান্দা যাই। সেখানে বাঘের পায়ের অসংখ্য ছাপ দেখা যায়। ধারণা করা হয় বাঘটি ঝোপের মধ্যে লুকিয়ে ছিল।
প্রথমে ফেন্সিং বেড়ার এক পাশ খুলে বাঘটি সহজে বের হওয়া পথ তৈরি করা হয়। এর পর মাইকে হুইসেল ও টিন পিটিয়ে শব্দ করা হলেও বাঘটি বের হতে দেখা যায়নি। পরে আতশবাজি ফোটানো হয়, যোগ করেন তিনি।
ওয়াইল্ড টিমের ফিল্ড ফ্যাসিলিটেটর মো. আলম হাওলাদার বলেন, বিকাল ৫টার দিকে সম্মিলিতভাবে এলাকা তল্লাশি করে প্রবেশ ও বের হওয়ার পায়ের ছাপ দেখে নিশ্চিত হওয়া যায়, বাঘটি ফের বনে ফিরে গেছে। এ সময় আকাশে ঘন কালো মেঘ এবং প্রবল বৃষ্টির কারণে চারিদিক অন্ধকার থাকায় স্পষ্টভাবে দেখা সম্ভব হয়নি বাঘটি।
আলীবান্দা ইকো-ট্যুরিজম কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ফরেস্ট রেঞ্জার মো. ফারুকহল ইসলাম বলেন, দুপুর আনুমানিক ১২টার দিকে ফেন্সিং বেড়া ভেদ করে ঢোকে বাঘটি। এ সময় আমরা ওয়াচ টাওয়ারে উঠে আশ্রয় নিই। আমাদের কাছে কোনো অস্ত্র ছিল না। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানোর পর রেঞ্জ অফিস থেকে অস্ত্রধারী বনরক্ষী ও স্বেচ্ছাসেবকরা এসে বাঘ তাড়ানোর কাজে অংশ নেন। বিকাল পাঁচটা নাগাদ বাঘটি চলে যাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত হই।
পূর্ব সুন্দরবনের শরণখোলা রেঞ্জের সহকারী রেঞ্জ কর্মকর্তা মো. খলিলুর রহমান বাঘ ঢোকার বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, বাঘটি ঢুকতে দেখেছেন বনরক্ষীরা। হয়তো বন্য শূকরে নাইলনের নেটের ফেন্সিং বেড়া কেটে ফেলায় সেখান থেকে ঢুকেছে বাঘটি। বাঘটি এসেই আবার বনে ফিরে গেছে। তারপরও নিশ্চিত হতে পটকা ফুটিয়ে ও হুইসেল বাজানোসহ সব ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হয়। পরে বাঘটি প্রবেশ ও বের হওয়ার পায়ের ছাপ দেখে নিশ্চিত হওয়া যায় বাঘটি বনে ফিরে গেছে।






