দশমিনায় আকস্মিক নদীভাঙন, আতঙ্কে মানুষ

ছবি: আগামীর সময়
পটুয়াখালীর দশমিনার হাজিরহাটে তেঁতুলিয়া নদীতে আকস্মিক ভাঙনে ঘরবাড়ি, দোকানপাট, সড়ক, মসজিদ ও কবরস্থান হুমকিতে পড়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার রাতে দশমিনা সদর ইউনিয়নের হাজিরহাট লঞ্চঘাট এলাকায় হঠাৎ করে তীব্র নদীভাঙন শুরু হয়। এতে হাজিরহাট লঞ্চঘাট থেকে কেদিরহাট পর্যন্ত প্রায় আধা কিলোমিটার পাকা সড়ক নদীতে বিলীন হয়ে গেছে।
এ ছাড়া হাজিরহাট মসজিদ, কবরস্থান, মাধ্যমিক ও প্রাথমিক বিদ্যালয়, কমিউনিটি ক্লিনিকসহ পাঁচ শতাধিক বসতবাড়ি ভাঙনের ঝুঁকিতে রয়েছে।
ভয়াবহ ভাঙনে আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন স্থানীয়রা। অনেকেই ঘরবাড়ি ও দোকানপাটের মালামাল সরিয়ে নিচ্ছেন। বুধবার স্থানীয় নুরু মৃধা, নিজাম উদ্দিন, ফিরোজ হোসেনসহ অন্তত ১০টি পরিবার ঘরবাড়ি ভেঙে অন্যত্র সরিয়ে নিয়েছে। কয়েকটি পরিবার পূর্বপুরুষের কবরও অন্যত্র স্থানান্তর করেছে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, ভাঙনকবলিত এলাকায় দিনভর মানুষের ছোটাছুটি ও কান্নার আহাজারি। বসতভিটা ও জমিজমা হারিয়ে অনিশ্চিত ভবিষ্যতের মুখে পড়েছেন অনেকে।
ভাঙন রোধ ও বসতবাড়ি রক্ষার দাবিতে বুধবার সকালে স্থানীয়রা ভাঙনকবলিত এলাকায় মানববন্ধন করেছেন। তারা দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নিতে সরকারের কাছে আকুতি জানিয়েছেন।
খবর পেয়ে মঙ্গলবার গভীর রাতে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহমুদ হাসান মৃধা ও দশমিনা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. আতিকুল ইসলাম। এ সময় ঝুঁকিপূর্ণ কয়েকটি পরিবারের সদস্যদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়।
বুধবার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন পটুয়াখালী পানি উন্নয়ন বোর্ডের প্রকৌশলী মো. আহসান উল্লাহ। তিনি জানিয়েছেন, জরুরি পদক্ষেপ হিসেবে ৩০০ থেকে ৫০০ মিটার এলাকায় ভাঙন বন্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহমুদ হাসান মৃধা জানিয়েছেন, খবর পাওয়ার পরপরই ঘটনাস্থলে গিয়ে ভয়াবহ পরিস্থিতি দেখা গেছে। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। রাতে ভাঙনকবলিত কয়েকটি পরিবারকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে সহায়তা করা হচ্ছে।
স্থানীয় সংসদ সদস্য ও প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নূর জানিয়েছেন, দশমিনা ও গলাচিপার বেশ কয়েকটি এলাকা নদীভাঙনের ঝুঁকিতে রয়েছে। হাজিরহাটের ভাঙনের বিষয়টি তাৎক্ষণিকভাবে পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ও সচিবকে অবহিত করা হয়েছে।
ভাঙনকবলিত এলাকায় জিও ব্যাগ ফেলে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া অথবা প্রয়োজন অনুযায়ী বেড়িবাঁধ নির্মাণের মাধ্যমে স্থানীয় মানুষকে সুরক্ষিত রাখার বিষয়ে পদক্ষেপ নিতে অনুরোধ করা হয়েছে।






