আগামীর সময়

হুইপ বকুল

ট্যাক্স কর্মকর্তারা জনগণের বন্ধু হবে, আতঙ্ক নয়

  • ৬৬ কোটি টাকায় নির্মিত খুলনা কর ভবন উদ্বোধন
ট্যাক্স কর্মকর্তারা জনগণের বন্ধু হবে, আতঙ্ক নয়

ছবিঃ আগামীর সময়

তারেক রহমানের সরকারে ট্যাক্স কর্মকর্তারা জনগণের বন্ধু হবে, আতঙ্ক নয়। সাধারণ মানুষকে ট্যাক্সের টাকা কোথায় ব্যয় হয়— তা সহজ ভাষায় বোঝাতে হবে। ক্যাম্পেইন করে সচেতনতা বাড়াতে হবে। করদাতাদের পুরস্কৃত করার মাধ্যমে কর দিতে উৎসাহিত করতে হবে। বৃহস্পতিবার দুপুরে খুলনায় আধুনিক কর ভবনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এমনই বলছিলেন জাতীয় সংসদের হুইপ রকিবুল ইসলাম বকুল।

আয়কর ব্যবস্থাই দেশের উন্নয়নের মূল চালিকাশক্তি। ‘দেশের রাস্তাঘাট, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, হাসপাতাল ও বিদ্যুৎসহ যাবতীয় অবকাঠামোগত উন্নয়নের যোগান আসে জনগণের ট্যাক্স থেকে। তাই এই ব্যবস্থার কার্যকারিতা বাড়াতে করফাঁকি রোধের পাশাপাশি নিয়মকানুন সহজ ও স্বচ্ছ করা একান্ত প্রয়োজন’, গুরুত্ব তুলে ধরছিলেন সংসদের হুইপ।

তার ভাষ্য, সাধারণ মানুষের মধ্যে এখনও টিআইএন সার্টিফিকেট করা নিয়ে এক ধরনের ভীতি কাজ করে। মানুষ মনে করে করদাতা হলে তারা কর্মকর্তাদের হয়রানির শিকার হবে। কর্মকর্তাদের অতি উৎসাহী আচরণ ও অসততার কারণেই নতুন করদাতা তৈরি হচ্ছে না, যা দেশের অর্থনীতির জন্য শুভ নয়।

কর প্রশাসনের স্বচ্ছতা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। ‘প্রায়ই দেখা যায় বড় ব্যবসায়ীরা কর ফাঁকি দিয়ে পার পেয়ে যাচ্ছেন, অথচ ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসায়ীদের ওপর কর কর্মকর্তারা অন্যায্য চাপ সৃষ্টি করেন। এই বৈষম্য দূর করতে হবে।’

বকুল বলছিলেন, ‘শিল্পনগরী হিসেবে পরিচিত হলেও খুলনার শিল্প এখন ধ্বংসের পথে। বিশেষ করে মৎস্য শিল্প হুমকির মুখে।’ তিনি কুটির শিল্প থেকে শুরু করে বৃহৎ শিল্পকারখানা পুনরায় গড়ে তোলার মাধ্যমে আঞ্চলিক অর্থনীতি সচল করার কথা জানান।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগের সচিব ও জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের চেয়ারম্যান আবদুর রহমান খান। বিশেষ অতিথি ছিলেন খুলনা সিটি করপোরেশনের প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু, জেলা পরিষদের প্রশাসক এস এম মনিরুল হাসান বাপ্পী, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের সদস্য (কর নীতি) ব্যারিস্টার মুতাসিম বিল্লাহ ফারুকী এবং সদস্য (কর প্রশাসন ও মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনা) আহসান হাবিব। এছাড়াও অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন খুলনার কর কমিশনার শ্রাবণী চাকমা।

গণপূর্ত অধিদপ্তরের বাস্তবায়নে নির্মিত কর ভবন প্রকল্পের কাজ শুরু হয় ২০১৯ সালের ১ জুলাই এবং সম্পন্ন হয় ২০২৫ সালের ৩১ ডিসেম্বর। প্রকল্পটি বাস্তবায়নে মোট ব্যয় হয়েছে ৬৫ কোটি ৫৪ লাখ টাকা।

    শেয়ার করুন: