চোরাই পথে আসছে না গরু, সীমান্তহাটগুলোতে ‘স্বস্তির ছায়া’

কোরবানির ঈদ সামনে রেখে কুড়িগ্রামের সীমান্তবর্তী পশুর হাটগুলোতে দেশীয় গরুর সরবরাহ বাড়লেও ভারতীয় গরুর উপস্থিতি প্রায় নেই বললেই চলে। এতে স্বস্তি প্রকাশ করেছেন স্থানীয় খামারি ও বিক্রেতারা। তাদের আশা, ভারতীয় গরু না থাকায় দেশীয় গরুর ভালো দাম মিলবে এবং ভবিষ্যতে ব্যবসাও আরও লাভজনক হবে।
জেলার সাতটি সীমান্তঘেঁষা পশুর হাট ঘুরে দেখা গেছে, এবার প্রায় সব হাটেই দেশি ও মাঝারি আকারের গরুর আধিক্য। অতীতের মতো চোরাইপথে ভারতীয় গরুর বড় চালান দেখা যাচ্ছে না।
ভুরুঙ্গামারী উপজেলার সীমান্তঘেঁষা পশুর হাটে গরু বিক্রি করতে আসা ব্যবসায়ী গফুর আলী জানিয়েছেন, এবার হাটে ভারতীয় গরু নেই। এতে দেশীয় গরুর চাহিদা ও দাম দুটোই ভালো থাকবে বলে তিনি আশা করছেন। তার ভাষ্য, এখন পর্যন্ত মাঝারি গরুই বেশি এসেছে, তবে বিকালের পর কেনাবেচা আরও জমবে।
ভুরুঙ্গামারী হাটের ইজারাদার খাইরুল আলম বলছেন, হাটে থাকা সব গরুই দেশি। মাঝারি গরুর সংখ্যাই বেশি।
ফুলবাড়ী উপজেলার বালাহাট ও খড়িবাড়ি পশুর হাটও বরাবর ভারতীয় গরুর জন্য পরিচিত ছিল। তবে এবার সেখানে দেশি ও অস্ট্রেলিয়ান ক্রস গরুই বেশি দেখা গেছে।
বালাহাটে গরু কিনতে আসা বিপুল মিয়া বেলাল জানালেন, প্রতিবছর এই হাটে ভারতীয় গরু দেখা গেলেও এবার এমন কোনো গরু চোখে পড়েনি।
সদর উপজেলার যাত্রাপুর পশুর হাটেও একই চিত্র দেখা গেছে। ভারতীয় গরুর বদলে দেশি গরু ও মহিষের উপস্থিতি বেশি। বিক্রেতা লতিফুর রহমান জানান, ক্রেতা কিছুটা কম হলেও ভারতীয় গরু না থাকায় দেশি গরুর দাম ভালো পাওয়া যাচ্ছে। ক্রেতা গোলজার হোসেনও একই কথা তুলে ধরেন।
যাত্রাপুর হাটের ইজারাদার আকবর আলী বলেছেন, হাটের পরিবেশ স্বাভাবিক রয়েছে। দিন যত এগোবে, কেনাবেচাও তত বাড়বে বলে তিনি আশা করছেন।
রৌমারী ও চর রাজিবপুর উপজেলার পশুর হাটগুলোতেও ভারতীয় গরুর দেখা মেলেনি। রৌমারী হাটের ইজারাদার শাকিল আহমেদ জানিয়েছেন, হাটে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। পুলিশ ও আনসার সদস্য মোতায়েন রয়েছে। গরু, মহিষ ও ছাগলের সরবরাহও ভালো।
কর্তিমারী পশুর হাটের ইজারাদার এমদাদুল হক মণ্ডল বলছেন, হাটে মাঝারি আকারের দেশি গরুই বেশি এসেছে। ভারতীয় গরু নেই।
রাজিবপুর পশুর হাটে আসা ক্রেতা সাখাওয়াত হোসেন উল্লেখ করেন, গত বছর ভারতীয় গরু দেখা গেলেও এবার পুরো হাটে দেশি গরুই বেশি দেখা যাচ্ছে।
এদিকে কুড়িগ্রাম ব্যাটালিয়ন (২২ বিজিবি) জানিয়েছে, ঈদুল আজহা সামনে রেখে সীমান্ত এলাকায় নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ মাহবুব-উল-হক স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, অবৈধ অনুপ্রবেশ ও চোরাচালান ঠেকাতে সীমান্ত জুড়ে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থান নিয়েছে বিজিবি।








