যৌথবাহিনীর ক্যাম্পে হামলা: ইয়াসিনকে প্রধান আসামি করে মামলা

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার জঙ্গল সলিমপুরে সশস্ত্র আক্রমণ করে যৌথবাহিনীর ক্যাম্প গুঁড়িয়ে দেওয়ার ঘটনায় মামলা করেছে পুলিশ। দুর্গম ওই পাহাড়ি এলাকার নিয়ন্ত্রক ইয়াসিনের নেতৃত্বে এ হামলা হয়েছে উল্লেখ করে মামলায় তাকে প্রধান আসামি করা হয়েছে।
সীতাকুণ্ড থানার ফৌজদারহাট পুলিশ ফাঁড়ির পরিদর্শক সোহেল রানা সোমবার (২৫ মে) রাতে মামলাটি করেছেন।
মামলায় ইয়াসিনসহ ৪৩ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে বলে জানালেন সীতাকুণ্ড থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মহিনুল ইসলাম, ‘ইয়াসিন যৌথবাহিনীর ক্যাম্পে হামলায় নেতৃত্ব দিয়েছে। মামলায় তাকে প্রধান আসামি করা হয়েছে। ঘটনাস্থল থেকে আটক করা পাঁচজনসহ মোট ৪৩ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। এ ছাড়া অজ্ঞাত আরও ২০০ থেকে ৩০০ জনকে আসামি করা হয়েছে।’
পুলিশের ওপর সংঘবদ্ধ সশস্ত্র আক্রমণ, পুলিশের কাজে বাধা, সরকারি সম্পত্তির ক্ষতিসাধন ও গণবিস্ফোণের অভিযোগে বিভিন্ন ধারায় মামলাটি করা হয়েছে বলে ওসি’র ভাষ্য।
রবিবার রাত ১টার দিকে জঙ্গল সলিমপুরের আলীনগরে যৌথবাহিনীর জন্য নবনির্মিত একটি ক্যাম্পে হামলা চালিয়ে গুঁড়িয়ে দেয় সশস্ত্র সন্ত্রাসীরা। ক্যাম্পটি ৩১ মে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদের উদ্বোধন করার কথা ছিল।
হামলার আগে জঙ্গল সলিমপুরের প্রবেশপথ থেকে আলীনগর পর্যন্ত প্রায় চার কিলোমিটার সড়কের চারটি স্থানে এস্কেভেটর দিয়ে মাটি কেটে রাখে সন্ত্রাসীরা। এভাবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী প্রবেশে প্রতিবন্ধকতা তৈরি করে পাহাড়ের ওপর থেকে প্রথমে গুলিবর্ষণ শুরু করে। এরপর তিনদিক থেকে প্রায় ৩০০ সশস্ত্র সন্ত্রাসী ক্যাম্পের দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যদের ঘেরাও করে হামলা চালানো হয়। এ সময় অদূরে আলীনগর প্রাথমিক ও উচ্চ বিদ্যালয়ে স্থাপিত যৌথবাহিনীর আরেকটি অস্থায়ী ক্যাম্প থেকে সন্ত্রাসীদের লক্ষ্য করে গুলিবর্ষণ করা হয়। প্রায় দেড় ঘণ্টা ধরে পাল্টাপাল্টি গুলি বিনিময় হয়েছে বলে র্যাবের ভাষ্য।
১০৫ রাউন্ড গুলিবিনিময়ের তথ্য দিয়ে চট্টগ্রামের পুলিশ সুপার মাসুদ আলম জানিয়েছিলেন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর শক্ত প্রতিরোধের মুখে সন্ত্রাসীরা একসময় পাহাড়ের ভেতরে পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়। পুলিশ তাদের ফেলে যাওয়া ২টি এস্কেভেটর, ২টি মোটর সাইকেল ও একটি ট্রাক জব্দ করে। পাল্টাপাল্টি গুলিবিনিময়ে তেমন কেউ আহত হননি বলে এসপি জানান।
অন্যদিকে র্যাবের চট্টগ্রাম জোনের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল হাফিজুর রহমানের দাবি, একে-৪৭ রাইফেলসহ ভারি অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে এবং ককটেলের বিস্ফোরণ ঘটিয়ে সন্ত্রাসীরা হামলা করেছিল। র্যাব সদস্যরা টিয়ারশেল, রাবার বুলেট ও রাইফেলের গুলি ছুঁড়ে প্রতিরোধ করে।
নগরীর বায়েজিদ-ফৌজদারহাট লিংক রোড ঘেঁষে উত্তরে পাহাড়ঘেরা জঙ্গল সলিমপুর। প্রায় ৩১০০ একর আয়তনের এ এলাকায় পাহাড় কেটে সরকারি খাসজমি দখল করে প্লট বানিয়ে বিক্রি করেছে ভূমিদস্যু ও পেশাদার অপরাধী চক্র। এসব অবৈধ বসতিতে মেলে সব নাগরিক সুবিধা। ‘রাষ্ট্রের ভেতর আরেক রাষ্ট্র’হিসেবে পরিচিত সেই সাম্রাজ্যের নিয়ন্ত্রক মোহাম্মদ ইয়াসিন নামে এক ভূমিদস্যু। তার বিশাল বাহিনীর কাছে গত ৩০ বছর ধরে অসহায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। গত ১৯ জানুয়ারি ইয়াসিনকে গ্রেপ্তার করতে গিয়ে বেধড়ক পিটুনিতে র্যাব কর্মকর্তা মোতালেব হোসেন ভূঁইয়া নিহত হন। ৯ মার্চ সেনাবাহিনী, বিজিবি, র্যাব ও পুলিশ মিলে ২ হাজার সদস্যের বিশাল যৌথবাহিনী সেখানে অভিযান চালিয়ে এলাকা তাদের নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার ঘোষণা দেয়। এরপর যৌথবাহিনীর দুটি অস্থায়ী ক্যাম্প প্রতিষ্ঠা করা হয়।







