বিদেশি অনুদানের প্রলোভন দেখিয়ে ১৩ লাখ টাকা হাতিয়েছে প্রতারকচক্র

বিদেশি সংস্থার অনুদান ও খাদ্য সহায়তার স্বপ্ন দেখিয়ে চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জ উপজেলার শতাধিক নিম্নআয়ের মানুষের কাছ থেকে প্রায় ১৩ লাখ টাকারও বেশি হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে একটি সংঘবদ্ধ প্রতারকচক্রের বিরুদ্ধে।
দরিদ্র ও অসহায় মানুষের মানবিক দুর্বলতাকে পুঁজি করে অভিনব কৌশলে টাকা সংগ্রহ করে চক্রটি এলাকা ছেড়ে চলে গেছে বলে অভিযোগ ভুক্তভোগীদের।
ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। প্রতারণার শিকার পরিবারগুলোর অনেকে ধারদেনা ও সঞ্চয়ের টাকা হারিয়ে এখন মানবেতর জীবনযাপন করছেন।
স্থানীয় সূত্র ও ভুক্তভোগীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, কয়েক সপ্তাহ আগে একটি সংঘবদ্ধ চক্র উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় গিয়ে নিজেদের বিদেশি সহায়তা সংস্থার প্রতিনিধি হিসেবে পরিচয় দেয়। তারা দাবি করে, বিদেশি অনুদানের আওতায় দরিদ্র পরিবারের জন্য বড় আকারের খাদ্য সহায়তা দেওয়া হবে। এজন্য তারা এলাকায় অসহায় ও নিম্নআয়ের মানুষের তালিকা তৈরি শুরু করে।
প্রতারকরা যে খাদ্য সহায়তার কথা বলেছিল, তার মধ্যে ছিল ২ দশমিক ৫ কেজি গরুর মাংস, ৫ কেজি ব্রয়লার মুরগি, ৫ লিটার সয়াবিন তেল, ২ দশমিক ৫ কেজি করে চিনি, আটা, মসুর ডাল, মুগ ডাল, বুটের ডাল ও আতপ চাল। এসব পণ্য একসঙ্গে পাওয়ার আশায় অনেকেই আগ্রহী হয়ে ওঠেন।
তবে সহায়তা পাওয়ার শর্ত হিসেবে প্রতিটি নামের বিপরীতে ৩ হাজার টাকা করে নেওয়া হয়। অভিযোগ রয়েছে, প্রতারকরা মানুষকে একাধিক নাম অন্তর্ভুক্ত করতে উৎসাহিত করে। কেউ ১০টি, কেউ ২০টি, আবার কেউ ১০০টিরও বেশি নাম জমা দিয়ে লাখ লাখ টাকা পরিশোধ করেন। নির্ধারিত সময়ে কোনো খাদ্য সহায়তা না পেয়ে ধীরে ধীরে প্রতারণার বিষয়টি সামনে আসে। পরে অভিযুক্তদের মোবাইল ফোনও বন্ধ পাওয়া যায়।
অভিযুক্তদের মধ্যে কেরানীগঞ্জ উপজেলার মাসুম, ইয়াছিন মোস্তফা পায়েল এবং নারায়ণগঞ্জের পলি বেগমের নাম উল্লেখ করেছেন ভুক্তভোগীরা।
সরেজমিনে অন্তত ১৫ জন ভুক্তভোগীর তথ্য পাওয়া গেছে। তাদের মধ্যে মো. আজাদ ৬০টি নামের বিপরীতে দিয়েছেন ২ লাখ ৯৩ হাজার টাকা। খুকি বেগম দিয়েছেন ৫ লাখ টাকা। পারভীন দিয়েছেন ১ লাখ ২০ হাজার টাকা। আসমা আক্তার দিয়েছেন আরও ১ লাখ ২০ হাজার টাকা। এ ছাড়া হানিফ হাওলাদার, ফাতেমা বেগম, আমেনা বেগম, আনোয়ারা বেগম, হিরা আক্তার ও তাসলিমা আক্তারসহ আরও অনেকে কয়েক হাজার থেকে লাখ টাকা পর্যন্ত হারিয়েছেন।
হিরা আক্তার ও তাসলিমা আক্তার জানান, প্রতারকচক্রটি মূলত দরিদ্র পরিবারের নারী সদস্যদের টার্গেট করে। বিদেশি সহায়তা, সরকারি অনুমোদন এবং বিশেষ প্রকল্পের কথা বলে তারা মানুষের বিশ্বাস অর্জন করে। পরে তালিকা তৈরির নামে মোটা অঙ্কের টাকা সংগ্রহ করে দ্রুত এলাকা ত্যাগ করে।
খুকি বেগম নামের ভুক্তভোগী কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলছেন, গরিব মানুষ হিসেবে একটু সহায়তার আশায় টাকা দিয়েছিলাম। এখন বুঝতে পারছি সবই ছিল প্রতারণা। ধারদেনা করে টাকা দিয়েছি। এখন কীভাবে শোধ করব বুঝতে পারছি না।
এ বিষয়ে ফরিদগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হেলাল উদ্দিন বলেছেন, এ ঘটনায় লিখিত কোনো অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।







