মোবাইল চুরির অভিযোগ, সালিশে নাতিকে বাঁচাতে গিয়ে নিহত বৃদ্ধ

প্রতীকী ছবি
ময়মনসিংহের গফরগাঁও উপজেলার দক্ষিণাঞ্চলে মোবাইল চুরির অভিযোগকে কেন্দ্র করে আয়োজিত একটি সালিশ বৈঠকে নাতিকে রক্ষা করতে গিয়ে নবী হোসেন (৭০) নামের এক বৃদ্ধ নিহত হয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। নিহতের পরিবারের দাবি, স্থানীয় বিএনপির কয়েকজন নেতাকর্মীর মারধরে তার মৃত্যু হয়েছে।
রবিবার রাত ৯টার দিকে উপজেলার উস্থি ইউনিয়নের হাটপাড়া গ্রামের বাদল মার্কেট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি কার্যালয়ের সামনে এ ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে রাত সাড়ে ১২টার দিকে পাগলা থানা-পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে। সোমবার সকালে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।
প্রত্যক্ষদর্শী, পুলিশ ও নিহতের পরিবার সূত্রে জানা গেছে, প্রায় এক মাস আগে হাটপাড়া গ্রামের দুলালের ছেলে রবিনের একটি মোবাইল ফোন চুরি হয়। এ ঘটনায় একই গ্রামের শারফুল আলমের ছেলে রানা মিয়াকে (২০) সন্দেহ করা হয়। রবিবার রাত ৯টার দিকে স্থানীয় বিএনপি নেতা কামাল (৪৫), সোহেল (৪০), নয়ন (৩৮) এবং স্থানীয় ছাত্রদল নেতা কামালের ছেলে ইমনের (১৮) নেতৃত্বে পাঁচ থেকে ছয়জন রানা মিয়াকে বাড়ি থেকে নিয়ে আসেন বলে অভিযোগ। পরে বাদল মার্কেট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি কার্যালয়ের সামনে কয়েক শত মানুষের উপস্থিতিতে সালিশ বৈঠক বসে।
নিহতের ভাতিজা জলিল মিয়ার অভিযোগ, সালিশের একপর্যায়ে রানা মিয়ার দুই হাত বেঁধে তাকে মারধর করা শুরু হয়। এ সময় তাকে রক্ষা করতে এগিয়ে গেলে তার দাদা নবী হোসেনকেও মারধর করা হয়। একপর্যায়ে তিনি অচেতন হয়ে পড়লে স্থানীয় লোকজন তাকে গফরগাঁও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক নবী হোসেনকেকে মৃত ঘোষণা করেন।
গফরগাঁও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. মৌসুমী আক্তার বললেন, ইসিজি পরীক্ষার মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া গেছে, হাসপাতালে আনার আগেই নবী হোসেনের মৃত্যু হয়েছে।
পাগলা থানার ওসি মো. আমিনুল ইসলাম বলেছেন, মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।




