সংবাদ প্রকাশের জেরে সাংবাদিককে তুলে নিয়ে মারধরের অভিযোগ

ছবি: আগামীর সময়
চাঁদপুরের হাজীগঞ্জে সংবাদ প্রকাশের জেরে এক সাংবাদিককে প্রেসক্লাব কার্যালয় থেকে তুলে নিয়ে করা হয়েছে মারধর। এ ঘটনায় দুজনকে আটক করেছে পুলিশ। পাশাপাশি প্রশাসনের নির্দেশনা অমান্য করে পরিচালিত একটি আবাসিক হোটেলও করা হয়েছে সিলগালা।
আহত সাংবাদিক মহিউদ্দিন আল আজাদ হাজীগঞ্জ প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি, বাংলাদেশ নিউজ ও বাংলাদেশ খবর পত্রিকার জেলা প্রতিনিধি এবং সাপ্তাহিক ত্রিনদী পত্রিকার প্রকাশক ও সম্পাদক।
ভুক্তভোগীর অভিযোগ, মঙ্গলবার দুপুরে হাজীগঞ্জ বাজারের মাতৃমায়া আবাসিক হোটেলের মালিক মো. ফারুক হোসেন লিটনের নেতৃত্বে কয়েকজন ব্যক্তি হাজীগঞ্জ প্রেসক্লাব কার্যালয়ে গিয়ে জোর করে তুলে নিয়ে যান মহিউদ্দিন আল আজাদকে। পরে হোটেল ভবনে নিয়ে তাকে মারধর করা হয়।
খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে অভিযান চালিয়ে সাংবাদিককে উদ্ধার করে পুলিশ। এ সময় ফারুক হোসেন লিটন ও তার ছেলে তাওহীদ হোসেনকে আটক করে থানায় নেওয়া হয়।
স্থানীয়দের ভাষ্য, দীর্ঘদিন ধরে মাতৃমায়া আবাসিক হোটেল ও এর মালিকের বিরুদ্ধে রয়েছে বিভিন্ন অভিযোগ। সম্প্রতি ওই হোটেল থেকে এক বৃদ্ধার মরদেহ উদ্ধার হওয়ার পর নানা অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে হোটেলটির কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ রাখার নির্দেশ দেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা। তবে সেই নির্দেশনা অমান্য করে হোটেলটি পরিচালনা করা হচ্ছিল বলে রয়েছে অভিযোগ।
সম্প্রতি ওই হোটেলে অনৈতিক কর্মকাণ্ডের অভিযোগে এক যুবক ও এক যুবতীকে আটক করে পুলিশ। এ ঘটনায় বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হয়। অভিযোগ উঠেছে, সেই সংবাদ প্রকাশে ক্ষুব্ধ হয়েই মহিউদ্দিন আল আজাদের ওপর চালানো হয়েছে হামলা।
ঘটনার সময় সাংবাদিককে টেনে-হিঁচড়ে নিয়ে যাওয়ার বিভিন্ন স্থানের সিসিক্যামেরার ভিডিওচিত্র ছড়িয়ে পড়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে। এ ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানিয়ে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন সাংবাদিক ও সচেতন মহল।
প্রথমে হাজীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এবং পরে চাঁদপুর সদর হাসপাতালে চিকিৎসা নেন আহত সাংবাদিক। এ ঘটনায় ফারুক হোসেন লিটন, তার ছেলে তাওহীদ হোসেন, বাবা আনোয়ার হোসেনসহ অজ্ঞাতনামা ১০ থেকে ১২ জনকে আসামি করে হাজীগঞ্জ থানায় মামলা দায়ের করেছেন তিনি।
হাজীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. আব্দুল মান্নান জানান, এ ঘটনায় আটক করা হয়েছে দুজনকে। অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে অব্যাহত রয়েছে অভিযান। সিসিক্যামেরার ভিডিওচিত্র পর্যালোচনা করে হামলাকারীদের শনাক্তের কাজ চলছে।
এদিকে উপজেলা প্রশাসনের নির্দেশনা অমান্য করে আবাসিক হোটেল পরিচালনার অভিযোগে মঙ্গলবার বিকেলে ঘটনাস্থলে গিয়ে মাতৃমায়া আবাসিক হোটেলটি সিলগালা করে দেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ইবনে আল জায়েদ হোসেন।




