রংপুরে ভোটকেন্দ্র পরিবর্তন
আগামীর সময়ে প্রতিবেদন প্রকাশ, টনক নড়ল কর্তৃপক্ষের

গঙ্গাচড়ায় ভোটকেন্দ্র পরিবর্তন নিয়ে তদন্তে নির্বাচন কর্মকর্তারা
রংপুরের গঙ্গাচড়ার কোলকোন্দ ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডে ভোটকেন্দ্র পরিবর্তন নিয়ে বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। দীর্ঘদিনের ভোটকেন্দ্র সাউদপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পরিবর্তে চিলখাল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে কেন্দ্র স্থানান্তরের সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
তাদের অভিযোগ, একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক পক্ষকে নির্বাচনে সুবিধা দিতে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এর পেছনে উপজেলা নির্বাচন কার্যালয়ের কর্মকর্তাদের যোগসাজশ থাকার অভিযোগও তুলেছেন তারা। এ ঘটনায় পূর্বের ভোটকেন্দ্র পুনর্বহালের দাবিতে সম্প্রতি মানববন্ধন করেছেন এলাকাবাসী।
আগামীর সময় অনলাইনে গতকাল সোমবার ‘ভোটকেন্দ্র পরিবর্তনে নাখোশ ভোটাররা’ শিরোনামে প্রতিবেদন প্রকাশের পর বিষয়টি নিয়ে সরেজমিন তদন্ত করেছেন নির্বাচন কর্মকর্তারা।
আজ মঙ্গলবার তারা সাউদপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও চিলখাল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় পরিদর্শন করেন। এ সময় কেন্দ্র পরিবর্তনের পক্ষে ও বিপক্ষে থাকা দুই পক্ষের বক্তব্য শোনেন তারা।
অতিরিক্ত জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা আব্দুল হান্নান বলেন, ‘আমরা দুটি কেন্দ্র পরিদর্শন করেছি এবং দুই পক্ষের সঙ্গে কথা বলেছি। তারা আমাদের কাছে সঠিক তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। আমরা যা দেখেছি, তা-ই প্রতিবেদনে লিখব। এখানে কোনো পক্ষপাতিত্ব করার সুযোগ নেই।’
৩ নম্বর ওয়ার্ডের ভোটার কুড়িবিশ্বা দোলাপাড়া এলাকার বাসিন্দা আশরাফ আলী, আব্দুল আউয়াল, অ্যাডভোকেট হাফিজুল ইসলাম ও গোলাম মোস্তফা বলেন, ‘স্বাধীনতার পর থেকে আমরা সাউদপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে ভোট দিয়ে আসছি। কিন্তু এবার ওই কেন্দ্রের পরিবর্তে দুই কিলোমিটার দূরে তিস্তা নদীর পাড়ে চিলখাল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভোটকেন্দ্র স্থাপনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।’
তাঁদের অভিযোগ, বিএনপির ৩ নম্বর ওয়ার্ডের সহসভাপতি মহসিন আলী অতীতে চারবার নির্বাচনে পরাজিত হয়েছেন। নতুন কেন্দ্রটি তার বাড়ির কাছে হওয়ায় তিনি নির্বাচনে বাড়তি সুবিধা পেতে পারেন বলে আশঙ্কা করছেন তারা। তাদের মতে, হঠাৎ কেন্দ্র পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত ভোটের পরিবেশ ও নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতার সমতা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি করতে পারে।
এলাকাবাসীর দাবি, নতুন ভোটকেন্দ্রটি নদীর কাছাকাছি হওয়ায় ভোটারদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে। সেখানে ভোটারদের দাঁড়ানোর মতো পর্যাপ্ত জায়গাও নেই। শিশু, বয়স্ক ও অসুস্থ ব্যক্তিদের নিয়ে ভোট দিতে গেলে ঝুঁকির মুখে পড়তে হতে পারে। বিশেষ করে শিশুদের সঙ্গে নিয়ে ভোট দিতে গেলে নদীতীরবর্তী এলাকায় দুর্ঘটনার আশঙ্কা রয়েছে। এ কারণে পূর্বের ভোটকেন্দ্র পুনর্বহালের দাবিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিত আবেদন করেছেন তারা।
কোলকোন্দ ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান শরিফুল ইসলাম বলেন, ‘সীমানা পরিবর্তন নিয়ে নির্বাচন কমিশন অফিস থেকে কোনো চিঠি আসেনি। এমনকি বিষয়টি আমাদের জানায়ওনি। তারা কার সঙ্গে পরামর্শ করে নির্বাচনী সীমানা পরিবর্তন করেছে, এটা নির্বাচন কর্মকর্তারা এখন এড়িয়ে যাচ্ছেন।’
অন্যদিকে, চিলখাল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে উপস্থিত স্থানীয় বাসিন্দা হাবিবুর রহমান ও আব্দুল হালিম বলেন, কেন্দ্র পরিবর্তনের বিষয়ে কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত রয়েছে। তবে ভোটারদের যাতায়াতের সুবিধা ও ভোট গ্রহণের পরিবেশ বিবেচনায় নেওয়া প্রয়োজন।
রংপুরের অতিরিক্ত আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা রেজাউল করিম বলেন, ‘আমরা সরেজমিনে দুটি কেন্দ্র পরিদর্শন করেছি। এ বিষয়ে দুই পক্ষের বক্তব্য শুনেছি। সবকিছু পর্যালোচনা করে তদন্ত প্রতিবেদন দেওয়া হবে। নির্বাচন কমিশনই এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেবে।’
উপজেলা নির্বাচন কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট কেন্দ্রে মোট ভোটার ২ হাজার ২৭০ জন। তাঁদের মধ্যে পুরুষ ১ হাজার ১৮১ জন এবং নারী ১ হাজার ৮৯ জন।



