বাংলাবান্ধা জিরো পয়েন্ট থেকে ‘মার্চ ফর ইনসাফ' কর্মসূচি শুরু

শহীদদের স্মরণ ও ন্যায়বিচারের প্রত্যয়ে দেশের উত্তরের প্রবেশদ্বার পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ার বাংলাবান্ধা জিরো পয়েন্ট থেকে ‘মার্চ ফর ইনসাফ’ কর্মসূচি শুরু করেছে ইনকিলাব মঞ্চ। তিন দফা দাবি নিয়ে ৩৬ দিনের এ কর্মসূচিতে বাংলাবান্ধা থেকে পায়ে হেঁটে টেকনাফ পর্যন্ত যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে সংগঠনটি।
বুধবার (৭ অক্টোবর) বেলা ১১টায় বাংলাবান্ধা জিরো পয়েন্ট থেকে পদযাত্রার উদ্বোধন করেন ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক আবদুল্লাহ আল জাবের।
কর্মসূচির শুরুতে বাংলাবান্ধা জিরো পয়েন্টে দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়। পরে পদযাত্রা শুরু করে বন্দর এলাকার সাধারণ মানুষের মধ্যে দাবিসংবলিত লিফলেট বিতরণ করেন ইনকিলাব মঞ্চের নেতাকর্মীরা।
আয়োজকরা জানান, কর্মসূচির অংশ হিসেবে প্রতিদিন প্রায় ২০ কিলোমিটার পথ পায়ে হেঁটে অতিক্রম করা হবে। প্রথম দিনে বাংলাবান্ধা থেকে প্রায় ২১ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে তেঁতুলিয়ায় গিয়ে দিনের কর্মসূচি শেষ করার পরিকল্পনা রয়েছে। পথে বিভিন্ন বাজারে লিফলেট বিতরণ করে সাধারণ মানুষের কাছে তাদের দাবিগুলো তুলে ধরা হবে।
ইনকিলাব মঞ্চের ঘোষিত তিন দফা দাবির মধ্যে রয়েছে-শহীদ শরিফ ওসমান হাদীর হত্যার বিচার নিশ্চিত করা, গণভোটের গণরায়ের আলোকে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন এবং জুলাই, শাপলা ও পিলখানা গণহত্যার বিচার নিশ্চিত করা। একই সঙ্গে ভারতে অবস্থানরত হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের দেশে ফিরিয়ে এনে বিচারের আওতায় আনার দাবিও জানানো হয়েছে।
কর্মসূচিতে স্থানীয়দের পাশাপাশি ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক আবদুল্লাহ আল জাবেরসহ ৩০ সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল অংশ নেয়।
আয়োজকদের পরিকল্পনা অনুযায়ী, বাংলাবান্ধা থেকে শুরু হওয়া ‘মার্চ ফর ইনসাফ’ পদযাত্রাটি তেঁতুলিয়া হয়ে দেশের বিভিন্ন এলাকা অতিক্রম করে ডিসেম্বরের মধ্যে টেকনাফে পৌঁছানোর কথা রয়েছে। এরপর আগামী ১৮ ডিসেম্বর ঢাকার শাহবাগে মহাসমাবেশ করার ঘোষণা দিয়েছে সংগঠনটি।
উদ্বোধনী বক্তব্যে ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক আবদুল্লাহ আল জাবের বলেন, শহীদ শরিফ ওসমান হাদী হত্যার প্রায় ১০ মাস পেরিয়ে গেলেও হত্যাকাণ্ডের পেছনে জড়িতদের বিষয়ে সরকারের পক্ষ থেকে এখনো সুস্পষ্ট বার্তা পাওয়া যায়নি। ডিসেম্বরের মধ্যে হত্যাকাণ্ডে সরাসরি জড়িতদের ভারত থেকে ফিরিয়ে এনে বিচারের মুখোমুখি করার দাবি জানান তিনি।
জাবের অভিযোগ করেন, বাংলাদেশে সংঘটিত বিভিন্ন হত্যাকাণ্ড ও সহিংসতার সঙ্গে ভারতের ভূমিকা রয়েছে। তিনি আরও বলেন, ইনকিলাব মঞ্চের অবস্থান কোনো নির্দিষ্ট দেশের বিরুদ্ধে নয়; তাদের আন্দোলন আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে। বাংলাদেশে অন্য কোনো রাষ্ট্র আধিপত্য প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করলেও তারা এর বিরোধিতা করবেন।
শরিফ ওসমান হাদী হত্যাকে সাধারণ কোনো হত্যাকাণ্ড হিসেবে না দেখে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ঘটনা হিসেবে বিবেচনার দাবি জানান তিনি। একই সঙ্গে হত্যাকাণ্ডের তদন্ত ও বিচার দ্রুত সম্পন্ন করতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।
এ ছাড়া শাপলা চত্বর, পিলখানা ও জুলাইয়ের হত্যাকাণ্ডের বিচার নিশ্চিত করার দাবি তুলে জাবের বলেন, এসব ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিচারের আওতায় আনতে হবে। পাশাপাশি জুলাই সনদ বাস্তবায়ন এবং গণভোটের রায় কার্যকর করার দাবি জানান তিনি।
ইনকিলাব মঞ্চের নেতারা বলেন, ঘোষিত দাবিগুলো বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি চালিয়ে যাবেন তারা। ‘মার্চ ফর ইনসাফ’-এর মাধ্যমে জনসমর্থন গড়ে তোলার পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানানো হচ্ছে।
তবে দাবি বাস্তবায়নে গড়িমসি কিংবা আন্দোলনকে ভিন্ন খাতে নেওয়ার চেষ্টা হলে জনগণকে সঙ্গে নিয়ে প্রতিরোধ গড়ে তোলার হুঁশিয়ারিও দেন ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক।





