কক্সবাজার
হামের দাপট কমলেও বাড়ছে ডেঙ্গু

ছবি: আগামীর সময়
কক্সবাজারে সংক্রামক রোগ হামের প্রকোপ এখনও ডেঙ্গুর চেয়ে বেশি। তবে স্বাস্থ্য বিভাগের উদ্বেগ, হামে আক্রান্তের সংখ্যা ধীরে ধীরে কমলেও মশাবাহিত রোগ ডেঙ্গুর সংক্রমণ প্রতিদিনই বাড়ছে।
গত ২৪ ঘণ্টায় জেলায় হামে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৩৪ জন। একই সময়ে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছেন ১৯ জন।
বুধবার (১৫ জুলাই) কক্সবাজার সিভিল সার্জন কার্যালয়ের পাঠানো হাম ও ডেঙ্গু পরিস্থিতি বিষয়ক হালনাগাদ প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।
জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয়ের পরিসংখ্যান কর্মকর্তা পঙ্কজ পাল জানিয়েছেন, গত ২৪ ঘণ্টায় হামে আক্রান্ত ৩৪ জনের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ১১ জন টেকনাফ উপজেলার বাসিন্দা। এ ছাড়া উখিয়ায় ৬ জন, মহেশখালী ও রামুতে ৪ জন করে, চকরিয়া, কক্সবাজার পৌরসভা ও পেকুয়ায় ২ জন করে এবং কুতুবদিয়া, কক্সবাজার সদর ও রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর একজন করে রোগী ভর্তি হয়েছেন।
একই সময়ে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছেন ১৯ জন। এর মধ্যে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর রোগীই সবচেয়ে বেশি, ৮ জন। এ ছাড়া টেকনাফে ৫ জন এবং চকরিয়া, মহেশখালী, ঈদগাঁও ও কক্সবাজার পৌরসভায় একজন করে রোগী শনাক্ত হয়েছেন। জেলার অন্য কোনো উপজেলায় গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হয়নি।
স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের ১৫ জুলাই পর্যন্ত কক্সবাজারে মোট ৪ হাজার ৬৩৫ জন হামে আক্রান্ত হয়েছেন। এ রোগে এ পর্যন্ত ২০ জনের মৃত্যু হয়েছে।
অন্যদিকে একই সময়ে জেলায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছেন ৮৭৪ জন। তবে স্বস্তির বিষয় হলো- এ বছর এখন পর্যন্ত ডেঙ্গুতে কোনো মৃত্যুর ঘটনা ঘটেনি। আক্রান্তদের মধ্যে ৫৮৭ জনই রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর সদস্য। তবে স্বাস্থ্য বিভাগ জানিয়েছে, রোহিঙ্গাদের এই পরিসংখ্যান ২৭ জুন পর্যন্ত হালনাগাদ করা হয়েছে।
কক্সবাজারের সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ ছাবের বলেছেন, হামে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা দিনদিন কমছে। তবে ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা পাল্লা দিয়ে বাড়ছে, যা আমাদের জন্য নতুন উদ্বেগের কারণ।
তিনি জানালেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধে জেলা প্রশাসন, স্বাস্থ্য বিভাগ, স্থানীয় সরকার বিভাগসহ বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের সমন্বয়ে ব্যাপক সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। ইতোমধ্যে জেলায় সচেতনতামূলক র্যালি, লিফলেট বিতরণ, প্রচারণা ও জনসচেতনতামূলক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। প্রত্যন্ত অঞ্চল পর্যন্ত এসব কার্যক্রম সম্প্রসারণ করা হয়েছে। প্রতিটি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তার কার্যালয় এবং স্থানীয় প্রশাসনের সমন্বয়ে ডেঙ্গু প্রতিরোধমূলক কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। পাশাপাশি বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানেও শিক্ষার্থীদের মধ্যে সচেতনতা বাড়াতে বিশেষ কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।
তিনি আরও বলেছেন, সরকার ডেঙ্গু প্রতিরোধে যেসব নির্দেশনা দিয়েছে, সেগুলো মাঠপর্যায়ে বাস্তবায়নের সর্বোচ্চ চেষ্টা করা হচ্ছে। তবে জনগণের সচেতনতা ছাড়া ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণ সম্ভব নয়।
স্বাস্থ্য বিভাগের মতে, বর্ষা মৌসুমে জমে থাকা পরিষ্কার পানিতে এডিস মশার বংশবিস্তার বেড়ে যাওয়ায় ডেঙ্গুর ঝুঁকিও বাড়ছে। তাই বাসাবাড়ি ও আশপাশের পরিবেশ পরিষ্কার রাখা, জমে থাকা পানি অপসারণ এবং জ্বর দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে স্বাস্থ্য বিভাগ।





