মাদকবিরোধী কমিটির সদস্যদের প্রাণনাশের হুমকি

কারাগারে পাঠানো স্বেচ্ছাসেবক দলনেতা মাসুদুল হাসান শামীম। ছবি: আগামীর সময়
গাজীপুরের কালীগঞ্জে মাদকবিরোধী কার্যক্রমে অংশ নেওয়া একটি স্থানীয় কমিটির সদস্যদের প্রাণনাশের হুমকি, চাঁদা দাবি এবং এলাকায় গুলিবর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় থানায় লিখিত অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে এক স্বেচ্ছাসেবক দল নেতাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
লিখিত অভিযোগে বলা হয়েছে, গত ১১ জুলাই মোক্তারপুর ইউনিয়নের নোয়াপাড়া গ্রামে ২০৫ পিস ইয়াবাসহ রোমান (৩০) নামে এক যুবককে আটক করে পুলিশের হাতে তুলে দেন স্থানীয়রা। পরদিন কালীগঞ্জ থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮-এর ৩৬(১) সারণির ১০(ক)/৪১ ধারায় মামলা হয়। ওই মামলায় রোমানসহ আবিদ (২২) ও শাহিন (২৫) নামে আরও দুজনকে আসামি করা হয়।
মামলার বাদী ও পোটান গ্রামের বাসিন্দা মো. মাহফুজুর রহমান নাইম বলেন, মামলার পর থেকেই মাদক নির্মূল কমিটির সদস্যদের ভয়ভীতি দেখানো শুরু হয়। তার ভাষ্য, আসামিদের জামিনের খরচ ও মাদক ব্যবসার ক্ষতির অজুহাতে কমিটির সদস্যদের কাছে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয়।
এর প্রতিবাদে গত ১৪ জুলাই বিকেল ৪টায় নোয়াপাড়া চাররাস্তার মোড়ে প্রতিবাদ সমাবেশের আয়োজন করে মাদক নির্মূল কমিটি। সমাবেশ শুরুর আগেই রুহুল আমিন, তার ছেলে আবিদ, শাহিন, সেলিম, মাসুদুল হাসান শামীমসহ ২০ থেকে ২৫ জন অজ্ঞাত ব্যক্তি ২টি মাইক্রোবাস-প্রাইভেটকার ও ৮/১০টি মোটরসাইকেল নিয়ে এলাকায় মহড়া দেন। পরে বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে তারা নোয়াপাড়া চাররাস্তার মোড়ে এসে কয়েক রাউন্ড গুলি ছোড়েন। একই সঙ্গে মাদক নির্মূল কমিটির সদস্যদের নাম ধরে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয় বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
এ ঘটনায় মাহফুজুর রহমান নাইম রুহুল আমিন, আবিদ, শাহিন, সেলিম, মাসুদুল হাসান শামীমসহ অজ্ঞাতনামা ২০ থেকে ২৫ জনকে অভিযুক্ত করে কালীগঞ্জ থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।
এদিকে, অভিযুক্তদের মধ্যে স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা মাসুদুল হাসান শামীমকে বুধবার কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত।
বিষয়টি নিশ্চিত করে কালীগঞ্জ থানার ওসি মো. জাকির হোসেন বলেন, ‘অভিযোগটি আমরা গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করছি। ঘটনার প্রকৃত সত্য উদঘাটনে পুলিশ প্রয়োজনীয় তথ্য-প্রমাণ সংগ্রহ করছে। কেউ আইনের ঊর্ধ্বে নয়। তদন্তে যার বিরুদ্ধে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যাবে, তার বিরুদ্ধেই আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একই সঙ্গে এলাকায় যাতে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি সৃষ্টি না হয়, সে জন্য পুলিশের নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।’
প্রসঙ্গত, কয়েক মাস আগে নোয়াপাড়া, বড়হড়া ও পোটান গ্রামের বাসিন্দারা এলাকায় মাদকের বিস্তার রোধে একটি মাদক নির্মূল কমিটি গঠন করেন। কমিটির সদস্যরা সচেতনতামূলক কার্যক্রমের পাশাপাশি মাদক কারবারিদের বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সহযোগিতা করছেন। সাম্প্রতিক এ ঘটনার পর এলাকায় নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। স্থানীয়দের প্রত্যাশা, নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন করে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।




