টিআরএম চালুর দাবি

ছবি: আগামীর সময়
দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতা সংকটের প্রতীক হয়ে উঠেছে ভবদহ। তবে নদী পুনঃখনন কাজে দৃশ্যমান অগ্রগতি স্থানীয়দের মধ্যে ফিরিয়েছে স্বস্তি। অবশ্য, বিশেষজ্ঞদের মতে, কেবল নদী খনন ভবদহ সমস্যার স্থায়ী সমাধান নয়; খনন শেষ হওয়ার পর দ্রুত টাইডাল রিভার ম্যানেজমেন্ট (টিআরএম) চালু করা না হলে কয়েক বছরের মধ্যেই পরিস্থিতি আবার ফিরে যেতে পারে আগের অবস্থায়। সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধানে পুনঃখনন করা হচ্ছে ভবদহ অঞ্চলের পাঁচটি নদী। পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) জানিয়েছে, জুনের মধ্যে কাজ শেষ করার লক্ষ্য নিয়ে হরিহর, হরি-তেলিগাতি, আপার ভদ্রা, টেকা ও শ্রী নদীর মোট ৮১ দশমিক পাঁচ কিলোমিটার অংশে পলি অপসারণ চলছে।
স্থানীয়দের ভাষ্য, ২০১৩ সালের পর কোনো বিলে টিআরএম চালু না থাকায় নদীগুলোয় পলি জমে নাব্য কমেছে। ফলে পানি নিষ্কাশন বাধাগ্রস্ত হয়ে প্রতি বছর বর্ষায় প্লাবিত হচ্ছে বিল ও আশপাশের গ্রাম। এতে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে কৃষি উৎপাদন, শিক্ষা এবং স্বাভাবিক জীবনযাত্রা। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ভবদহ অঞ্চলের তিন উপজেলায় কৃষক রয়েছেন অন্তত ৫০ হাজার। এক সময় যেখানে প্রায় ২৪ হাজার ৯০৪ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদ হতো, সেখানে চলতি মৌসুমে জলাবদ্ধতার কারণে আবাদ হয়নি ৭ হাজার ২৪৩ হেক্টর জমি।
অভয়নগর উপজেলার ডহর মসিহাটি গ্রামের নীলকণ্ঠ মণ্ডল বললেন, ‘বোকড় বিলে বাবার জমি ছিল ১২ বিঘা। জলবদ্ধতার কারণে সেখানে হয় না ফসল। বাধ্য হয়ে পরিবার নিয়ে এলাকা ছেড়েছি। যশোর শহরে ছোটখাটো কাজ করে নির্বাহ করছি জীবিকা।’
টিআরএম চালুর যৌক্তিকতা তুলে ধরেছেন ভবদহ পানি নিষ্কাশন সংগ্রাম কমিটির আহ্বায়ক রণজিৎ বাওয়ালী। তার মতে, চলমান প্রকল্প সময়মতো শেষ হলে মানুষ অন্তত কয়েক বছরের জন্য জলাবদ্ধতা থেকে মুক্তি পাবে। তবে নদীর নাব্য ধরে রাখতে খনন শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই চালু করতে হবে টিআরএম। অন্যথায় আবারও পলিতে ভরাট হয়ে যাবে নদী।
অভয়নগর উপজেলার পায়রা ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান ফিরোজ আলমও একই মত প্রকাশ করে বলেছেন, ‘দীর্ঘমেয়াদি সমাধানের জন্য টিআরএম বাস্তবায়নের বিকল্প নেই।’
এ অবস্থায় টিআরএমকেই স্থায়ী সমাধানের পথ হিসেবে দেখছেন যশোর-৪ আসনের সংসদ সদস্য মো. গোলাম রসুলও। তিনি বললেন, ‘ভবদহ দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সমস্যা। বর্ষা এলেই মানুষ আতঙ্কে থাকে। মুক্তেশ্বরী, শ্রী ও হরি নদীর নাব্য ফিরিয়ে আনার মাধ্যমে স্থায়ী সমাধান সম্ভব, আর সেক্ষেত্রে টিআরএমই সবচেয়ে কার্যকর পদ্ধতি।’
পাউবো যশোর কার্যালয়ের নির্বাহী প্রকৌশলী পলাশ ব্যানার্জী আশা করেন, প্রকল্পটি শেষ হলে জলাবদ্ধতা নিরসনে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। তবে এ অঞ্চলের মানুষের প্রত্যাশা, চলমান খননকাজ যেন অতীতের প্রকল্পগুলোর মতো সাময়িক সমাধানে সীমাবদ্ধ না থাকে। তাদের মতে, নদী পুনঃখননের পাশাপাশি টিআরএমই পারে এই দীর্ঘস্থায়ী সংকট থেকে স্থায়ী মুক্তি দিতে।




