বাউফলে দুই বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সংঘর্ষ, আহত ১০

বাউফল থানা
পটুয়াখালীতে পূর্ব বিরোধের জেরে দুই বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে এক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকসহ অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন। আহত দুই শিক্ষার্থীকে উন্নত চিকিৎসার জন্য পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) বেলা পৌনে ১১টার দিকে বাউফলের অলিপুরা এনামুল হক মামুন মাধ্যমিক বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে এ ঘটনা ঘটে।
আহতদের মধ্যে সজীব (১৫) ও আরাফাত (১৫) নামে দুই শিক্ষার্থীর মাথায় আঘাত পেয়েছেন। তাদের পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। অন্য আহতদের স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।
ঘটনার পর বাউফল সরকারি মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ৯ শিক্ষার্থীকে থানায় নিয়ে যায় পুলিশ। পরে তাদের বয়স কম হওয়ায় মুচলেকা নিয়ে অভিভাবকদের জিম্মায় দেওয়া হয়।
বিদ্যালয় সূত্র ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, কয়েক দিন আগে পূর্ব যৌতা গ্রামে ফুটবল খেলাকে কেন্দ্র করে দুই বিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষার্থীর মধ্যে মারামারি হয়। ওই ঘটনার জের ধরে বৃহস্পতিবার বাউফল সরকারি মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির ১৫ থেকে ২০ জন শিক্ষার্থী বিদ্যালয়ের ইউনিফর্ম পরে অলিপুরা এনামুল হক মামুন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে যায়।
প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য, ওই সময় বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুল মান্নান মোটরসাইকেলে করে ক্যাম্পাসে প্রবেশ করছিলেন। একসঙ্গে এত শিক্ষার্থীকে দেখে তিনি তাদের বিদ্যালয়ের বাইরে অবস্থানের কারণ জানতে চান। শিক্ষার্থীরা নিজেদের বাউফল সরকারি মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী পরিচয় দিলে তিনি সেখানে আসার কারণ জানতে চান। একপর্যায়ে সায়েম (১৪) নামে এক শিক্ষার্থী পেছন থেকে প্রধান শিক্ষককে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেয়। এতে তিনি আহত হন।
পরে বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা এগিয়ে এলে দুই পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া শুরু হয়। একপর্যায়ে তা সংঘর্ষে রূপ নেয়।
অলিপুরা এনামুল হক মামুন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুল মান্নান বলেন, ‘ফুটবল খেলাকে কেন্দ্র করে আগের বিরোধের জের ধরে ১৫ থেকে ২০ জন শিক্ষার্থী আমাদের বিদ্যালয়ে আসে। তাদের এখানে আসার কারণ জানতে চাইলে একজন পেছন থেকে আমাকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেয়। এতে আমি আহত হই। পরে দুই পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও সংঘর্ষ হয়। এতে আমার বিদ্যালয়ের অন্তত ১০ শিক্ষার্থী আহত হয়েছে।’
বাউফল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ই আর নাঈম শাকিল জানান, আহত সজীব ও আরাফাতের মাথায় জখম রয়েছে। তাদের উন্নত চিকিৎসার জন্য পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
বাউফল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সিরাজুল ইসলাম বলেন, ‘ঘটনায় জড়িত সন্দেহে ৯ জন শিক্ষার্থীকে থানায় আনা হয়েছিল। তাদের বয়স কম হওয়ায় মুচলেকা নিয়ে অভিভাবকদের জিম্মায় দেওয়া হয়েছে।’



