স্কুল বন্ধ করে বিদ্যালয় মাঠে বিএনপি নেতার মেলা

ছবি: আগামীর সময়
কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়া উপজেলার একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মাঠে স্কুল চলাকালীন সময়েই টানা দুই দিন ধরে মেলা বসানোয় ভেঙে পড়েছে শিক্ষা কার্যক্রম। অভিযোগ উঠেছে, স্থানীয় এক বিএনপি নেতার নেতৃত্বে কোনো ধরনের অনুমতি ছাড়াই বিদ্যালয় মাঠ দখল করে এই মেলার আয়োজন।
উপজেলার চন্ডিপাশা ইউনিয়নের ৭৭ নং বড় আজলদী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মাঠে রবিবার থেকে মেলা বসানো হয়। ফলে স্বাভাবিক পাঠদান ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের উপস্থিতিও কমে গেছে আশঙ্কাজনকভাবে।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, বিদ্যালয়ের অফিস কক্ষে শিক্ষকরা উপস্থিত থাকলেও শ্রেণীকক্ষগুলো প্রায় ফাঁকা। ৪র্থ শ্রেণিতে মাত্র চারজন শিক্ষার্থীকে পাওয়া যায়, অন্য শ্রেণীগুলোতে উপস্থিতি ছিল না বললেই চলে। শিক্ষকদের উপস্থিতি থাকলেও শিক্ষার্থীদের অনুপস্থিতিতে কার্যত ক্লাস কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়ে।
বিদ্যালয় সূত্রে জানা যাচ্ছে, প্রতিষ্ঠানটিতে মোট ১৪১ জন শিক্ষার্থী ও ৮ জন শিক্ষক রয়েছেন। কিন্তু মেলার কারণে অধিকাংশ শিক্ষার্থী আসতে পারছে না বিদ্যালয়ে। অনেক অভিভাবকও শিশুদের নিরাপত্তা ও পড়াশোনার পরিবেশ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে বিরত থাকছেন সন্তানদের স্কুলে পাঠানো থেকে।
বিদ্যালয় মাঠ দখল করে মেলা আয়োজনের ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন অভিভাবকরা। তাদের আশঙ্কা, এ ধরনের ঘটনা চলতে থাকলে শিশুদের নিয়মিত পড়াশোনা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হবে এবং দীর্ঘমেয়াদে তাদের শিক্ষাজীবনে ফেলবে নেতিবাচক প্রভাব।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক তাপস সাহা জানাচ্ছেন, স্থানীয় একটি প্রভাবশালী মহল কোনো অনুমতি ছাড়াই মেলা বসিয়েছে বিদ্যালয় মাঠে। চাকরির অবস্থান ও বাস্তব পরিস্থিতির কারণে আমি সরাসরি বাধা দিতে পারছি না। তবে বিষয়টি অবহিত করেছি উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে।
পাকুন্দিয়া উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা দৌলত হোসেন খান বলছেন, বিদ্যালয় মাঠে জোরপূর্বক বসানো হয়েছে মেলা। যা সম্পূর্ণ অননুমোদিত। এতে শিক্ষা কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। বিষয়টি জানানো হয়েছে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে।
অন্যদিকে মেলা কমিটির সভাপতি ও ইউনিয়ন বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক আমিন কাজী দাবি করছেন, এটি মূলত একদিনের ছোট একটি মেলা ছিল। যা এখন ভেঙে ফেলা হচ্ছে।
এ বিষয়ে পাকুন্দিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুপম দাস বলছেন, বিষয়টি আজকে জেনেছি। দ্রুত ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্ট ইউপি চেয়ারম্যান ও থানার ওসিকে দেওয়া হয়েছে প্রয়োজনীয় নির্দেশ।
