জামালপুর
হাট কাঁপাবে ৩২ মণের ‘জমিদার’

ছবি: আগামীর সময়
নাম ধরে ডাকলেই সাড়া দেয়। দাঁত দেখাতে বললে দাঁত দেখায়। বাসি খাবার মুখে তোলে না। তার চলনে-বলনে জমিদারি ভাব। স্বভাবগত কারণেই নাম রাখা হয়েছে জমিদার।
এবার জামালপুরের কোরবানি ঈদে হাট কাঁপাতে আসছে বিশাল আকৃতির গরু জমিদার। নামের মতোই তার জমিদারি গড়ন আর বিশাল দেহ। গরুটির ওজন ১ হাজার ৩০০ কেজি, অর্থাৎ ৩২ মণেরও বেশি। প্রতিদিনেই জমিদারকে দেখতে ভিড় করছেন মানুষ।
জমিদার শুধু আকারেই বড় নয়, তার জীবন যাপনও একেবারেই জমিদারি। প্রতিদিন তার খাবারের পেছনে খরচ হয় প্রায় ২ হাজার টাকা। বাসি খাবার একদমই খায় না, শুধু খায় টাটকা খাবার। এ কারণেই তার নাম রাখা হয়েছে ‘জমিদার’।
গরুটির মালিক জেলার মেলান্দহের মাহমুদপুর এলাকার খামারি রফিকুল ইসলামের।ফিজিয়ান জাতের গরুটিকে সন্তানের মতোই যত্ম করে বড় করেছেন। চার বছর আগে তার গোয়াল ঘরেই জন্ম নিয়েছিল জমিদার।
খামারি রফিকুল ইসলাম জানালেন, প্রতিদিন গরুটির পেছনে প্রায় দুই হাজার টাকা খরচ হয়। খাবারের তালিকায় থাকে কলা, হাঁস ও মুরগির ডিম, ছোলা, দেশি ঘাস, ভুট্টা ও গমের ভুসি। এ ছাড়া তাকে নিয়মিত গোসল করানো হয় সাবান, শ্যাম্পু দিয়ে।
গত বছর ৬ লাখ ২০ হাজার টাকা দাম হয়েছিল, কিন্তু বিক্রি করিনি। ইচ্ছা ছিল আরও বড় করে বিক্রি করার। এবার ভালো দাম পেলেই বিক্রি করব। জমিদারের দাম হাঁকাচ্ছেন ১৪ লাখ টাকা, যোগ করেন তিনি।
রফিকুল ইসলামের স্ত্রী রোজিনা বেগমের ভাষ্য, সন্তানের মতো করেই গরুটি বড় করেছি। পরিবারের সবাই মিলে যত্ন করেছি।
জামালপুর জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা (অতিরিক্ত দায়িত্ব) ডা. এ টি এম হাবিবুর রহমান বলেছেন, ‘ছোট খামারিরাও এখন বড় আকৃতির গরু পালন করে লাভবান হচ্ছেন। প্রাণিসম্পদ বিভাগ থেকে গরুটির নিয়মিত খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে এবং প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। সরকারিভাবে অনলাইনে পশু বিক্রির প্ল্যাটফর্ম চালু রয়েছে। এ ছাড়া জেলায় বিভিন্ন পশুর হাটও রয়েছে।’




