৭০ পরিবারের চলাচলের রাস্তা দুই যুগ ধরে পুকুরে

রাস্তা বিলীন হওয়া পুকুর— সংগৃহীত
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইলে প্রায় ৭০ পরিবারের চলাচলের একমাত্র রাস্তার প্রায় ২০০ ফুট দুই যুগ আগে বিলীন পুকুরে। এতে দীর্ঘদিন ধরে চরম দুর্ভোগে শাহজাদাপুর ইউনিয়নের নিয়ামতপুর গ্রামের রামকুমার মেম্বারপাড়ার বাসিন্দারা।
স্থানীয়দের অভিযোগ, শ্রীধর নাথের পুকুরের দক্ষিণ পাশের রাস্তাটি পানিতে বিলীন হওয়ার পর থেকে এর পুনর্নির্মাণে কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। বাধ্য হয়ে ওই ৭০ পরিবারের মানুষ পাশের বাড়ির ওপর দিয়ে বিকল্প পথে চলাচল করছেন।
ভুক্তভোগী বাসিন্দা অসিত কুমার সরকার বললেন, ‘রাস্তাটি পুকুরে বিলীন হওয়ার পর গত ২৪ বছর ধরে পাশের বাসিন্দা সুভাষ চন্দ্র সরকার ও ভগিরত সরকারের বাড়ির ওপর দিয়ে যাতায়াত করতে হচ্ছে। এই দীর্ঘদিনের ভোগান্তির কথা বিবেচনা করে প্রতিবেশী সুভাষ চন্দ্র সরকার নিজের বসতবাড়ির ওপর দিয়ে চলাচলের সুযোগ করে দিয়েছেন।
সুভাষ চন্দ্র সরকারের ভাষ্য, প্রতিবেশীদের চলাচলের অসুবিধা বিবেচনা করে আমার বাড়ির ওপর দিয়ে চলাচলের সুবিধা করে দিয়েছি।
একই গ্রামের বাসিন্দা ও শ্যামগোসাই মন্দিরের সাধারণ সম্পাদক জগদীশ সরকার জানান, রাস্তাটি পুনর্নির্মাণের জন্য সুভাষ সরকারের কাছে কিছু জায়গা চাওয়া হয়েছিল এবং তিনি তা দিতে সম্মত হয়েছেন। তবে শুধু মাটি ভরাট করলেই হবে না উল্লেখ করে তিনি বলেন, রাস্তাটি টেকসই করতে রিটেইনিং দেয়াল নির্মাণের পাশাপাশি মাটি ভরাট করতে হবে। অন্যথায় উন্নয়ন হলেও রাস্তা রক্ষা করা সম্ভব হবে না।
রামকুমার মেম্বারপাড়ার বাসিন্দা হীরালাল সরকার, বিশ্বজিৎ সরকার, কৃষক যতিশ সরকার ও লালমোহন সরকার বলেছেন, ‘৭০ পরিবারের স্বার্থে রাস্তাটি দ্রুত পুনর্নির্মাণ করা জরুরি।’
শাহজাদাপুর ইউনিয়ন পরিষদের নিয়ামতপুর-ধাউরিয়া ওয়ার্ডের সদস্য অমরেশ সরকার বলেন, বরাদ্দ পাওয়া গেলে রাস্তাটি পুনর্নির্মাণের কাজ করা সম্ভব হবে।
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. সিফাত বিন রহমান বলেছেন, ‘আমি বিলীন হওয়া রাস্তাটি সরেজমিনে পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় প্রস্তাবনা জমা দেব।’





