জনস্বার্থেই খাল পুনঃখনন ও সড়ক উন্নয়ন : এমপি মিলন

রাজশাহীর পবা উপজেলায় খাল পুনঃখনন এবং সড়ক প্রশস্তকরণ ও উন্নয়ন কাজের উদ্বোধন করেছেন রাজশাহী-৩ (পবা-মোহনপুর) আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ শফিকুল হক মিলন। শনিবার বড়গাছী ইউনিয়নের দাদপুর চকপাড়া বটগাছ থেকে ফলিয়ারবিল পর্যন্ত খাল পুনঃখনন এবং নওহাটা পৌরসভার বায়া-কাশিম বাজার-তানোর সড়কের উন্নয়ন কাজের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়।
ফলক উন্মোচন ও মাটি কাটার মাধ্যমে খাল পুনঃখনন প্রকল্পের কাজ শুরু করেন এমপি মিলন। পরে ৯ হাজার ১০০ মিটার সড়ক প্রশস্তকরণ, শক্তিশালীকরণ ও পুনর্বাসন কাজেরও উদ্বোধন করেন তিনি।
উদ্বোধনী বক্তব্যে অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ শফিকুল হক মিলন উল্লেখ করেন, এসব উন্নয়নকাজ কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর স্বার্থে নয়। জনগণের কল্যাণ, কৃষির উন্নয়ন এবং স্বনির্ভর বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যেই প্রকল্পগুলো বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।
তিনি তুলে ধরেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান দেশের কৃষি ও জনকল্যাণে প্রথম খাল খনন কর্মসূচি চালু করেছিলেন। পরবর্তীতে সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া-এর সময়েও এ কার্যক্রম চলমান ছিল। তবে দীর্ঘদিন নানা অনিয়ম ও অবহেলায় এসব উদ্যোগ থেমে যায়। বর্তমানে জনগণের স্বার্থে আবারও খাল পুনঃখনন কার্যক্রম চালু করা হয়েছে।
তার ভাষ্য, জনগণ ভোট দিয়ে জনপ্রতিনিধিদের মানুষের কল্যাণে কাজ করার দায়িত্ব দিয়েছে। তাই ব্যক্তি স্বার্থের ঊর্ধ্বে উঠে উন্নয়ন কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হবে। উন্নয়নকাজে কোনো ধরনের প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হলে স্থানীয় প্রশাসন ও জনগণকে সঙ্গে নিয়ে তা সমাধান করা হবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
খাল পুনঃখননের সুফল সম্পর্কে এমপি মিলন জানান, বর্ষাকালে পানি নিষ্কাশন সহজ হবে এবং কৃষিজমি জলাবদ্ধতা থেকে রক্ষা পাবে। শুষ্ক মৌসুমে খালে সংরক্ষিত পানি সেচকাজে ব্যবহার করতে পারবেন কৃষকরা। এতে কৃষি উৎপাদন বাড়বে এবং খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জনে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে। পাশাপাশি পানির সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করা গেলে কৃষির উন্নয়নের সঙ্গে পরিবেশের ভারসাম্যও রক্ষা করা সম্ভব হবে।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন পবা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ইবনুল আবেদীন। তিনি উল্লেখ করেন, খাল পুনঃখনন ও সড়ক উন্নয়ন প্রকল্প স্থানীয় মানুষের জীবনমান উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। খাল খননের ফলে কৃষকরা সেচ সুবিধা পাবেন এবং বর্ষায় পানি নিষ্কাশন সহজ হবে। অন্যদিকে সড়ক প্রশস্ত ও শক্তিশালী হলে যোগাযোগব্যবস্থা আরও নিরাপদ ও গতিশীল হবে।
পবা উপজেলা প্রকৌশলী মকবুল হোসেন জানান, স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি)-এর উদ্যোগে দাদপুর চকপাড়া বটগাছ থেকে ফলিয়ারবিল পর্যন্ত ১ হাজার ৫১ মিটার খাল পুনঃখনন প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। প্রায় ২০ লাখ টাকা ব্যয়ে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে মেসার্স শিমুল রাকা ট্রেডার্স।
এদিকে নওহাটা পৌরসভার বায়া-কাশিম বাজার-তানোর সড়কের প্রশস্তকরণ ও শক্তিশালীকরণ কাজের ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ১৪ কোটি টাকা। প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে মেসার্স জুয়েল ইলেকট্রোনিক্স।
স্থানীয়দের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে গুরুত্বপূর্ণ এ সড়কটি সরু ও ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় সাধারণ মানুষ ও যানবাহন চলাচলে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছিল। উন্নয়ন কাজ শেষ হলে যোগাযোগব্যবস্থা আরও সহজ ও নিরাপদ হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তারা।
দাদপুর এলাকার ৮০ বছর বয়সী কৃষক আয়েন উদ্দিন জানান, “একসময় এই খালে প্রচুর পানি ছিল। পরে ভরাট হয়ে যাওয়ায় সেচে অনেক কষ্ট হতো। এখন আবার খাল খনন হলে কৃষকরা উপকার পাবেন এবং সহজে চাষাবাদ করতে পারবেন।”
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন পবা উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব আব্দুর রাজ্জাক, নওহাটা পৌরসভার সাবেক মেয়র শেখ মকবুল হোসেন, পবা উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক সুলতান আহমেদ, নওহাটা পৌর বিএনপির সভাপতি রফিকুল ইসলাম রফিক, সাধারণ সম্পাদক রাকিবুল হাসান পিটার, সাবেক সভাপতি আব্দুল হামিদ, আহ্বায়ক কমিটির সদস্য শরীফুর রহমান শরীফসহ বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা।




