রোটেশন প্রথায় জিম্মি যাত্রীরা
- বেতুয়া-ঢাকা নৌপথে মানা হচ্ছে না নির্ধারিত সূচি গুনতে হচ্ছে বাড়তি ভাড়া

ভোলার চরফ্যাশনে বেতুয়া-ঢাকা নৌপথে লঞ্চ চলাচলে মালিকপক্ষের চালু করা রোটেশন পদ্ধতিতে ভোগান্তিতে পড়ছেন যাত্রীরা। নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী লঞ্চ না চলায় টিকিট ও কেবিন পেতে বিড়ম্বনা, সময়মতো যাতায়াতে অনিশ্চয়তা এবং বাড়তি ভাড়া নেওয়ার অভিযোগও করেছেন তারা। যাত্রীদের অভিযোগ, বিকল্প লঞ্চের সুযোগ সীমিত হয়ে পড়ায় তাদের অনেক ক্ষেত্রে বেশি টাকা দিয়ে কেবিন নিতে হচ্ছে। এ পরিস্থিতিতে রোটেশন পদ্ধতির আইনগত ভিত্তি প্রকাশ এবং যাত্রীদের স্বার্থবিরোধী হলে তা বাতিলের দাবি জানিয়েছেন তারা।
বেতুয়া-ঢাকা নৌপথে এমভি কর্ণফুলী, এমভি টিপু ও এমভি তাসরিফ— এই তিনটি লঞ্চ বিআইডব্লিউটিএর নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী চলাচলের রুট পারমিট নিয়েছে। তবে শুরুতে কয়েক মাস সূচি মেনে লঞ্চ চললেও পরে মালিকপক্ষের পারস্পরিক সমঝোতায় রোটেশন পদ্ধতি চালু করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এতে একেক দিন কোনো কোনো কোম্পানির লঞ্চ চলাচল বন্ধ থাকছে। ফলে যাত্রীদের সামনে বিকল্প কমে যাচ্ছে।
কেবিন না পেয়ে ভোগান্তির অভিজ্ঞতা তুলে ধরেছেন আছলামপুর ইউনিয়নের বাসিন্দা জাহিদ ইসলাম। তিনি বললেন, ‘বিভিন্নভাবে চেষ্টা করেও কেবিন বুক করতে না পারায় ছুটিতে পরিবার নিয়ে বাড়ি ফিরতে পারিনি।’ যাত্রীদের এমন দুর্ভোগের কারণ অনুসন্ধান এবং অনিয়মের অভিযোগ তদন্ত করে জড়িতদের জবাবদিহির আওতায় আনার দাবিও জানিয়েছেন তিনি।
রোটেশন পদ্ধতি নিয়ে অভিযোগের পাশাপাশি কেবিনের ভাড়া বৃদ্ধি নিয়েও ক্ষোভ রয়েছে যাত্রীদের মধ্যে। ভুক্তভোগী যাত্রী প্রকৌশলী সৌরভ আলীর দাবি, বিভিন্ন শ্রেণির কেবিনের ভাড়া আগের তুলনায় উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, আগে সিঙ্গেল কেবিনের ভাড়া ছিল ১ হাজার ২০০, এখন নেওয়া হচ্ছে ১ হাজার ৮০০ থেকে ২ হাজার টাকা। ডাবল কেবিনের ভাড়া ২ হাজার ২০০ থেকে বেড়ে ২ হাজার ৮০০ থেকে ৩ হাজার টাকা হয়েছে। আর ভিআইপি কেবিনের ভাড়া ৪ হাজার থেকে বেড়ে ৬-৭ হাজার টাকা নেওয়া হচ্ছে। তার অভিযোগ, সব মিলিয়ে ভাড়া বেড়েছে প্রায় ৪০ শতাংশ।
তবে রোটেশন পদ্ধতি চালু রাখার পক্ষে ব্যবসায়িক যুক্তি তুলে ধরছেন লঞ্চ মালিকরা। তাদের দাবি, পদ্মা সেতু চালুর পর ভোলা-বরিশাল হয়ে সড়কপথে ঢাকায় যাতায়াতকারী যাত্রীর সংখ্যা বেড়েছে। এতে নৌপথে যাত্রী কমেছে প্রায় ৩০ শতাংশ। যাত্রী কমে যাওয়ায় লঞ্চ পরিচালনায় লোকসানের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। সেই পরিস্থিতিতে পরিচালন ব্যয় সামাল দিতেই রোটেশন পদ্ধতি চালু রাখা হয়েছে।
তবে যাত্রী সংকট ও পরিচালন ব্যয়ের চাপ থাকলেও তার দায় সাধারণ যাত্রীদের ওপর চাপানো উচিত নয় বলে মনে করেন স্কুল শিক্ষক কামাল হোসেন। তিনি বললেন, ‘লঞ্চ মালিকদের ব্যবসায়িক স্বার্থের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের নির্বিঘ্নে যাতায়াতের অধিকারও গুরুত্ব দিতে হবে।’
রোটেশন পদ্ধতি বাতিলের দাবিতে জনস্বার্থে এক মাস আগে লঞ্চ মালিকদের আইনি নোটিস পাঠিয়েছেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী আবদুল বাছেদ শামীম। নোটিসে প্রতিযোগিতামূলক যাত্রীসেবা বাধাগ্রস্ত হওয়া, যাত্রী ও ব্যবসায়ীদের ভোগান্তি এবং নৌযান চলাচলে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টির বিষয়গুলো তুলে ধরা হয়েছে। আইনজীবী আবদুল বাছেদ শামীম জানিয়েছেন, এ বিষয়ে হাইকোর্টে মামলা করবেন।
ভুক্তভোগী যাত্রীরা ভোলা-৪ আসনের সংসদ সদস্য নুরুল ইসলাম নয়নের কাছে অভিযোগ জানানোর কথা জানিয়েছেন। তাদের দাবি, রোটেশন পদ্ধতির আইনগত ভিত্তি যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে। চরফ্যাশন প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক কামাল গোলদার বললেন, ‘লঞ্চ মালিকরা জনসাধারণের দাবি না মানলে মানববন্ধন করা হবে।’



