নীলফামারীর তরুণী ও চীনা নাগরিকের বিয়ে ঘিরে আলোচনার ঝড়

সংগৃহীত ছবি
নীলফামারীর উত্তরা ইপিজেডে কর্মরত এক চীনা নাগরিক ও স্থানীয় এক তরুণীর বিয়ে ঘিরে সোশ্যালে আলোচনার ঝড় উঠেছে। সদর উপজেলার সংগলশী এলাকার বাসিন্দা জুয়েল হোসেনের মেয়ে মাইশা আক্তার জুইয়ের সঙ্গে চীনা নাগরিক নিয়াউ জিচুনের এই বিয়ে সম্পন্ন হয়। তবে কনে কান্না করছেন— এমন ভিডিও ফেসবুকে ভাইরাল।
ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়লে একে ১০ লাখ টাকার বিনিময়ে তিন বছরের চুক্তিভিত্তিক বিয়ে বলে কটাক্ষ করেছেন কেউ কেউ। তবে কনের পরিবার ও স্থানীয় পুলিশ প্রশাসন একে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও গুজব বলে নিশ্চিত করেছে।
স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, উত্তরা ইপিজেডে সহকর্মী হিসেবে কাজ করার সুবাদে মাইশার সঙ্গে নিয়াউ জিচুনের পরিচয় হয়। সেই পরিচয় ধীরে ধীরে গভীর ভালোবাসায় রূপ নেয়। দীর্ঘদিনের প্রেমের সম্পর্কের পর দুই পরিবারের যৌথ সম্মতিতে তারা বিয়ের সিদ্ধান্ত নেন।
কনের পরিবারের ভাষ্য, গত ১০ জুন আদালতে হলফনামার মাধ্যমে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেন নিয়াউ জিচুন। ধর্ম পরিবর্তনের পর তার নাম রাখা হয় নুর মোহাম্মদ। এরপর নির্ধারিত দেনমোহর ও ধর্মীয় সব আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করেন। গত ১৮ জুন দুই পরিবারের সদস্যদের উপস্থিতিতে জাঁকজমকপূর্ণভাবে তাদের বিয়ে সম্পন্ন হয়।
স্থানীয়দের মতে, এটি ছিল একটি দীর্ঘদিনের ভালোবাসার স্বাভাবিক পরিণতি; কিন্তু বিদেশি নাগরিককে বিয়ে করার বিষয়টি মানুষের কৌতূহল বাড়িয়েছে। সেই সুযোগেই একটি মহল দ্রুত গুজব ছড়িয়ে দিয়েছে।
মিথ্যা অপপ্রচারের বিষয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে কনের বাবা জুয়েল হোসেন বলেছেন, মেয়ের সঙ্গে ছেলেটির পরিচয় কর্মস্থল থেকেই। দীর্ঘদিনের সম্পর্কের পর দুই পরিবারের সম্মতিতে বিয়ে হয়েছে। ১০ লাখ টাকা কিংবা তিন বছরের চুক্তির যে কথা প্রচার করা হচ্ছে তার কোনো ভিত্তি নেই। এসব গুজব তাদের পরিবারকে মানসিকভাবে কষ্ট দিচ্ছে।
নীলফামারী সদর থানার ওসি জিল্লুর রহমান এই প্রসঙ্গে জানিয়েছেন, এ ঘটনায় থানায় এখন পর্যন্ত কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি। আদালতের হলফনামার মাধ্যমে আইনগত সব প্রক্রিয়া অনুসরণ করেই এই বিয়ে সম্পন্ন হয়েছে বলে তারা জানতে পেরেছেন।
তিনি আরও স্পষ্ট করেনে, সোশ্যালে প্রচারিত ১০ লাখ টাকা বা তিন বছরের চুক্তির দাবির পক্ষে পুলিশের কাছেও কোনো তথ্য বা প্রমাণ নেই। তবে পুরো বিষয়টি তারা নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণে রেখেছেন।




