দুটি দিয়ে শুরু, এখন ২৭ পুকুরে মাছ চাষ মাসুকের

প্রতীকী ছবি
দুটি পুকুর লিজ নিয়ে মাছ চাষ শুরু করেছিলেন মৌলভীবাজারের রাজনগর উপজেলার গড়গাঁও গ্রামের মাসুক মিয়া। লক্ষ্য ছিল বাড়তি আয় করা। ধীরে ধীরে অভিজ্ঞতা বাড়ল, বাড়ল বিনিয়োগও। একসময় দুটি পুকুর ছাড়িয়ে তার মাছের খামার ছড়িয়ে পড়ল একের পর এক জলাশয়ে। এখন ২৭টি পুকুর লিজ নিয়েছেন তিনি। এসব পুকুরে বছরে ৪৮-৫০ টন মাছ উৎপাদন করছেন। মাছ চাষে বছরে বিনিয়োগ করেন প্রায় ৫০ লাখ টাকা; তার খামারে কাজের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে ২০ জনের।
মাসুকের এই যাত্রা অবশ্য এক দিনে বড় হয়নি। শুরুতে দুটি পুকুরে মাছ চাষ করে ধীরে ধীরে ব্যবসার খুঁটিনাটি শিখেছেন তিনি। লাভের টাকা আবার খামারে বিনিয়োগ করেছেন। সেই ধারাবাহিকতায় এখন তার খামারে চাষ হচ্ছে বিভিন্ন প্রজাতির মাছ।
এই সাফল্যের স্বীকৃতিও পেয়েছেন মাসুক। জাতীয় মৎস্য সপ্তাহ উপলক্ষে গত ১৮ আগস্ট রাজনগর উপজেলার সফল মৎস্যচাষি হিসেবে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাকে পুরস্কৃত করা হয়।
মাসুক মিয়ার খামারের মতো রাজনগরের বানারাই ও গড়গাঁও এলাকার আরও অনেক পুকুরে চলছে মাছের চাষ। কার্পজাতীয় মাছের পাশাপাশি তেলাপিয়া, পাঙাশ, শিং ও মাগুর চাষ করছেন স্থানীয় উদ্যোক্তারা। পুকুরে পোনা ছাড়া থেকে শুরু করে খাবার দেওয়া, পরিচর্যা, মাছ ধরা ও বাজারজাতকরণ— প্রতিটি ধাপেই যুক্ত হচ্ছেন স্থানীয় শ্রমিকরা।
ফলে মাছ চাষ শুধু পুকুরের মালিকের আয় বাড়াচ্ছে না, সৃষ্টি করছে স্থানীয় কর্মসংস্থানও। মাসুক মিয়ার ২৭টি পুকুরে মাছ চাষে বছরে প্রায় ৫০ লাখ টাকা ব্যয় হয়। পুকুরের লিজ, পোনা, খাবার, শ্রমিকের মজুরি, ওষুধ ও পরিচর্যা— সব মিলিয়েই এই ব্যয়। তাই উৎপাদন ভালো হওয়ার পাশাপাশি বাজারে ন্যায্য দাম পাওয়াও গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করেন তিনি।
এ কারণে মাছ চাষে পরিকল্পনা ও আধুনিক পদ্ধতির ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে মৎস্য বিভাগ। রাজনগর উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা বলেছেন, ‘পরিকল্পিতভাবে আধুনিক পদ্ধতিতে মাছ চাষ করা গেলে উৎপাদন ও আয়— দুটিই বাড়ানো সম্ভব। চাষিদের কারিগরি পরামর্শ ও প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দেওয়া হচ্ছে।’
মাসুক মিয়ার খামারে উৎপাদিত মাছ যেমন বাজারের চাহিদা মেটাচ্ছে, তেমনি কাজের সুযোগ সৃষ্টি করছে স্থানীয় মানুষের জন্য। রাজনগরের পুকুর ও জলাশয়গুলো পরিকল্পিতভাবে কাজে লাগানো গেলে মাছ চাষ যে আরও বড় পরিসরে কর্মসংস্থান ও আয়ের পথ সৃষ্টি করতে পারে— মনে করেন তিনি।



