আগামীর সময়ে সংবাদ প্রকাশ, গুঁড়িয়ে দেওয়া হলো অবৈধ কয়লার চুল্লি

ঝালকাঠির কাঠালিয়া উপজেলায় গুঁড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে অবৈধ কয়লার চুল্লি
ঝালকাঠির কাঁঠালিয়া উপজেলার বানাই গ্রামে ফসলিজমিতে গড়ে ওঠা ৫০টি অবৈধ কয়লার চুল্লি গুঁড়িয়ে দিয়েছে প্রশাসন।
পরিবেশ অধিদপ্তরের অনুমোদন ছাড়াই এসব চুল্লিতে কাঠ পুড়িয়ে কয়লা তৈরি করা হচ্ছিল।
দৈনিক আগামীর সময়ে এ নিয়ে অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশের দুই দিন পর অভিযান চালিয়ে চুল্লিগুলো উচ্ছেদ করা হয়।
এর আগে গত ২ নভেম্বর দৈনিক আগামীর সময়ে ‘ফসলিজমিতে ৫০ চুল্লিতে কাঠ পুড়িয়ে কয়লা’ শিরোনামে একটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়।
প্রতিবেদনে বলা হয়, ‘উপজেলার চেচরিরামপুর ইউনিয়নের তফসেরের খেয়াঘাটের পশ্চিমপাড়া থেকে উত্তর দিকে বাঁকার খালের পাশে পরিবেশগত ছাড়পত্র ও অনুমোদন ছাড়াই প্রায় ৫০টি চুল্লি স্থাপন করা হয়েছে। এসব চুল্লিতে নিয়মিত কাঠ পুড়িয়ে কয়লা তৈরি করা হচ্ছিল। এতে জনস্বাস্থ্য, জীববৈচিত্র্য ও পরিবেশ মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়ে। পাশাপাশি গাছ চুরির প্রবণতা বেড়ে যাওয়ায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।’
প্রতিবেদন প্রকাশের পর বিষয়টি প্রশাসনের নজরে আসে। কাঁঠালিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মকবুল হোসেনের নির্দেশনায় এবং পরিবেশ অধিদপ্তরের সঙ্গে আলোচনা করে অভিযান পরিচালনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এরই ধারাবাহিকতায় সংবাদ প্রকাশের দুই দিন পর অবৈধ চুল্লিগুলোর বিরুদ্ধে অভিযান চালানো হয়। এ সময় বুলডোজারসহ বিভিন্ন সরঞ্জাম ব্যবহার করে চুল্লিগুলো গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়।
প্রশাসনের এ পদক্ষেপে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও সচেতন মহল।
তাদের ভাষ্য, অবৈধ চুল্লিগুলোর কারণে এলাকায় পরিবেশদূষণ ও স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হয়েছিল। চুল্লিগুলো উচ্ছেদের ফলে অবৈধভাবে কয়লা উৎপাদন বন্ধ হওয়ার পাশাপাশি গাছ চুরির প্রবণতাও কমবে বলে আশা করছেন তারা।
উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্য রক্ষায় অবৈধ কার্যক্রমের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত থাকবে। পরিবেশ বিনষ্টের সঙ্গে জড়িত কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না।



