৫০ কোটি টাকা লাভের আশা
মাগুরায় লিচুর বাম্পার ফলন, চাষিদের মুখে স্বস্তির হাসি

ছবি: আগামীর সময়
মাগুরায় এবার লিচুতে হয়েছে বাম্পার ফলন। অনুকূল আবহাওয়া, তীব্র রোদ এবং মাঝেমধ্যে হালকা বৃষ্টির কারণে আকারেও বড় লিচুগুলো। স্বাভাবিক সময়ের আগেই ধরেছে রঙ। আগাম বাজার ধরতে শুরু হয়েছে লিচু পাড়া। বড় লাভের আশায় এখন স্বস্তিতে চাষিরা।
জেলা কৃষি বিভাগ জানিয়েছে, চলতি মৌসুমে ৪১ থেকে ৫০ কোটি টাকার লিচু বিক্রির সম্ভাবনা আছে।
সোমবার থেকে মাগুরা সদর উপজেলার হাজরাপুর, নরিহাটি ও শিবরামপুর এলাকায় লিচু পাড়া শুরু হয়েছে ব্যাপকভাবে। এসব এলাকার বাগানগুলোতে ব্যস্ত সময় পার করছেন গাছি ও মালিকরা। সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত চলছে লিচু সংগ্রহ, বাছাই ও বাজারজাতের কাজ।
বর্তমানে মৌসুমের শুরুতে দেশি জাতের লিচু প্রতি হাজার ২ থেকে ৩ হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তবে জেলার জনপ্রিয় বোম্বাই জাতের লিচু পাকতে আরও এক সপ্তাহের বেশি সময় লাগবে
হাজরাপুর ও আশপাশের ৩০টিরও বেশি গ্রামে ব্যাপকভাবে লিচু চাষ হয়ে থাকে। ‘হাজরাপুরী’ নামে পরিচিত এই লিচুর রয়েছে দেশ জুড়ে সুনাম।
স্থানীয়দের ভাষ্য, ৩০ থেকে ৪০ বছর ধরে এ অঞ্চলে বাণিজ্যিকভাবে লিচু চাষ হচ্ছে। ১৯৯৪ সালের পর থেকে হাজরাপুর, হাজিপুর ও রাঘবদাইড় এলাকায় এর চাষ আরও জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। ‘হাজরাপুরী লিচু’ এখন মাগুরার জিআই পণ্য।
‘এ বছর আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় লিচুর বাম্পার ফলন হয়েছে। পোকামাকড়ের আক্রমণও তুলনামূলক কম হওয়ায় গাছে গাছে ভালো মানের লিচু এসেছে। এতে সব চাষিদের মুখে স্বস্তির হাসি ফিরেছে। এবার বড় ধরনের লাভবান হওয়ার আশাও রয়েছে’— বলছিলেন শিবরামপুর এলাকার বাগানমালিক দিদার হোসেন।
তবে অনেক বাগান মালিকের মতে, আরও কয়েক দিন সময় পেলে লিচুর রঙ ও স্বাদ আরও ভালো হতো। তবে অতিরিক্ত গরমে কিছু লিচু ফেটে যাওয়ায় ক্ষতির আশঙ্কায় আগেভাগেই লিচু পেড়ে ফেলতে হচ্ছে। বিশেষ করে দেশি জাতের যেসব লিচুতে আগে রঙ এসেছে, সেগুলো দ্রুত সংগ্রহ করা হচ্ছে।
একই সুরে বললেন চাষি সালাম শিকদার। ‘বেশি সময় অপেক্ষা করলে দেশি জাতের লিচু নষ্ট হওয়ার ঝুঁকি থাকে। তাই বড় ধরনের ক্ষতি এড়াতে আগেভাগেই বাজারে তোলা হচ্ছে লিচু।’
‘এখন মৌসুমের শুরুতে দেশি জাতের লিচু প্রতি হাজার ২ থেকে ৩ হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তবে জেলার জনপ্রিয় বোম্বাই জাতের লিচু পাকতে আরও এক সপ্তাহের বেশি সময় লাগবে’— যোগ করেন সালাম।
লিচুর বাম্পার ফলনে এরই মধ্যে স্থানীয় অর্থনীতিতে ফিরেছে প্রাণচাঞ্চল্য। বেড়েছে বাগানকেন্দ্রিক শ্রমিক, গাছি, পরিবহন শ্রমিক ও ব্যবসায়ীদের কর্মব্যস্ততা।
জেলার কৃষি বিভাগ বলছে, এ বছর ৬৭১ হেক্টর জমিতে লিচু চাষ হয়েছে। এর মধ্যে সদর উপজেলার হাজরাপুর এলাকায়ই আছে ২৮৩ হেক্টর লিচু বাগান।
‘অনুকূল আবহাওয়ার কারণে এবার লিচুতে আগেভাগেই রঙ এসেছে। এ কারণে লিচু সংগ্রহ শুরু হয়ে গেছে’— বললেন জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. তাজুল ইসলাম।






