গোয়ালন্দে নারীর রহস্যজনক মৃত্যু, ৪ লাখ টাকায় রফাদফার চেষ্টা!

এই গর্ত থেকে নিহত নবীরন বেগমের মহদেহ উদ্ধার করা হয়। ছবি: সংগৃহীত
রাজবাড়ীর গোয়ালন্দে নবীরন বেগম (৫৫) নামের এক নারীর রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে। পরিবারের দাবি, ধানখেতে কাজ করার সময় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে তার মৃত্যু হয়। তবে স্থানীয়দের দাবি, হাত-পা বাঁধা অবস্থায় তাকে উদ্ধার করা হয়েছিল। এদিকে ঘটনা ধামাচাপা দিতে পরিবারের সঙ্গে ৪ লাখ টাকায় রফাদফা করা হয়েছে বলেও অভিযোগ উঠেছে। মৃত্যুর কারণ নিয়ে এমন পরস্পরবিরোধী বক্তব্যের মধ্যে বৃহস্পতিবার মরদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য হেফাজতে নিয়েছে পুলিশ।
বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) রাত সাড়ে ১০টার দিকে দৌলতদিয়ার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের আইনদ্দীন প্রামাণিক পাড়ায় রফিকুল মৃধার বাড়ির পাশের কলাগাছের নিচ থেকে নবীরন বেগমকে উদ্ধার করা হয়। পরে তাকে গোয়ালন্দ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। নবীরন বেগম দুলাল বেপারী পাড়ার আব্দুর রহিম শেখের স্ত্রী।
নবীরন বেগমের ভাই আবজাল শেখ ও স্থানীয়দের বাসিন্দা বলেন, এলাকার সবার সম্মিলিত সিদ্ধান্তে ৪ লাখ টাকায় বিষয়টি মীমাংসা হয়েছে। তারাও তা মেনে নিয়েছেন। তারা চান না নবীরন বেগমের মরদেহের ময়নাতদন্ত করা হোক।
দৌলতদিয়া ৬ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ফারুক হোসেন বলেন, বুধবার রাতে রফিকুল মৃধার বাড়ির পাশের কলাগাছের নিচ থেকে নবীরন বেগমকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারের সময় তার পায়ে কাপড় প্যাঁচানো ছিল এবং শরীরের অর্ধেক মাটির নিচে পুঁতে রাখা ছিল।
ফারুক হোসেন আরও বলেন, ঘটনা ধামাচাপা দিতে নবীরন বেগমের পরিবারের সঙ্গে ৪ লাখ টাকায় সমঝোতা করা হয়েছে। তবে এ অভিযোগের বিষয়ে পরিবারের বক্তব্যের সঙ্গে বিস্তারিতভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
নবীরন বেগমের এক প্রতিবেশী নারী বলেন, রাত সাড়ে নয়টার দিকে স্থানীয় লোকজন কলাগাছের নিচ থেকে হাত-পা বাঁধা অবস্থায় নবীরন বেগমকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান।
বৃহস্পতিবার দুপুরে দৌলতদিয়া মণ্ডল হ্যাচারিজ-সংলগ্ন জামে মসজিদে নবীরন বেগমের জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। পরে পুলিশ তার মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য হেফাজতে নেয়।
ঘটনাস্থল দৌলতদিয়ার আইনদ্দীন প্রামাণিক পাড়ার রফিকুল মৃধার পুকুরপাড় ও আখখেতে গিয়ে দেখা যায়, পুকুরপাড় ও পাশের আখখেত বিদ্যুতের তার দিয়ে ঘেরা। পুকুরপাড়ের পাশে মরদেহ পুঁতে রাখার জন্য একটি গর্তও দেখা যায়।
এদিকে নবীরন বেগমের মৃত্যুর কারণ নিয়ে পুলিশের কাছে শুরুতে ভিন্ন তথ্য দেওয়া হয়েছিল। গোয়ালন্দ ঘাট থানার ওসি মো. সফিকুল ইসলাম বলেন, ‘গতকাল পরিবারের পক্ষ থেকে জানতে পারি, স্ট্রোকজনিত কারণে নবীরন বেগমের মৃত্যু হয়েছে। যার কারণে গতকাল মরদেহটি পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছিল। আজ বিভিন্ন মাধ্যমে জানতে পারি, তিনি বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে নিহত হয়েছেন। কাজেই আজ মরদেহটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য রাজবাড়ী সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।’
ওসি বলেন, ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়া গেলে নবীরন বেগমের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে।






