ডুয়েটে ব্লকেড শিক্ষার্থীদের ৩ দাবি

ঢাকা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (ডুয়েট) ব্লকেড কর্মসূচি পালন করছেন শিক্ষার্থীরা। গতকাল সোমবার সকাল থেকেই বিশ্ববিদ্যালয়ের সব কটি ফটকে তালা মেরে তার সামনে অবস্থান নেন তারা। শিক্ষক-শিক্ষার্থী ছাড়া কাউকেই ঢুকতে দেওয়া হয়নি। বিশেষ করে নতুন উপাচার্য যেন কোনোভাবেই বিশ্ববিদ্যালয়ে ঢুকতে না পারেন, সেজন্য বিশেষভাবে সতর্ক ছিলেন শিক্ষার্থীরা।
দুপুরে উপাচার্যের নিয়োগ বাতিলের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করে তিন দফা দাবি তুলে ধরেন আন্দোলনকারীরা। দাবিগুলো হলো— রবিবারের সংঘর্ষে দায়ী ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্থায়ী বহিষ্কার, ক্যাম্পাসে সব ধরনের ছাত্ররাজনীতি নিষিদ্ধ এবং আহত শিক্ষার্থীদের চিকিৎসার খরচ বহন।
সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষার্থীরা বলছিলেন, উপাচার্যের মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের রক্ত ঝরেছে, তাকে ক্যাম্পাসে গ্রহণ করা হবে না। ডুয়েটের জ্যেষ্ঠ শিক্ষকদের মধ্য থেকে কাউকে উপাচার্য হিসেবে বেছে নিতে হবে, বাইরের কাউকে মেনে নেবেন না তারা।
রবিবার দুপক্ষের সংঘর্ষের পর থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ রয়েছে থমথমে। পুলিশের কাজে বাধা ও সংঘর্ষে পুলিশ সদস্য আহত হওয়ার ঘটনায় গাজীপুর সদর থানায় মামলা করা হয়েছে। পুলিশের করা ওই মামলায় অজ্ঞাতপরিচয় আসামি ২০০-২৫০ জন বলে জানিয়েছেন ওসি মো. আমিনুল ইসলাম।
ওসি জানিয়েছেন, পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে ক্যাম্পাসের বাইরে পর্যাপ্তসংখ্যক পুলিশ সদস্য মোতায়েন রয়েছেন। তবে গতকাল কোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়নি।
পাল্টাপাল্টি সংবাদ সম্মেলন, বিবৃতি: রবিবারের সংঘর্ষের ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে গতকাল শিক্ষার্থীদের পক্ষে সংবাদ সম্মেলন করা হয়। সেখানে কথা বলেছেন পুরকৌশল বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী হাসানুর রহমান। তার অভিযোগ, ডুয়েট ছাত্রদল বহিরাগতদের এনে ফটক ভেঙে ভেতরে ঢোকার চেষ্টা করে। এ সময় ভেতরে থাকা শিক্ষার্থীরা তা প্রতিহতের চেষ্টা করলে, তাদের ওপর বাইরে থেকে ইটপাটকেল ছুড়ে ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হামলা চালানো হয়। এ সংঘর্ষে ১৮ শিক্ষার্থী আহত হন, যার মধ্যে ১২ জন গুরুতর আহত হয়েছেন।
এরপর বিকালে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল ডুয়েট শাখার নেতারাও একটি সংবাদ সম্মেলন করেন। সেখানে ডুয়েট ছাত্রদলের সভাপতি জামিলুর রহমান জামির বললেন ভিন্ন কথা। তার দাবি, ক্যাম্পাসে ছাত্রশিবির, বাম সংগঠন এবং এনসিপির ছাত্রসংগঠন কার্যক্রম চালালেও ছাত্রদলকে সহ্য করতেন না আগের ভিসি। রবিবার শান্তিপূর্ণভাবে নতুন ভিসিকে নিয়ে ক্যাম্পাসে ঢুকতে যাচ্ছিলেন তারা। কিন্তু শিবিরের ইন্ধনে ভিসির গাড়িসহ ছাত্রদলের ওপর আক্রমণ করা হয়। এ ঘটনার জন্য দায়ীদের বিচারও দাবি করেন তিনি।
তবে রবিবারই বিবৃতিতে ইসলামী ছাত্রশিবিরের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছিল, ডুয়েট ছাত্রদল, মহানগর ছাত্রদল, যুবদল এবং বহিরাগত সন্ত্রাসীরাই সাধারণ শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা চালিয়েছে। এ ঘটনাকে দেশব্যাপী ক্যাম্পাসগুলোয় ছাত্রদলের চলমান সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড ও নতুন দখলদারত্বের রাজনীতিরই বহিঃপ্রকাশ হিসেবেও দেখছেন শিবিরের কেন্দ্রীয় নেতারা।
বিশ্ববিদ্যালয় ঘিরে যে পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে, তার পরিপ্রেক্ষিতে দুপুরে বিবৃতি দিয়েছে ডুয়েট শিক্ষক সমিতি। সংগঠনের সভাপতি অধ্যাপক ড. মো. খসরু মিয়া ও সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. কাজী রফিকুল ইসলামের সই করা ওই বিবৃতিতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন এবং সহিংস ঘটনায় গভীর উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা প্রকাশ করা হয়।
সেখানে বলা হয়, শিক্ষার্থীদের যৌক্তিক দাবি উপস্থাপন ও শান্তিপূর্ণ আন্দোলনের অধিকার যেমন সংবিধানসম্মত; তেমনি যেকোনো ধরনের সহিংসতা, হামলা, ভীতি প্রদর্শন এবং বহিরাগতদের হস্তক্ষেপে শিক্ষক সমিতি তীব্র নিন্দা জানাচ্ছে।
সংঘর্ষে দুই শিক্ষক ও ১৮ জন শিক্ষার্থী আহত হওয়ার ঘটনায় শিক্ষক সমিতি গভীর সমবেদনা জানায় এবং আহতদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করে। একই সঙ্গে সংঘর্ষের আসল কারণ, হামলাকারীদের পরিচয় এবং দায়ীদের চিহ্নিত করে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে দ্রুত আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতেও কর্তৃপক্ষের কাছে দাবি জানানো হয়।




