বরগুনা
বাসস্ট্যান্ড যেন এক টুকরো সবুজের স্বর্গ

ছবি: আগামীর সময়
দেশের অধিকাংশ বাসস্ট্যান্ড যেখানে ধোঁয়া, ধুলা আর দূষণে ভরপুর, সেখানে বরগুনার বাস টার্মিনালটি যেন এক টুকরো সবুজের স্বর্গ। শতাধিক প্রজাতির গাছপালায় ঘেরা এই টার্মিনালের মনোরম পরিবেশ যাত্রী ও স্থানীয়দের অন্যতম বিনোদনকেন্দ্রও হয়ে উঠেছে।
সকাল থেকে সন্ধ্যা বিভিন্ন বয়সী মানুষের আনাগোনায় মুখর থাকে বরগুনা পৌর বাস টার্মিনাল। কেউ আসেন হাঁটতে, কেউ পরিবার নিয়ে ঘুরতে, আবার কেউ যানবাহনের অপেক্ষায় বসে উপভোগ করেন সবুজ পরিবেশ। শুধু মানুষ নয়, বিভিন্ন প্রজাতির পাখিও আশ্রয় নিয়েছে টার্মিনালের গাছগুলোতে। পাখির কলকাকলি আর গাছের ছায়ায় ব্যস্ত বাসস্ট্যান্ডটিও পেয়েছে ভিন্ন এক আবহ।
বরগুনার খেজুরতলা এলাকায় চার একর জমির ওপর এ আধুনিক বাস টার্মিনাল নির্মাণ করা হয় এশিয়ান ডেভলপমেন্ট ব্যাংক (এডিবি) অর্থায়নে। টার্মিনাল নির্মাণে ব্যয় হয়েছে ১৪ কোটি ৩৪ লাখ টাকা। প্রকল্পের প্রাক্কলন অনুযায়ী টার্মিনালের চারপাশে ৪০০টি গাছ লাগানোর কথা ছিল। তবে তৎকালীন পৌর মেয়র শাহাদাত হোসেনের উদ্যোগে শতাধিক প্রজাতির প্রায় চার হাজার গাছ লাগানো হয়।
সময়ের সঙ্গে এসব গাছ বড় হয়ে পুরো টার্মিনাল এলাকায় তৈরি করেছে ছায়াঘেরা সবুজ পরিবেশ। ফুল, ফল ও ঔষধি গাছের সমারোহে টার্মিনালটি এখন অনেকটা মনোরম বাগানের রূপ নিয়েছে। টার্মিনালটির চারপাশে গাছের ছায়ায় নির্মিত হয়েছে হাঁটার পথ।এখানে বয়স্ক মানুষদের অনেকে সকাল-বিকেল হাঁটতে আসেন।
বরগুনার বাস টার্মিনালের পরিবেশ নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন যাত্রীরাও। মো. এনামুল, সাকিব হোসেন ও রাসেল খানসহ কয়েকজন যাত্রী বলেন, দেশের অধিকাংশ বাসস্ট্যান্ড ধুলা, ধোঁয়া ও শব্দদূষণে ভরা থাকে। কিন্তু বরগুনার বাস টার্মিনালটি হাজার হাজার গাছে ঘেরা। বাস থেকে নামার পর সবুজ পরিবেশে কিছুক্ষণ থাকলেই দীর্ঘ যাত্রার ক্লান্তি অনেকটা কেটে যায়।
সবুজ বরগুনার প্রতিষ্ঠাতা আরিফ হোসেন খান বলেন, বরগুনা পৌর বাসস্ট্যান্ড নির্মাণের গাছ ধরা ছিল চার শ। তবে মেয়র শাহাদাত হোসেন তার উদ্যোগে বিভিন্ন প্রজাতির প্রায় চার হাজার গাছ রোপণ করেছেন। এটি অত্যন্ত প্রশংসনীয় উদ্যোগ ছিল। এর সুফল পাচ্ছেন সাধারণ মানুষ।
স্থানীয়দের কাছেও টার্মিনালটি এখন সময় কাটানোর জন্য পছন্দের জায়গা। সকাল-বিকেলে পরিবার নিয়ে ঘুরতে আসেন অনেকে। সবুজ বাগানের ভেতরের হাঁটার পথ ধরে হাঁটেন বিভিন্ন বয়সী মানুষ।
অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মচারী পরিমল চন্দ্র বলেন, শারীরিক নানা সমস্যার কারণে চিকিৎসক তাকে নিয়মিত হাঁটার পরামর্শ দিয়েছেন। বাস টার্মিনালের চারপাশে বাগানের মতো পরিবেশ এবং হাঁটার জন্য আলাদা পথ থাকায় প্রতিদিন সকাল-বিকেল এখানে হাঁটতে আসেন তিনি।
গৃহিণী নাসরিন আক্তার বলেন, সন্তানদের নিয়ে প্রায়ই বাস টার্মিনালে ঘুরতে আসেন তিনি। এখানে বিভিন্ন ধরনের ফুল, ফল ও ঔষধি গাছ রয়েছে। এসব গাছ সম্পর্কে সন্তানদের ধারণা দিতে তিনি তাদের নিয়ে আসেন। পাশাপাশি গাছগুলোতে বিভিন্ন পাখির আশ্রয় থাকায় পাখির কলকাকলিও তাদের ভালো লাগে।
পরিবেশ নিয়ে কাজ করা সংগঠনগুলোর নেতারাও বরগুনার বাস টার্মিনালকে উন্নয়ন ও পরিবেশের সমন্বয়ের একটি ভালো উদাহরণ হিসেবে দেখছেন। তাদের মতে, দেশের বিভিন্ন স্থানে উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের সময় গাছ কেটে পরিবেশের ক্ষতি করা হলেও বরগুনার বাস টার্মিনালের চিত্র সম্পূর্ণ ভিন্ন।
ধরিত্রী রক্ষায় আমরা (ধরা)-এর বরগুনা জেলা সদস্যসচিব মুশফিক আরিফ বলেন, সারা দেশে প্রতিনিয়ত গাছ কেটে পরিবেশ ধ্বংস করা হচ্ছে। সরকারি উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের সময়ও অনেক ক্ষেত্রে গাছ কাটা হয়। তবে বরগুনার বাস টার্মিনালটি এ ক্ষেত্রে ব্যতিক্রম।
বরগুনা পৌরসভার পৌর প্রশাসক সজল চন্দ্র শীল বলেন, পৌর বাস টার্মিনালের সৌন্দর্য ধরে রাখতে নিয়মিত গাছের পরিচর্যা ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজ করা হচ্ছে। ভবিষ্যতে আরও গাছ লাগিয়ে টার্মিনালটিকে আরও নান্দনিক করে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে।






