নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ
বর্ষা এলেই কাদায় বেহাল সড়ক, দুর্ভোগে শিক্ষার্থীরা

ছবি: আগামীর সময়
নীলফামারীর কিশোরগঞ্জের মাগুড়া ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের মতলুব ডাক্তার বাড়ি থেকে পীর ফকির সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় পর্যন্ত প্রায় এক কিলোমিটার সড়ক দীর্ঘদিন ধরে বেহাল অবস্থায় পড়ে রয়েছে। বর্ষা মৌসুম এলেই সড়কজুড়ে সৃষ্টি হয় কাদা ও খানাখন্দ। এতে চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ে সড়কটি। ফলে প্রতিদিন চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে শিক্ষার্থীসহ এলাকার সাধারণ মানুষকে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সড়কটি মাগুড়া ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দাদের দৈনন্দিন চলাচলের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রতিদিন এ সড়ক দিয়ে শিক্ষার্থী, কৃষক, ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষ যাতায়াত করেন। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে সংস্কার না করায় সড়কের বিভিন্ন স্থানে ছোট-বড় গর্ত ও খানাখন্দের সৃষ্টি হয়েছে। সামান্য বৃষ্টি হলেই সড়কটি কাদাপানিতে একাকার হয়ে যায়।
বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমে সড়কটির অবস্থা আরও নাজুক হয়ে পড়ে। কাদাপানিতে ঢেকে যায় সড়কের গর্তগুলো। এতে পথচারীদের চরম ভোগান্তি পোহাতে হয়। পাশাপাশি যানবাহন চলাচলও হয়ে পড়ে ঝুঁকিপূর্ণ। জরুরি প্রয়োজনে এক স্থান থেকে অন্য স্থানে যাতায়াত করতে গিয়ে নানা সমস্যার সম্মুখীন হতে হচ্ছে এলাকাবাসীকে।
সড়কটির দুরবস্থার কারণে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়ছে পীর ফকির সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। প্রতিদিন বিদ্যালয়ে যাতায়াতের সময় তাদের কাদা মাড়িয়ে চলতে হয়। বৃষ্টির দিনে কাদায় পোশাক ও জুতা নোংরা হয়ে যায়। অনেক সময় পা পিছলে পড়ে যাওয়ার আশঙ্কাও থাকে।
বিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষার্থী জানায়, বৃষ্টি হলেই সড়কটি কাদাপানিতে ভরে যায়। তখন কাদা মাড়িয়ে বিদ্যালয়ে যাতায়াত করতে অনেক কষ্ট হয়। অনেক সময় পা পিছলে পড়ে যেতে হয়। কাদার কারণে পোশাক ও জুতা নষ্ট হয়ে যায়। দ্রুত সড়কটি সংস্কার করা হলে তাদের বিদ্যালয়ে যাতায়াত অনেক সহজ হবে।
অন্যদিকে, সড়কটির বেহাল অবস্থার কারণে কৃষক ও ব্যবসায়ীরাও ভোগান্তিতে পড়ছেন। কৃষিপণ্য পরিবহন এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় মালামাল আনা-নেওয়ার ক্ষেত্রে সমস্যার সৃষ্টি হচ্ছে। বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমে কাদা ও খানাখন্দের কারণে রিকশা, ভ্যান ও মোটরসাইকেল চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। এতে স্থানীয় মানুষের দৈনন্দিন কাজকর্ম ও যোগাযোগব্যবস্থা বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।
এলাকাবাসী জানান, প্রতি বছর বর্ষা মৌসুম এলেই একই দুর্ভোগের শিকার হতে হয় তাদের। দীর্ঘদিন ধরে সড়কটির এমন বেহাল অবস্থা চলতে থাকলেও সংস্কারের কার্যকর উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে না। সড়কটি সংস্কার করা হলে শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়ে যাতায়াত সহজ হওয়ার পাশাপাশি কৃষিপণ্য পরিবহন ও সাধারণ মানুষের যোগাযোগব্যবস্থার উন্নতি হবে।
এ অবস্থায় মতলুব ডাক্তার বাড়ি থেকে পীর ফকির সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় পর্যন্ত প্রায় এক কিলোমিটার সড়কটি দ্রুত সংস্কারের দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী। তাদের প্রত্যাশা, নীলফামারী-৪ আসনের সংসদ সদস্য ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে সরেজমিনে পরিদর্শন করবেন এবং জনদুর্ভোগ নিরসনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।



