গাংনীতে ১৬ কোটি টাকার কাজে অনিয়ম, প্রশাসনের নিষেধাজ্ঞা

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
মেহেরপুরের গাংনী পৌর সুপার মার্কেট নির্মাণে নিম্নমানের উপকরণ ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে। প্রায় ১৬ কোটি টাকা ব্যয়ের এ প্রকল্পে অনিয়মের অভিযোগ পেয়ে কাজ বন্ধের লিখিত নির্দেশ দিয়েছেন পৌর প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা। নিম্নমানের সামগ্রী সরিয়ে মানসম্মত উপকরণ ব্যবহারের নির্দেশও দেওয়া হয়েছে। তবে সেই নির্দেশের পরও নির্মাণকাজ চালিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে ঠিকাদারের বিরুদ্ধে।
প্রকল্পের তথ্য বলছে, ২০২৩ সালে তৎকালীন মেয়র আহম্মেদ আলীর সময় সুপার মার্কেট নির্মাণকাজের উদ্বোধন করা হয়। কাজটি পায় চুয়াডাঙ্গার জীবননগরের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান জাকাউল্লাহ ট্রেডার্স। পরে প্রতিষ্ঠানটি মেহেরপুরের মিলন কনস্ট্রাকশনের ঠিকাদার মিলনকে সাব-ঠিকাদার হিসেবে নিয়োগ দেয়।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, শুরু থেকেই নিম্নমানের উপকরণ ব্যবহার করা হচ্ছিল। প্রতিবাদের মুখে কয়েক দফায় কাজ বন্ধ থাকলেও পরে আবার তা শুরু হয়। একপর্যায়ে স্থানীয়দের বিরোধিতার মুখে সাব-ঠিকাদার মিলন কাজ ছেড়ে চলে যান। পরে ঝিনাইদহের শৈলকুপার ঠিকাদার জালাল হোসেন নির্মাণকাজের দায়িত্ব নেন।
বর্তমান ঠিকাদারের বিরুদ্ধেও অনিয়মের অভিযোগ তুলেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তাদের দাবি, পৌরসভার প্রকৌশলী শামীম রেজা ও উপসহকারী প্রকৌশলী আমিনুল কবিরের সহযোগিতায় নিম্নমানের সামগ্রী দিয়ে কাজ চালানো হচ্ছে। অবশ্য পৌর প্রকৌশলী শামীম রেজা অনিয়মের অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছেন, ‘নির্মাণকাজে কোনো অনিয়ম মেনে নেওয়া হবে না। কাজের স্থানে লোক নিয়োজিত থাকার পরও কিছু অনিয়ম হতে পারে। তবে তা নজরে এলে নিম্নমানের সামগ্রী সরিয়ে নেওয়া হয়।’
সম্প্রতি নির্মাণকাজে অনিয়মের অভিযোগ পেয়ে পৌর বিএনপির সভাপতি মকবুল হোসেন মেঘলা স্থানীয় বাসিন্দাদের নিয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। পরে তিনি বিষয়টি পৌর প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাসুদুর রহমানকে জানিয়েছেন। প্রশাসক ঘটনাস্থলে গিয়ে অভিযোগের সত্যতা পাওয়ার কথা জানিয়ে কাজ বন্ধের নির্দেশ দেন। পাশাপাশি নিম্নমানের সামগ্রী সরিয়ে নতুন সামগ্রী পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর অনুমতি নিয়ে কাজ শুরুর নির্দেশ দেওয়া হয়। নির্দেশনা না মানলে অন্য ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে দিয়ে কাজ সম্পন্ন করার কথাও জানালেন তিনি।
মকবুল হোসেন মেঘলার ভাষ্য, জনগণের টাকায় বাস্তবায়িত উন্নয়নকাজে অনিয়ম সহ্য করা হবে না। বিএনপির নাম ব্যবহার করে কেউ অনিয়মের সুবিধা নেওয়ার চেষ্টা করলে তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তবে অভিযোগের বিষয়ে ঠিকাদার জালাল হোসেনের বক্তব্য, তিনি উপস্থিত না থাকায় কিছু নিম্নমানের সামগ্রী নির্মাণস্থলে আনা হয়েছিল। কর্তৃপক্ষের নির্দেশে সেগুলো সরিয়ে নেওয়া হয়েছে এবং এখন ভালো সামগ্রী দিয়ে কাজ করা হচ্ছে।
পৌর প্রশাসক মাসুদুর রহমান জানিয়েছেন, তিনি দায়িত্ব নেওয়ার আগের পরিস্থিতি সম্পর্কে জানেন না। তবে অভিযোগ পাওয়ার পর ঘটনাস্থলে গিয়ে অনিয়মের সত্যতা পেয়ে লিখিতভাবে কাজ বন্ধ এবং নিম্নমানের সামগ্রী সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। নির্মাণকাজের মান যাচাই-বাছাই করেই তা বুঝে নেওয়া হবে।



