ভোরের আলো ফোটার আগেই জমে ওঠে মুলাডুলি মাছের আড়ত

মুলাডুলি মৎস্য আড়তে ভোরের আলো ফোটার সঙ্গে শুরু হয় বিক্রেতা ও পাইকারদের দরদাম। ছবি: আগামীর সময়
পাবনার ঈশ্বরদীর মুলাডুলি মৎস্য আড়তে প্রতিদিন গড়ে ২৫ থেকে ৩০ লাখ টাকার মাছ বেচাকেনা হয়। ভরা মৌসুমে বেচাকেনার পরিমাণ আরও বেড়ে যায়। ভোর হওয়ার আগেই মাছবোঝাই যানবাহনের দীর্ঘ সারি দেখা যায় মহাসড়কে। ভোরের আলো ফোটার সঙ্গে শুরু হয় বিক্রেতা ও পাইকারদের দরদাম।
কয়েক বছর আগে যাত্রা শুরু করা মুলাডুলি মৎস্য আড়তটি এরই মধ্যে এ অঞ্চলের বড় মাছের বাজার হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে। নদী, পুকুর ও বিলের তাজা মাছের পর্যাপ্ত জোগান থাকায় প্রতিদিন পাবনার ঈশ্বরদী, আটঘরিয়া, চাটমোহর ও ভাঙ্গুড়া এবং নাটোরের বড়াইগ্রাম ও লালপুরসহ কুষ্টিয়ার ভেড়ামারা উপজেলার কয়েকশ চাষি ও ব্যবসায়ী এখানে মাছ নিয়ে আসেন।
আড়তে রুই, কাতলা, চিতল, সিলভার কার্প, পাঙাশ, আইড়, বাইন, কালিবাউশ, পাবদা, কই, মাগুর, শিং, রিটা, শোল, কাচকি, টাকি ও পুঁটিসহ দেশি ও চাষের বিভিন্ন প্রজাতির মাছ পাওয়া যায়। ঢাকার পাশাপাশি সিলেট, রংপুর, খুলনাসহ দেশের বিভিন্ন জেলা ও বিভাগীয় শহরের পাইকারি ব্যবসায়ীরাও প্রতিদিন ভোরে মাছ কিনতে এখানে আসেন।
মুলাডুলি মৎস্য আড়তদার সমিতির সাধারণ সম্পাদক ইসমাঈল হোসেন জানিয়েছেন, আড়তটি গড়ে ওঠায় স্থানীয় চাষি ও ব্যবসায়ীরা বড় ধরনের সুবিধা পাচ্ছেন। শত শত মানুষের কর্মসংস্থানও হয়েছে। ভবিষ্যতে আড়তে মাছের আমদানি আরও বাড়াতে নানা উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
তবে ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, বর্ষাকালে আড়তে জলাবদ্ধতা তৈরি হয়। এ ছাড়া মহাসড়কে মাছ পরিবহনকারী যান চলাচলে হাইওয়ে পুলিশের নিষেধাজ্ঞার কারণে তাদের ভোগান্তিতে পড়তে হয়।
ঈশ্বরদী উপজেলা মৎস্য সম্প্রসারণ কর্মকর্তা ফাল্গুনী হামিদ জানিয়েছেন, মুলাডুলি উপজেলার সবচেয়ে বড় মৎস্য আড়ত। এখানে মাছ বিক্রির সুযোগ তৈরি হওয়ায় স্থানীয় চাষিদের পরিবহন খরচ কমেছে। সহজে উৎপাদিত মাছ বিক্রি করতে পারায় নতুন করে অনেকে মৎস্য চাষে আগ্রহী হচ্ছেন।
তবে প্রতিদিন বিপুল টাকার মাছের বেচাকেনা হলেও আড়তটিতে এখনো সনাতন পদ্ধতির দাঁড়িপাল্লায় মাছ ওজন করা হয়। ঈশ্বরদী উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা শাম্মি শিরীন আগামীর সময়কে জানিয়েছেন, চাষি ও ব্যবসায়ীদের স্বার্থ ও নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে আড়তদারদের চিঠি দিয়ে ডিজিটাল মিটার স্কেল ব্যবহারের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। খুব শিগগিরই আড়তটিতে ডিজিটাল স্কেলে মাছ ওজনের ব্যবস্থা চালু হবে।




