সোনারগাঁয়ে ছোট মাছের বড় বাজার
- বৈদ্যেরবাজারে প্রতিদিন ২৫ লাখ টাকার মাছ বিক্রি

কাকডাকা ভোরে মেঘনার দুই পাড়ে শুরু হয় ব্যস্ততা। নদীর ঢেউয়ের শব্দ ছাপিয়ে শোনা যায় জেলেদের হাঁকডাক, নৌকা ও ট্রলারের ইঞ্জিনের শব্দ। সূর্য ওঠার আগেই নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ উপজেলার বৈদ্যেরবাজার ঘাটে জমে ওঠে মিঠাপানির দেশীয় মাছের বাজার। স্থানীয়ভাবে ‘বৈদ্যেরবাজার ফিশারি ঘাট’ নামে পরিচিত এ বাজারটি ছোট মাছের বড় আড়ত হিসেবেও পরিচিত।
প্রতিদিন ভোররাত থেকে শুরু হয় মাছের কেনাবেচা। মেঘনা নদী ও আশপাশের বিভিন্ন এলাকা থেকে নৌকা-ট্রলারে করে মাছ নিয়ে আসেন জেলেরা। পরে নিলাম বা ডাকের মাধ্যমে সেসব মাছ কিনে নেন পাইকার ও ব্যবসায়ীরা। মাছ চলে যায় ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ, কুমিল্লা, আড়াইহাজারসহ বিভিন্ন এলাকার বাজারে।
সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, ভোরের আলো ফোটার আগেই ঘাটে মাছ নিয়ে আসতে শুরু করেন জেলেরা। কেউ নৌকা থেকে মাছ নামাচ্ছেন, কেউ নিলামে মাছ কেনার জন্য করছেন দরদাম। ক্রেতা-বিক্রেতার হাঁকডাক আর মাছের ঝুড়ি নিয়ে ছোটাছুটিতে সরগরম হয়ে ওঠে পুরো ঘাট।
এ বাজারে মেঘনার দেশীয় ছোট মাছের চাহিদাই বেশি। চিংড়ি, বাইম, পোয়া, কাজলি, কাচকি, মলা, টেংরা, পাবদা, মেনি, বাইলা, পুঁটি, কই, শিং, টেকচাঁদাসহ পাওয়া যায় নানা ধরনের মাছ। পাশাপাশি বিক্রি হয় রুই, কাতলা, আইড়, বাঘাইড়, ইলিশ, বোয়াল ও চিতলের মতো বড় মাছও।
ঢাকার মিরপুর থেকে মাছ কিনতে আসা সাফয়াত আলী বলেছেন, ‘আত্মীয়ের বাড়িতে বেড়াতে এসে এখান থেকে মাছ কিনতে এসেছি। বৈদ্যেরবাজারের মাছ খুবই তাজা ও সুস্বাদু। বিশেষ করে ছোট মাছ পরিবারের সবাই পছন্দ করেন।’
ঢাকার যাত্রাবাড়ীর পাইকারি মাছ বিক্রেতা খোকন জানিয়েছেন, মেঘনার ছোট মাছের চাহিদা ঢাকায় অনেক। আগেই মাছের অর্ডার দিয়ে রাখেন অনেক ক্রেতা। নিলামে মাছ কিনে তা পাঠানো হয় বিভিন্ন বাজারে।
বৈদ্যেরবাজার ঘাটের মাছ ব্যবসায়ী তপন সূত্রধর জানিয়েছেন, কুমিল্লার মেঘনা, আড়াইহাজার ও সোনারগাঁয়ের নুনেরটেকসহ বিভিন্ন এলাকার জেলেরা এখানে মাছ নিয়ে আসেন। তার দাবি, প্রতিদিন গড়ে প্রায় ২৫ লাখ টাকার ছোট-বড় মাছ বিক্রি হয় এই ঘাটে।
সোনারগাঁ উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা মাহমুদা আকতার বলেছেন, ‘বৈদ্যেরবাজারের মাছের খ্যাতি ঢাকাসহ আশপাশের এলাকায়ও ছড়িয়ে পড়েছে। বিশেষ করে মেঘনার ছোট মাছের চাহিদা বেশি। এখানকার জেলেদের সরকারিভাবে বিভিন্ন সহযোগিতা ও আর্থিক অনুদান দেওয়া হচ্ছে।’






