খাগড়াছড়ি
আধুনিক হাসপাতাল নিজেই রুগ্ণ

ছবি: আগামীর সময়
২৫০ শয্যার খাগড়াছড়ি আধুনিক জেলা হাসপাতাল নিজেই এখন রুগ্ণ অবস্থায় রয়েছে। পদায়নকৃত পদের বিপরীতে কর্মরত চিকিৎসক নেই, রোগীর বেডের সংকট, চিকিৎসার যন্ত্রপাতিও নেই। নামে আইসিসিইউ ইউনিট থাকলেও সেরকম সেবা নেই। এ অবস্থায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জোড়াতালি দিয়ে চিকিৎসাসেবা চালিয়ে যাচ্ছে।
খাগড়াছড়ি আধুনিক জেলা হাসপাতালটি ২০০৭ সালে ১০০ শয্যার হাসপাতালে উন্নীত করা হয়। পরে ২০২৩ সালে হাসপাতালটি ২৫০ শয্যায় উন্নীত করা হয়। প্রয়োজনীয় পদ সৃষ্টি করা হলেও ১০০ শয্যার জনবল দিয়েই বর্তমানে চিকিৎসাসেবা দেওয়া হচ্ছে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেল, ৮৪ জন চিকিৎসকের বিপরীতে বর্তমানে হাসপাতালটিতে কর্মরত মাত্র ২২ জন। তাদের মধ্যে চারজন চিকিৎসক বাইরের হাসপাতাল থেকে সংযুক্তিতে আছেন। হাসপাতালে ১৮টি বিভাগের মধ্যে চারটি বিভাগে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক রয়েছেন। বাকি ১৪ বিভাগে নেই বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক।
চারটি বিভাগের মধ্যে গাইনি বিভাগে দুই, কার্ডিওলজি বিভাগে তিন, অর্থোপেডিক বিভাগে দুই ও অ্যানেসথেসিয়া বিভাগে তিনজন কর্মরত। ২৫০ শয্যার হাসপাতালে প্রতিটি বিভাগে চারজন করে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক থাকার কথা।
সরেজমিন দেখা যায়, ১০০ শয্যার আবাসিক সিটের হাসপাতালে (নামে কিন্তু ২৫০ শয্যার হাসপাতাল) ২৪০ জন রোগী ভর্তি। অর্থোপেডিক ও সার্জারি ওয়ার্ডে ২৫ সিটের বিপরীতে ভর্তি ৯৫ জন। মেডিসিন ওয়ার্ডে ২৫ সিটের বিপরীতে ৫৩ জন, গাইনি ওয়ার্ডে ২০ সিটের বিপরীতে ৩৯ জন, শিশু ওয়ার্ডে ১৫ সিটের বিপরীতে ৩৯ জন ভর্তি রয়েছেন।
হাসপাতালে দায়িত্বশীল একাধিক সূত্র জানায়, জেলা পর্যায়ের হাসপাতালে ১০ শয্যার একটি ডায়ালাইসিস সেন্টার থাকার কথা থাকলেও খাগড়াছড়ি জেলা হাসপাতালে সেটি নেই। হাসপাতালের আল্ট্রাসনোগ্রামের মেশিনটি বহু বছরের পুরনো। সেটি দিয়ে এখন কাজ চললেও, জটিল বিষয়াদি এই যন্ত্র দিয়ে শনাক্ত সম্ভব হয় না।
এ ছাড়া খাগড়াছড়ির স্বাস্থ্য বিভাগ খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদের অধীনে ন্যস্ত। পার্বত্য জেলা পরিষদ স্বাস্থ্য বিভাগের কার্যক্রম তত্ত্বাবধান করে থাকে। তবে হাসপাতালের সেবা উন্নয়নসহ কিছু কিছু সমস্যার তাৎক্ষণিক সমাধান দেওয়া পার্বত্য জেলা পরিষদের পক্ষে সম্ভব; কিন্তু পার্বত্য জেলা পরিষদ কোনো ভূমিকাই রাখে না।
হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক ডা. রিপল বাপ্পি চাকমা বলছেন, ১০০ শয্যার হাসপাতালের ভবনে ২৫০ শয্যার হাসপাতালের কার্যক্রম চলছে। তাই রোগীর চাপ সবসময় বেশি।
রোগীর তুলনায় বেডের সংখ্যা কম। ফ্লোরে, বারান্দায় বেড বিছিয়ে চিকিৎসা করাতে হচ্ছে রোগীদের, যোগ করেন তিনি।




