৪০ লাখ পরিবার পাবে ফ্যামিলি কার্ড : শ্রীমঙ্গলে প্রধানমন্ত্রী

মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে বক্তব্য রাখছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, ছবি: আগামীর সময়
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বললেন, জনগণের কল্যাণে প্রণীত বাজেটকে ‘গণবিরোধী’ বা ‘চানাচুরের বাজেট’ হিসেবে আখ্যায়িত করা হলে তা জনস্বার্থের বিরুদ্ধে অবস্থান হিসেবে বিবেচিত হয়। জনগণের আস্থা অর্জনের জন্য জনকল্যাণমুখী রাজনীতি প্রয়োজন।
আজ বুধবার মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ বিতরণ কর্মসূচির উদ্বোধন অনুষ্ঠানে বিরোধী দলকে ইঙ্গিত করে তিনি এমন মন্তব্য করেন।
শ্রীমঙ্গলের ভিক্টোরিয়া উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
প্রধানমন্ত্রী বললেন, ‘যে বাজেটে ৬০টি পণ্যের ওপর থেকে শুল্ক প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়েছে, সে বাজেটকে একটি দল গণবিরোধী বাজেট বলেছে। জনগণের জন্য যে বাজেটে সব ব্যবস্থা রাখা হয়েছে, সেই বাজেটকে যারা গণবিরোধী বলে তারা কি কখনো জনগণের বন্ধু হতে পারে? তারা জনগণের বন্ধু হতে পারে না।’
দেশের কৃষক ও নিম্নআয়ের মানুষের জীবনমান উন্নয়নে সরকার ধারাবাহিকভাবে কাজ করে যাচ্ছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রীর ভাষ্য, ‘সম্প্রতি উত্থাপিত বাজেটে কৃষকদের জন্য বিশেষ বরাদ্দ রাখা হয়েছে। আগামী জুলাই থেকে এক বছরের মধ্যে দেশের ৪০ লাখ কৃষকের হাতে ‘কৃষক কার্ড’ দেওয়া হবে। এ সময়ে আরও ৪০ লাখ পরিবারের কাছে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ পৌঁছে দেওয়া হবে।’
তিনি বললেন, ‘দেশে প্রায় চার কোটি পরিবার। পর্যায়ক্রমে সব পরিবারের কাছে এই কার্ড পৌঁছে দেওয়ার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে পরিবারের নারী প্রধানদের হাতে এই কার্ড তুলে দেওয়ার উদ্যোগ রয়েছে।’
ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সব মানুষের শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান ও উন্নয়নের সুফল সবার কাছে পৌঁছে দেওয়ার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে তিনি জানালেন, ‘দেশের উন্নয়ন ত্বরান্বিত করতে নারী-পুরুষের সমান অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা জরুরি। নারীদের অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করার লক্ষ্যেই ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি চালু করা হয়েছে।’
চা-শ্রমিকদের জীবনমান উন্নয়নে নেওয়া বিভিন্ন উদ্যোগের কথা তুলে ধরে তিনি জানালেন, ‘চা বাগানের নারী শ্রমিকদের আবাসন সহায়তার অংশ হিসেবে ৫০ জনকে ২ লাখ টাকা করে অনুদান দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি চা শ্রমিকদের সন্তানদের জন্য ১৫০ জনকে শিক্ষা বৃত্তি এবং প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্য চিকিৎসা সহায়তা প্রদান করা হয়েছে।’
নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে চা শ্রমিকদের জন্য ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ কার্যক্রম শুরু হয়েছে, জানালেন তারেক রহমান।
বাজেট প্রসঙ্গে তিনি যোগ করেন, ‘স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও কৃষি খাতে বরাদ্দ বৃদ্ধি করা হয়েছে। উপজেলা পর্যায়ের হাসপাতালগুলো ৫০ শয্যা থেকে ১০০ শয্যায় উন্নীত করার জন্য অর্থ বরাদ্দ রাখা হয়েছে। দেশীয় শিল্প রক্ষায় আমদানি পণ্যের ওপর শুল্ক সমন্বয়ের মাধ্যমে স্থানীয় উৎপাদন ও কর্মসংস্থান বৃদ্ধির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।’
অনুষ্ঠানে মোট ১৫৫ জন উপকারভোগীর মধ্যে বিভিন্ন সহায়তা দেওয়া হয়। এর মধ্যে ১০ জনকে ফ্যামিলি কার্ড, ৫ জনকে ৫০ হাজার টাকা করে চিকিৎসা সহায়তা, ৫ জন ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর সদস্যকে ১০ হাজার টাকা করে সহায়তা, ৫ জন শিক্ষার্থীকে ১০ হাজার টাকা করে শিক্ষা সহায়তা, ১০০ জন অসহায় ও প্রতিবন্ধী ব্যক্তিকে ১০ হাজার টাকা করে অনুদান এবং ৫ জন চা শ্রমিককে ২ লাখ টাকা করে আবাসন সহায়তা প্রদান করা হয়।
অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন সমাজকল্যাণমন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন, প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমীন, মৌলভীবাজার-৪ আসনের সংসদ সদস্য মুজিবুর রহমান চৌধুরী এবং জেলা বিএনপির আহ্বায়ক ফয়জুল করিম ময়ূন।




