কাঙাল হরিনাথের ১৩০তম মৃত্যুবার্ষিকী সাদামাটা আয়োজনেই স্মরণ

কাঙাল হরিনাথের ১৩০তম মৃত্যুবার্ষিকী সাদামাটা আয়োজনেই স্মরণ
গ্রামীণ সাংবাদিকতার পথিকৃৎ, সমাজ সংস্কারক ও বাউল সাধক কাঙাল হরিনাথ মজুমদারের ১৩০তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ। ১৮৯৬ সালের ৫ বৈশাখ (১৩০৩ বঙ্গাব্দ) তিনি কুষ্টিয়ার কুমারখালীর কুণ্ডুপাড়ার নিজ বাসভবনে ত্যাগ করেন পৃথিবীর মায়া।
দিবসটি উপলক্ষে স্থানীয় পর্যায়ে সীমিত কর্মসূচি ছাড়া দেখা যায়নি উল্লেখযোগ্য কোনো রাষ্ট্রীয় বা প্রশাসনিক আয়োজন।
কাঙাল হরিনাথের মৃত্যুবার্ষিকীতে সীমিত আয়োজন ও প্রশাসনিক অনাগ্রহে স্থানীয় সাংস্কৃতিক অঙ্গনে দেখা দিয়েছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া।
আজ শনিবার দুপুরে কুমারখালী পৌরসভাসংলগ্ন কাঙাল হরিনাথ স্মৃতি জাদুঘরে গিয়ে দেখা যায় নীরব পরিবেশ। জাদুঘরের প্রধান ফটক ছিল বন্ধ। চত্বরের ভেতরে অবস্থিত তার ম্যুরালে কিছু ফুলের মালা দেখা গেলেও আনুষ্ঠানিক চোখে পড়েনি কোনো বড় আয়োজন।
স্থানীয় সাংবাদিক ও স্বজনদের অভিযোগ, কাঙাল হরিনাথকে ঘিরে দীর্ঘদিন ধরে নানা দাবি থাকলেও বাস্তবে তার স্মৃতি সংরক্ষণে নেওয়া হয়নি পর্যাপ্ত উদ্যোগ। এ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন তার বংশধর ও স্থানীয় সুধীসমাজ।
‘কাঙালের নাম ব্যবহার করে প্রতিষ্ঠিত হয়েছেন অনেকেই, কিন্তু তাকে দেওয়া হয়নি যথাযথ সম্মান। তার বাস্তুভিটা ও সমাধি অবহেলিত আজও।’ ক্ষোভ প্রকাশ করেন কাঙাল হরিনাথের চতুর্থ বংশধর অশোক মজুমদারের স্ত্রী গীতা রানী মজুমদার।
এদিকে স্থানীয় লেখক-কবি লিটন আব্বাসের অভিযোগ, ‘গুণীজনদের যথাযথ সম্মান না দিলে ইতিহাস ও সংস্কৃতির প্রতি করা হয় অবিচার।’
জাদুঘরের তত্ত্বাবধায়ক তাপস কুমার মণ্ডল জানান, সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রীর সময়সূচি না পাওয়ায় মূল অনুষ্ঠান স্থগিত করা হয়েছে কিছুদিনের জন্য। তবে সকালে করা হয়েছে পুষ্পস্তবক অর্পণ ও বৃক্ষরোপণের কর্মসূচি।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফারজানা আখতারও একই তথ্য নিশ্চিত করেন।
১৮৩৩ সালের ২২ জুলাই জন্মগ্রহণকারী কাঙাল হরিনাথ অত্যাচারিত কৃষক সমাজের পক্ষে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করেন সাংবাদিকতাকে। ১৮৬৩ সালে তিনি প্রকাশ করেন ‘গ্রামবার্তা প্রকাশিকা’ পত্রিকা। নীলকর ও জমিদারদের অত্যাচারের বিরুদ্ধে তার নির্ভীক সাংবাদিকতা প্রশংসিত হয় বিশেষভাবে।
তিনি শুধু সাংবাদিকই ছিলেন না, ছিলেন একজন সাহিত্যিক ও বাউল সাধকও। তার রচিত গান ‘হরি দিন তো গেল সন্ধ্যা হলো পার কর আমারে’ আজও জনপ্রিয়, যা ব্যবহৃত হয়েছে ‘পথের পাঁচালী’ চলচ্চিত্রেও। ১৮৭৩ সালে তিনি প্রতিষ্ঠা করেন ‘মথুরনাথ প্রেস’, যেখানে মুদ্রিত হতো সমকালীন গুরুত্বপূর্ণ সাহিত্যকর্ম।
বর্তমানে তার স্মৃতি রক্ষায় একটি জাদুঘর থাকলেও বাস্তুভিটা ও সমাধি সংরক্ষণের দাবি এখনো পূরণ হয়নি বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। সাংবাদিক সমাজের দাবি, তার নামে রাষ্ট্রীয় পদক প্রবর্তন এবং পাঠ্যপুস্তকে জীবনী অন্তর্ভুক্ত করা উচিত।



