ডিবি হেফাজতে থাকা আসামির ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার

আসাদের মরদেহ উদ্ধার করে বগুড়ার মোহাম্মদ আলী হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। ছবি: আগামীর সময়
বগুড়ায় ডিবি হেফাজতে থাকা হত্যা মামলার এক আসামির ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার হয়েছে। আজ রবিবার সকাল ১০টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।
ডিবি পুলিশ জানিয়েছে, বগুড়া কার্যালয়ের টয়লেটে ফাঁস দেওয়া অবস্থায় ওই আসামির মরদেহ উদ্ধার করা হয়। গলায় পেঁচানো ছিল নিজের লুঙ্গি। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার হোসাইন মুহাম্মদ রায়হান এসব নিশ্চিত করেছেন।
মৃত আসামির নাম মো. আসাদ (২৫)। তার বাড়ি সারিয়াকান্দির জোড়গাছা মধ্য উত্তর পাড়ায়। গতকাল শনিবার দুপুরে বগুড়া রেলস্টেশন থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
ডিবি পুলিশ জানাচ্ছে, গত ২৯ জুন সারিয়াকান্দির দড়িপাড়া এলাকায় আব্দুল মান্নান নামে এক অটোরিকশা চালকের মরদেহ উদ্ধার হয়। তার অটোটি কোথাও পাওয়া যায়নি। গত পয়লা জুলাই ওই ঘটনায় হত্যা মামলা করে নিহতের পরিবার।
সেই মামলার তদন্তে আসাদের সম্পৃক্ততা পেয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয় বলে জানায় পুলিশ। তিনি দায় স্বীকার করেছিলেন বলেও দাবি ডিবির। তাকে আজ আদালতে তোলার কথা ছিল।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জানান, সকালে নাস্তার পর টয়লেটে গিয়ে বের না হওয়ায় সন্দেহ হয় ডিবি পুলিশের। পরে দরজা ভেঙে তাকে ভেন্টিলেটরের সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় পাওয়া যায়। মোহাম্মদ আলী হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক আসাদকে মৃত ঘোষণা করেন।
মৃতের গলায় ফাঁসের দাগ ছাড়া শরীরের আর কোনো আঘাতের চিহ্ন নেই বলে জানান হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা রাশেদুল ইসলাম রনি।
সাম্প্রতিক সময়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হেফাজতে মৃত্যুর ঘটনায় উদ্বেগ জানিয়েছে বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থা।
মানবাধিকার সাংস্কৃতিক ফাউন্ডেশন, এমএসএফ- এর তথ্য- ২০২৪ সালের আগস্ট থেকে এ পর্যন্ত নিরাপত্তা হেফাজতে মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে ২৫৭টি। এর মধ্যে পুলিশ হেফাজতে ৩০ জন এবং কারা হেফাজতে ২২৭ জন মারা গেছেন।
আইন ও সালিশ কেন্দ্রের (আসক) হিসাবে, ২০২৪ সালের আগস্ট থেকে এখন পর্যন্ত পুলিশ ও কারা হেফাজতে মারা গেছেন ২১২ জন। এর মধ্যে পুলিশ হেফাজতে ২২ জন, আর কারা হেফাজতে মারা গেছেন ১৯০ জন।
আরেক সংগঠন হিউম্যান রাইটস সাপোর্ট সোসাইটির (এইচআরএসএস) হিসাব বলছে, একই সময়ে কারা ও পুলিশ হেফাজতে মোট মৃত্যুর সংখ্যা ২৪৩।






