লবলং খাল
কাগজের নৌকা ভাসিয়ে প্রতিবাদ জানালেন পরিবেশকর্মীরা

ছবি: আগামীর সময়
‘নদী বাঁচলে বাঁচবে প্রকৃতি, আর প্রকৃতি বাঁচলে টিকে থাকবে মানুষ' এই স্লোগানে লবলং খাল তীরে ব্যতিক্রমী এক আয়োজনে পালিত হয়েছে বিশ্ব পরিবেশ দিবস।
আজ শনিবার দুপুর ১২টায় দখল দূষণে মৃতপ্রায় এই খালে প্রতীকী কাগজের নৌকা ভাসিয়ে এ কর্মসূচি পালন করা হয়। এতে অংশ নেন পরিবেশবাদী সংগঠনের নেতাকর্মী, শিক্ষক, শিক্ষার্থী, শিশু-কিশোর ও স্থানীয় লোকজন।
বাংলাদেশ নদী পরিব্রাজক দল শ্রীপুর শাখা, নদী ও প্রকৃতি ফাউন্ডেশন এবং সচেতন নাগরিক সমাজের যৌথ উদ্যোগে আয়োজন করা হয় এই কর্মসূচি। নদী দখল, দূষণ ও অপরিকল্পিত বর্জ্য ব্যবস্থাপনার বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করলেন অংশগ্রহণকারীরা। এ সময় তাদের হাতে ছিল নদী ও পরিবেশ রক্ষা সম্পর্কিত বিভিন্ন ব্যানার।
লবলং নদীর বর্তমান করুণ চিত্র তুলে ধরলেন বক্তারা। তাদের দাবি, একসময় যে নদীর পানি কৃষিকাজ ও গৃহস্থালির কাজে ব্যবহার করা হতো, আজ তা শিল্পবর্জ্য ও ময়লা-আবর্জনায় দূষিত হয়ে পরিণত হয়েছে কালো ও দুর্গন্ধময় জলাশয়ে।
সমাবেশ শেষে লবলং নদীর পানিতে প্রতীকী কাগজের নৌকা ভাসালেন পরিবেশকর্মীরা। তাদের ভাষ্য, এটি শুধু একটি প্রতীক নয়, বরং নদীকে তার হারানো প্রাণ ফিরিয়ে দেওয়ার দাবির বহিঃপ্রকাশ।
নদী ও পরিবেশ রক্ষায় দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলন, মানববন্ধন ও সচেতনতামূলক কার্যক্রম চালিয়েও কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন আসছে না। তবুও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের স্বার্থে এই আন্দোলন অব্যাহত রাখার কথা জানালেন নদী পরিব্রাজক দল শ্রীপুর শাখার সভাপতি সাঈদ চৌধুরী।
লবলং নদীসহ দেশের সব নদ-নদীকে সময়ের পরিক্রমায় দখল ও দূষণমুক্ত করার প্রত্যাশা নদী ও প্রকৃতি ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান খোরশেদ আলমের।
লবণদহ সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক শাফি কামাল বললেন, লবণদহ নদীকে ঘিরে একসময় গড়ে উঠেছিল জনজীবন ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড। নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ ফিরিয়ে এনে নৌপথ চালুর জন্য নিতে হবে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা। একই সঙ্গে নদীর তীরে বর্জ্য ফেলা বন্ধে নিশ্চিত করতে হবে কঠোর নজরদারি।




