বোধ হয়

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
ঘড়ির কাঁটায় রাত দেড়টা। সাল ২০৪০। নির্ঘুম চোখ। হঠাৎ মনে হলো কিছু একটা খেতে হবে। সঙ্গে সঙ্গে ফ্রিজের দরজা খুলে হালকা খাবারের খোঁজে সেখানে দাঁড়াতেই উচ্চ স্বরে ফ্রিজ নিজেই বলে উঠল, ‘এ সময়ে খাওয়ার মতো কোনো খাবার আমার স্টকে নেই। ‘পরক্ষণেই ঘড়ি থেকে কর্কশ আওয়াজ, ‘এখন ঘুমানোর সময়! এত রাতে জেগে থাকা শরীরের জন্য খারাপ!’ কী অদ্ভুত কাণ্ড! যন্ত্রপাতিও কথা বলছে মানুষের সঙ্গে—আজকের দিনের কাল্পনিক এ দৃশ্যটিই নাকি জলজ্যান্ত বাস্তব হয়ে উঠবে ২০৪০ সালের পৃথিবীতে। চলতি মাসের ১৫ তারিখেই নিজের ওয়েবসাইট ‘ফিউচারিস্ট স্পিকার থমাস ফ্রে’তে এ ভবিষ্যদ্বাণী করেছেন মার্কিন ভবিষ্যৎবিদ ও লেখক থমাস ফ্রে।
ঘরের আসবাব থেকে শুরু করে ইলেকট্রিক যন্ত্রপাতি— সবই কথা বলা শুরু করবে সে সময়। শুধু তাই না, নিজের মতামত আর আবেগ দিয়ে মালিকের সঙ্গে আলোচনাও করবে নানা বিষয়ে! ফ্রের মতে বছরের পর বছর হাজারো যন্ত্রপাতি মানুষের জন্য কাজ করে যায়। কিন্তু এগুলোর একটিও কখনো নিজের সমস্যার কথা মুখ ফুটে বলে না। এক দিনের মধ্যে নবমবারের মতো ফ্রিজের দরজা খোলা রেখে আসার পরেও ফ্রিজটি কখনোই শব্দ করে দীর্ঘশ্বাস ফেলে না বা বইয়ের তাক কখনোই চিৎকার করে বলে না— ‘সেখানে ১৫টি নতুন বই জমা হয়েছে, ঘরের মালিকের দ্রুত পড়া দরকার’। কিন্তু ভবিষ্যতে আর এমন থাকবে না। তখন মানুষের পাশাপাশি ঘরের খুঁটিনাটি সবকিছুরই থাকবে নিজের মতামত আর চিন্তাধারা প্রকাশের ভিন্ন ভিন্ন উপায়। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার এ বিশেষ প্রযুক্তির নাম ফ্রে দিয়েছেন, ‘পার্সোনালিটি ডিজাইন।’ তবে আগামী বছরগুলোয় সবাই যে এ প্রযুক্তির ভক্ত হবে— এমনটাও তিনি বিশ্বাস করেন না। তার মতে কোনো ব্যক্তির একাকিত্ব দূর করতে এসব যন্ত্রপাতির সঙ্গে কথোপকথন কার্যকরী বলে গণ্য হতে পারে। আবার প্রাণহীন বস্তুর কথা শুনতে শুনতে অনেকে বিরক্ত হতে পারে বলেও জানিয়েছেন তিনি।
যুক্তরাষ্ট্রের রিয়েল এস্টেট মার্কেটপ্লেসের সঙ্গে একটি সাক্ষাৎকারে এলজিতে কর্মরত পিটার ভোসার জানিয়েছেন, ‘যন্ত্রগুলো আপনি কী করছেন তা পর্যবেক্ষণ করছে না। বরং হয়ে উঠছে আপনার জীবনের অংশ।’




