পুঠিয়ায় মাদকের রমরমা কারবার, নজরদারি নিয়ে প্রশ্ন

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
রাজশাহীর পুঠিয়ায় পাড়া-মহল্লায় ছড়িয়ে পড়ছে মাদকের কারবার। গাঁজা, ইয়াবা, ফেনসিডিল ও হেরোইনের পাশাপাশি আইস ও ট্যাপেন্টাডল কেনাবেচার অভিযোগও রয়েছে। এতে কিশোর-যুবকদের জড়িয়ে পড়া নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে স্থানীয়দের।
সম্প্রতি বিভিন্ন এলাকা ঘুরে এসব তথ্য পাওয়া যায়।
থানা পুলিশ ও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য মতে, উপজেলায় চিহ্নিত মাদক কারবারির সংখ্যা দুই শতাধিক বলে স্থানীয়ভাবে দাবি করা হলেও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের তালিকায় রয়েছেন ২২ জন।
অন্যদিকে পুঠিয়া থানার ওসি জানিয়েছেন, পুলিশের কাছে সুনির্দিষ্ট কোনো মাদক কারবারির তালিকা নেই। ফলে প্রকৃত সংখ্যা ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজরদারি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, পুঠিয়া উপজেলা সদর, বানেশ্বর পূর্বপাড়া, মিস্ত্রিপাড়া, নামাজগ্রাম, খুটিপাড়া, গরুহাটা, শিবপুরহাট, বিড়ালদহ, বেলপুকুর, জামিরা ও ভড়ুয়াপাড়াসহ বিভিন্ন এলাকায় মাদকের কারবার চলছে। বহিরাগত কয়েকজন পরিবার নিয়ে ভাড়া বাসায় থেকে মাদক ব্যবসা পরিচালনা করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের আরও অভিযোগ, অর্থের প্রলোভনে বেকার ও কিশোর-যুবকদের ব্যবহার করে বিভিন্ন এলাকায় মাদক সরবরাহ করা হচ্ছে। স্থানীয় প্রভাবশালী ব্যক্তি ও জনপ্রতিনিধিদের একটি অংশের সহযোগিতার অভিযোগও রয়েছে। তবে এসব অভিযোগের স্বাধীন সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের বানেশ্বর বাজার (খ) শাখার ইনচার্জ হেলাল উদ্দিন বলেছেন, ‘পুঠিয়া উপজেলায় বর্তমানে ২২ জন মাদক ব্যবসায়ীর তালিকা রয়েছে। প্রতি মাসেই নতুন নাম যুক্ত করা হয়। নিয়মিত অভিযান ও মামলা করা হচ্ছে।’
জনবল সংকটের কারণে সবসময় অফিস খোলা রাখা সম্ভব হয় না বলেও জানান তিনি।
পুঠিয়া থানার ওসি ফরিদুল ইসলাম বলেন, ‘মাদকের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান চলছে। আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।’ তার দাবি, থানার কাছে সুনির্দিষ্ট কোনো মাদক স্পট বা ব্যবসায়ীর তালিকা নেই।
এদিকে স্থানীয়ভাবে দুই শতাধিক কারবারির দাবি, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের তালিকায় ২২ জন এবং পুলিশের কাছে কোনো তালিকা না থাকার তথ্যে প্রশ্ন উঠেছে পুঠিয়ায় মাদক কারবারির প্রকৃত সংখ্যা কত এবং চিহ্নিতদের বিরুদ্ধে কতটা কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে?
স্থানীয়দের দাবি, বিচ্ছিন্ন অভিযানের পাশাপাশি নিয়মিত নজরদারি, চিহ্নিত কারবারিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা এবং পুলিশ ও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের সমন্বিত তৎপরতা বাড়াতে হবে।




